ঝিনাইদহের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন মাঠে কাজ করা কৃষকেরা। পরিবারের ভরণপোষণ ও কষ্টে ফলানো ফসল রক্ষার তাগিদে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাঠে থাকতে গিয়েই অনেক কৃষক অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ জেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিগুলোতে বজ্র নিরোধক দণ্ড বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের মতো কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই।
কালো মেঘের ঘনঘটা আর দমকা হাওয়া শুরু হলেই এখন ঝিনাইদহের মাঠে-ঘাটে কাজ করা কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতের সহজ শিকার হচ্ছেন তারা। গতকাল সোমবার (১৮ মে ২০২৬) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আসাদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কুষ্টিয়া থেকে ধান কাটতে এসেছিলেন। একই দিন শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামে আম কুড়াতে গিয়ে আন্না খাতুন (৪৮) নামে এক গৃহিণীরও বজ্রপাতে মৃত্যু হয়। এই দুটি ঘটনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে আরও অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ মার্চ শৈলকুপা উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামের মাঠে পেঁয়াজ তোলার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় আহত হয়েছিলেন আরও চারজন। পরের দিনও একই উপজেলায় বজ্রপাতে আরও তিনজন আহত হন। এরপর গত ১৬ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান এক নারী।
প্রতি বছরই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। তবে এত প্রাণহানির পরও কৃষকদের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কোনো বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়নি, এমনকি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রও নির্মাণ করা হয়নি। বজ্রপাত কমাতে তালগাছ রোপণের কার্যক্রমও তেমন চোখে পড়েনি।
কৃষকেরা বলছেন, সংসার চালাতে আর কষ্টে ফলানো ফসল রক্ষা করতেই ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকতে হয় তাদের। তাই দ্রুত মাঠে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা ও তালগাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃষি বিভাগও মনে করে, কৃষকদের জীবন রক্ষায় এখনই মাঠ পর্যায়ে বজ্র নিরোধক শেল্টার ও দণ্ড স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তালগাছ রোপণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ঝিনাইদহে বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত ৫ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এর আগে ২০২৫ সালে জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭ জন। নিহতদের বেশিরভাগই কৃষক কিংবা মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। বজ্রপাতের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি থেকে কৃষকদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
















