বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের কাছে অভাব, খরা আর দারিদ্র্যের সমার্থক শব্দ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের চেহারা অনেক বদলে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, নব্বইয়ের দশকে যেখানে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত, সেখানে বর্তমান সময়ে সেই হার অনেকটাই কমে এসেছে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন। সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য নানা ধরনের নীতি, পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কিন্তু খবরের কাগজের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে যখন আমরা বাস্তবের রাস্তায় নামি, তখন কি সত্যিই দারিদ্র্য কমার সেই উজ্জ্বল চিত্র দেখতে পাই? বর্তমানে বাজারের যে আগুন দাম, জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যে নাভিশ্বাস উঠছে, তাতে একটি বড় প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়—দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান নীতিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে? জিডিপি (GDP) বা মাথাপিছু আয়ের বড় বড় সংখ্যার নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে না তো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কান্না? করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং দেশের ভেতরের লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে আমাদের দারিদ্র্য বিমোচনের নীতিগুলো এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এই নীতিগুলোর কার্যকারিতা, এর পেছনের ফাঁকফোকর এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রকৃত প্রভাব নিয়ে আজ একটি বিস্তারিত ও সহজবোধ্য বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান দারিদ্র্য পরিস্থিতি: একটি বাস্তব চিত্র
সরকারের নীতিগুলো কতটা কাজ করছে, তা বোঝার আগে আমাদের বর্তমান দারিদ্র্যের আসল চেহারাটা একটু বুঝতে হবে।
সরকারি পরিসংখ্যান বনাম সাধারণ মানুষের বাস্তবতা
সরকারি হিসাবে দেশে দারিদ্র্যের হার এখন ১৮ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের কাছাকাছি। খাতা-কলমে এই হিসাব খুব সুন্দর। কিন্তু বাস্তবে দারিদ্র্যের সংজ্ঞা শুধু দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করে না। একজন মানুষ তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে কি না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, বা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে কি না এসবই দারিদ্র্যের মাপকাঠি। বর্তমানে বাজারে চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজির যে দাম, তাতে সরকারি হিসাবে যে ব্যক্তি ‘দরিদ্র নন’, তিনিও বাস্তবে মাসের পনেরো দিন পার হওয়ার পর ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
‘নতুন দরিদ্র’ বা নিউ পুওর শ্রেণির উত্থান
গত কয়েক বছরে সমাজে একটি নতুন শ্রেণির জন্ম হয়েছে, যাদের অর্থনীতিবিদরা বলছেন ‘নতুন দরিদ্র’ বা নিউ পুওর। এরা আগে দরিদ্র ছিলেন না, ছোটখাটো চাকরি বা ব্যবসা করে ভালোই ছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির ধাক্কায় এবং পরবর্তীতে লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে এরা নিজেদের সঞ্চয় হারিয়েছেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এই মানুষগুলো লোকলজ্জার ভয়ে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে পারেন না, আবার বর্তমান আয়ে সংসারও চালাতে পারেন না। বর্তমান দারিদ্র্য বিমোচন নীতিগুলোতে এই ‘নতুন দরিদ্র’ শ্রেণির জন্য তেমন কোনো সুস্পষ্ট বা কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের বর্তমান নীতি ও কর্মসূচি
দেশের গরিব মানুষকে সাহায্য করার জন্য এবং দারিদ্র্য দূর করার জন্য সরকারের বেশ কিছু প্রশংসনীয় নীতি ও কর্মসূচি রয়েছে। এগুলো মূলত কীভাবে কাজ করে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Nets)
দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচি। প্রতি বছর বাজেটে এর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া গরিব মানুষের জন্য খোলাবাজারে কম দামে পণ্য বিক্রি (ওএমএস), টিসিবির (TCB) ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিডি (VGD) ও ভিজিএফ (VGF) কার্ডের মাধ্যমে চাল বা গম বিতরণের মতো কর্মসূচি চালু রয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গৃহহীনদের ঘর প্রদান
“বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না”—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে সরকার লাখ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে বিনামূল্যে সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। এটি দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম বড় একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ। একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলে একজন দরিদ্র মানুষের জীবনযাপনের মান অনেকখানি বেড়ে যায় এবং সে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।
ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প
সরকারি বিভিন্ন ব্যাংক (যেমন কর্মসংস্থান ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক) এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ (বর্তমানে আমার বাড়ি আমার খামার) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা এবং ক্ষুদ্র আয়ের পথ তৈরি করে দেওয়ার নীতি চালু রয়েছে।
নীতিগুলো কতটা কার্যকর? বাস্তবতার নিরিখে বিশ্লেষণ
সরকারের এই নীতি ও কর্মসূচিগুলো শুনতে খুব ভালো লাগলেও, মাঠপর্যায়ে বা বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।
মূল্যস্ফীতির কশাঘাত ও ভাতার নগণ্য পরিমাণ
বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার আওতায় একজন মানুষ মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পেয়ে থাকেন। আজ থেকে দশ বছর আগে এই ৫০০ টাকার হয়তো কিছুটা মূল্য ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে যখন এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা, এক কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা এবং সাধারণ ওষুধের দামও আকাশছোঁয়া, তখন মাসে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে একজন বয়স্ক মানুষ কী করবেন? এই সামান্য টাকা দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন তো দূরের কথা, কয়েক দিনের খাবারও জোটে না। নীতিমালায় ভাতার পরিমাণ বর্তমান বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় এটি দারিদ্র্য দূর করতে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সুশাসনের অভাব
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো দুর্নীতি এবং সঠিক মানুষ নির্বাচন করতে না পারা। গ্রামের দিকে গেলে দেখা যায়, অনেক সময় যিনি প্রকৃত গরিব, যার ভাত জোটে না, তিনি বয়স্ক ভাতা বা ভিজিএফ কার্ড পান না। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজন বা রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সচ্ছল ব্যক্তিরা এই কার্ডের সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (যেমন- বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করায় টাকা চুরি কিছুটা কমেছে, কিন্তু সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি রয়ে গেছে, তা দারিদ্র্য বিমোচনের মূল লক্ষ্যকেই বাধাগ্রস্ত করছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যয়ের বিশাল বোঝা
দারিদ্র্য বিমোচনের নীতিগুলো মূলত খাবার বা ভাতার দিকেই বেশি ফোকাস করে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক পরিবার রাতারাতি গরিব হয়ে যায় শুধুমাত্র চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফ্রি চিকিৎসার কথা বলা হলেও, বাস্তবে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ভালো চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশাল অঙ্কের টাকা পকেট থেকে খরচ করতে হয়। একটি পরিবার হয়তো দারিদ্র্যসীমা থেকে একটু ওপরে উঠেছিল, কিন্তু পরিবারের কেউ বড় কোনো রোগে আক্রান্ত হলে জমি বা গরু বিক্রি করে তাদের আবার চরম দারিদ্র্যের মাঝে ফিরে যেতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি নীতির এই দুর্বলতা দারিদ্র্য বিমোচনকে টেকসই হতে দিচ্ছে না।
কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্য বৃদ্ধি
একটি দেশের দারিদ্র্য দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নতুন কর্মসংস্থান বা চাকরি তৈরি করা। সরকার মেগা প্রকল্প করছে, জিডিপি বাড়ছে, কিন্তু একে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি। লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ বেকার বসে আছে। কারিগরি শিক্ষার অভাব এবং নতুন শিল্পকারখানা তৈরি না হওয়ায় মানুষ কাজ পাচ্ছে না। শুধু ভাতা দিয়ে বা ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য দূর করা যায় না। মানুষের একটি স্থায়ী আয়ের উৎস প্রয়োজন। অন্যদিকে দেশে ধনী ও গরিবের বৈষম্য হু হু করে বাড়ছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে দেশের সব সম্পদ আটকে যাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে।
নীতিগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে করণীয়
দারিদ্র্য বিমোচন নীতিগুলোকে যদি সত্যিই সাধারণ মানুষের উপকারে লাগাতে হয়, তবে শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা করলেই হবে না, এর বাস্তবমুখী সংস্কার প্রয়োজন।
ভাতার পরিমাণ ও পরিধি বৃদ্ধি
বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার পরিমাণ বাস্তবসম্মত করতে হবে। মাসে ৫০০ টাকার বদলে এটিকে অন্তত ২ হাজার বা ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে। সেই সাথে টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রির পরিধি শুধু শহরে নয়, গ্রামের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বাড়াতে হবে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ অন্তত খেয়েপরে বাঁচতে পারে।
সুবিধাভোগী নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা
ভাতা বা কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনতে হবে। ডিজিটাল ডাটাবেজ বা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত গরিব মানুষদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে হবে। যারা দুর্নীতি করবে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্মমুখী শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান
ত্রাণ বা ভাতা মানুষের সাময়িক কষ্ট দূর করে, কিন্তু দারিদ্র্য থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন কর্মসংস্থান। তরুণদের শুধু মুখস্থবিদ্যা নির্ভর শিক্ষা না দিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (Vocational training) দিতে হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, আইটি এবং কুটির শিল্প খাতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
বাজারে যদি আগুন থাকে, তবে সরকারের কোনো দারিদ্র্য বিমোচন নীতিই কাজে আসবে না। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। কৃষকরা যাতে সরাসরি তাদের পণ্যের ন্যায্য দাম পায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে মুনাফা লুটতে না পারে, সে জন্য কঠোর বাজার তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে যে উন্নতি করেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো নীতিগুলো অসংখ্য অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। কিন্তু “বর্তমান নীতিগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে?” এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের মানতেই হবে যে, বর্তমান সময়ের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সুশাসনের অভাবের কারণে এই নীতিগুলোর ধার অনেকটাই কমে গেছে।
একটি দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের আসল চিত্র জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে থাকে না, থাকে সে দেশের সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতে। শুধু কিছু ভাতা বা কার্ড বিতরণ করে একটি জাতিকে দারিদ্র্যমুক্ত করা যায় না। সত্যিকারের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রয়োজন কর্মসংস্থান, সুলভ মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং দ্রব্যমূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ। বর্তমান নীতিগুলোকে যদি দুর্নীতিমুক্ত করে যুগের চাহিদানুযায়ী ঢেলে সাজানো যায় এবং ধনবৈষম্য কমানোর দিকে নজর দেওয়া হয়, তবেই এই নীতিগুলো সত্যিকার অর্থে কার্যকর হবে। অন্যথায়, খাতায়-কলমে দারিদ্র্য কমলেও, সাধারণ মানুষের জীবনের প্রাত্যহিক কষ্ট আর অভাবের আর্তনাদ কখনোই থামবে না। একটি সুখী, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে দারিদ্র্য বিমোচনের নীতিগুলোকে আরও মানবিক, বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী করার এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।













