শৈলকুপায় বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনে ফিজিবিলিটি টিমের স্থান পরিদর্শন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে এবং তাদের সঠিক পরিচর্যা করতে সরকার বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি-এর কার্যক্রম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপায় বিকেএসপি-এর একটি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জায়গা বাছাই করতে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে একটি উচ্চপর্যায়ের ফিজিবিলিটি টিম বা সম্ভাব্যতা যাচাইকারী দল শৈলকুপার সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা এমন একটি উন্নত ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখছিলেন, এবার হয়তো তাদের সেই স্বপ্ন সত্যিই পূরণ হতে চলেছে।

পরিদর্শনকারী এই তিন সদস্যের ফিজিবিলিটি টিমের সরাসরি নেতৃত্ব দেন বিকেএসপির বর্তমান পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল গোলাম মাবুদ হাসান। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কার্যক্রমটি সঠিকভাবে সমন্বয় করার জন্য সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব বা এপিএস সোহেল রানা। তারা প্রথমেই উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন এলাকার মোহাম্মদপুর আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন বিশাল সরকারি জমিটি ঘুরে দেখেন। টিমের সদস্যরা জমির মাটি, আশপাশের পরিবেশ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন।

টিমের সদস্যরা মোহাম্মদপুর আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন এই সম্ভাব্য স্থানটি ঘুরে দেখে প্রাথমিকভাবে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপি কেন্দ্র তৈরি করতে যে পরিমাণ বিশাল জায়গার প্রয়োজন হয়, এখানে ঠিক ততটাই পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি রয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই জায়গাটি সরাসরি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত। ফলে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত চমৎকার ও সুবিধাজনক। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়রা খুব সহজেই এবং কম সময়ে এখানে যাতায়াত করতে পারবেন। এসব বাস্তব দিক বিবেচনা করে ফিজিবিলিটি টিম স্থানটিকে বিকেএসপির আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জন্য ১০০% উপযোগী বলে মনে করছেন।

সরকার বর্তমানে দেশের ক্রীড়া খাতকে ঢেলে সাজাতে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করছে। আধুনিক এই বিকেএসপি কেন্দ্রটি তৈরি করতে প্রায় ২ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার ($) বা কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই বিশাল বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি সাফল্য ছিনিয়ে আনা। তরুণরা যদি খেলাধুলার মতো সঠিক পথে থাকে, তবে সমাজ থেকে অন্তত ৪০% অপরাধ ও মাদকাসক্তি এমনিতেই কমে যাবে। তাই এই প্রকল্প এলাকার সামাজিক পরিবেশও বদলে দেবে।

তবে ফিজিবিলিটি টিম শুধু একটি জায়গা দেখেই তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা বিকল্প হিসেবে একই দিনে মহাসড়কের পাশে থাকা বড়দা এলাকা এবং উমেদপুর ইউনিয়নের রয়েড়া বাজার এলাকায় আরও দুটি সম্ভাব্য স্থান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিদর্শন করে। এই তিনটি জায়গার মধ্যে যেটির ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশ বিকেএসপির জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী হবে, শেষ পর্যন্ত সেখানেই এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও ফিজিবিলিটি টিমের সাথে ছিলেন। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান সেখানে উপস্থিত থেকে টিমকে জমির ম্যাপ ও নানা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন। তাদের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা সরকারের এই চমৎকার উদ্যোগকে মন থেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

তারা মনে করেন, শৈলকুপায় বিকেএসপি স্থাপিত হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলার দক্ষতা ১০০% বাড়বে। একই সাথে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও দারুণ গতি আসবে এবং অনেক বেকার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য এখন শুধু জমি অধিগ্রহণের কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। এলাকার মানুষ গভীরভাবে আশা করছেন, ফিজিবিলিটি টিমের ইতিবাচক রিপোর্টের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করে মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ