জনমানুষের খুব কাছে আইনমন্ত্রী: শৈলকুপার উন্নয়নে নতুন পথচলা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হতে মাঠে নেমেছেন। রাজনীতির মূল শক্তি যে সাধারণ মানুষ, তা প্রমাণ করতেই তিনি বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছেন গ্রামের মেঠোপথে। নির্বাচনের পর পর সাধারণত বিজয় উদযাপনের আমেজ থাকলেও আসাদুজ্জামান বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়ে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

শৈলকুপার প্রকৃতিতে সেদিন ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির আনাগোনা। কিন্তু সেই প্রতিকূলতা জনস্রোতকে আটকাতে পারেনি। হাকিমপুর ইউনিয়নের খুলুমবাড়িয়া, শহীদনগর এবং সাধুহাটি বাজারে আয়োজিত পৃথক তিনটি সভায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ১০০% মানুষ এই সভায় যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন, কারণ তারা তাদের মনের কথাগুলো সরাসরি মন্ত্রীকে বলার সুযোগ পাচ্ছিলেন। আইনমন্ত্রী নিজে ছাতা মাথায় দিয়ে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যান এবং প্রত্যেকের কথা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন। তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে এই নিবিড় যোগাযোগ শৈলকুপার ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। এই কর্মসূচি কেবল একটি সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছিল সাধারণ জনগণের প্রাণের মেলা।

হাকিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভাগুলোতে স্থানীয় জনগণ এলাকার নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। কেউ বলেছেন ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের কথা, কেউবা জানিয়েছেন কৃষি ক্ষেত্রে সেচের সমস্যার কথা। এলাকার প্রায় ৬০% মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তাই সারে ভর্তুকি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি ছিল অগ্রগণ্য। গ্রামবাসী মন্ত্রীকে জানান যে, গত কয়েক বছরে তাদের ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আইনমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বাজেট হাতে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি সমপরিমাণের উন্নয়ন বরাদ্দ আনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় ভেদাভেদ থাকবে না।

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, “আপনারা আমাকে যে বিশ্বাস নিয়ে ভোট দিয়েছেন, আমি তার মর্যাদা রক্ষা করতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো শৈলকুপাকে বাংলাদেশের অন্যতম মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা।” তিনি আরও জানান যে, এলাকার শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে তিনি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিচ্ছেন, যেখানে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে অন্তত ২০% তরুণকে স্বাবলম্বী করা হবে। মন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি মানুষের কাছে সেব পৌঁছে দেওয়াই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সভা আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ততাই হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।

উক্ত সভাগুলোতে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তারা মন্ত্রীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করেন, নির্বাচনের পর এভাবে দ্রুত জনমানুষের কাছে ফিরে আসা আসাদুজ্জামানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সভায় উপস্থিত এক বৃদ্ধ কৃষক বলেন, “আমরা তো ভোট দেওয়ার পর মন্ত্রী-এমপিদের দেখা পাই না, কিন্তু আসাদুজ্জামান সাহেব বৃষ্টির দিনে আমাদের বাজারে এসে কথা শুনছেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া।” জনসভার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মন্ত্রী কথা বলেন এবং সাধুহাটি বাজারের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সৌর বিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতির প্রতিশ্রুতি দেন।

উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ এই আয়োজন সফল করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তারা মনে করেন, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হয়। আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ দিকে আগামী দিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন। তিনি জানান, আগামী ১২ মাসের মধ্যে হাকিমপুর ইউনিয়নের অন্তত ৮০% অসমাপ্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে তিনি কড়া নির্দেশ দেন যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। সরকারি সেবা যাতে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি একটি মনিটরিং সেল গঠনের কথাও ভাবছেন।

মতবিনিময় সভা শেষে আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এলাকার শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তার এই সফর শৈলকুপার রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, উন্নয়ন কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তবসম্মতভাবেই তাদের দ্বারে কড়া নাড়বে। বৃষ্টির কারণে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া মেঠোপথ দিয়ে যখন মন্ত্রীর গাড়ি বহর ফিরে যাচ্ছিল, তখন রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের চোখে ছিল আগামীর এক উজ্জ্বল শৈলকুপার স্বপ্ন। এই সফর প্রমাণ করে যে, জনপ্রতিনিধি যদি আন্তরিক হন, তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা মোটেও অসম্ভব নয়।

ঝিনাইদহ-১ আসনের এই উন্নয়ন যাত্রায় আসাদুজ্জামান কেবল একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। আগামী দিনগুলোতে তার এই ধারাবাহিক জনসম্পৃক্ততা ঝিনাইদহের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানচিত্রকে বদলে দেবে বলে স্থানীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। শৈলকুপার প্রতিটি মানুষ এখন এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় আছে, যেখানে থাকবে না কোনো বঞ্চনা, কেবল থাকবে উন্নয়ন আর মানুষের জয়গান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ