জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে আর্থিকভাবে অসচ্ছলদের জন্য ‘টোব মাকি স্কলারশিপ ২০২৬’

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি, চমৎকার গবেষণার সুযোগ আর অত্যন্ত নিরাপদ জীবনযাপনের কারণে জাপান সব সময়ই শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার একেবারে ওপরের দিকে থাকে। কিন্তু জাপানের মতো একটি উন্নত দেশে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ বেশ চড়া হওয়ায় অনেক সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়ের সেই স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে যায়। আর্থিক সংকটে থাকা সেসব মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে ‘টোব মাকি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম-২০২৬’। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জাপানের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে এই চমৎকার বৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি—এই তিনটি ভিন্ন পর্যায়েই শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

এই বৃত্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সম্মানজনক আর্থিক অনুদান, যা শিক্ষার্থীদের বিদেশি জীবনের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দেয়। স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৭০ হাজার জাপানি ইয়েন পাবেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৪৫০ ডলার (৪৫০)বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায়৫০হাজার টাকারকাছাকাছি। সবমিলিয়ে বছরে তারা মোট ৮লাখ৪০হাজারইয়েনপাবেন।অন্যদিকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিমাসে পাবেন৬০হাজার ইয়েন,যাপ্রায়৩৮৫ডলার(৪৫০)বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায়৫০হাজার টাকারকাছাকাছি।সবমিলিয়ে বছরে তারা মোট৮লাখ৪০হাজার ইয়েন পাবেন।অন্যদিকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে পাবেন৬০হাজার ইয়েন,যাপ্রায়৩৮৫ডলার(৩৮৫) বা ৪৩ হাজার টাকার সমান। তাদের জন্য বছরে মোট ৭ লাখ ২০ হাজার ইয়েন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাপানের মতো ব্যয়বহুল দেশে তাদের বাসাভাড়া, খাবার এবং যাতায়াতের খরচ বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই মিটিয়ে নিতে পারবেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

তবে বৃত্তির অর্থের অপব্যবহার রোধ করতে এবং বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সুযোগ দিতে কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যদি একই সাথে অন্য কোনো সংস্থা থেকে বছরে ২০ লাখ ইয়েন বা প্রায় ১২,৮০০ ডলার ($১২,৮০০) এর বেশি মূল্যের কোনো স্কলারশিপ পান, তবে তার টোব মাকি স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ ঠিক ৫০% বা অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে একটু ছাড়ও আছে। কেউ যদি জাপান সরকারের বিখ্যাত জ্যাসো (JASSO) বৃত্তি পান অথবা নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা পান, তবে এই ৫০% কমানোর নিয়মটি তার ওপর একেবারেই খাটবে না।

সাধারণ নিয়মে এই স্কলারশিপের মেয়াদ থাকে দুই বছর। এই দুই বছর শিক্ষার্থীরা বিনা চিন্তায় তাদের পড়াশোনা ও গবেষণায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন। তবে পিএইচডি পর্যায়ে যেসব শিক্ষার্থী খুব ভালো ফলাফল করেন বা চমৎকার কোনো গবেষণা প্রবন্ধ উপহার দেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বৃত্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এই স্কলারশিপের আরেকটি ভালো দিক হলো, পুরো অর্থ প্রতি মাসে সরাসরি শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নিজের হাতে জমা করে দেওয়া হবে। ফলে মাঝখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের ঝামেলা থাকে না এবং শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে পারেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এই স্কলারশিপের মেয়াদ চলাকালীন সময়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই জাপানের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকতে হবে। স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তি হওয়া নতুন বা পুরোনো যেকোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। তবে স্নাতক বা ব্যাচেলর পর্যায়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি একটু ভিন্ন। তাদের অবশ্যই স্নাতক প্রোগ্রামের তৃতীয় বর্ষ বা তার চেয়ে ওপরের কোনো ক্লাসে অধ্যয়নরত হতে হবে। প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।

আবেদনের শেষ সময় একেবারে ঘনিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৮ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যেই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন করতে হবে। বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফল এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বেশ গুরুত্বের সাথে যাচাই করে নির্বাচকমণ্ডলী। জাপানে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করে নিজের খরচ চালানো অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কঠিন ও ক্লান্তিকর হয়ে পড়ে। তাই টোব মাকির মতো এমন একটি ১০০% নিশ্চিত স্কলারশিপ পেলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার দিকে মন দিতে পারবেন। যারা ইতিমধ্যে জাপানে পড়াশোনা করছেন এবং আর্থিক সংকটে আছেন, তাদের উচিত দরকারি কাগজপত্র গুছিয়ে দ্রুত এই সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগানো।

জাপান স্কলারশিপ, টোব মাকি স্কলারশিপ, উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পড়াশোনার খরচ, আর্থিক অনুদান, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, পড়াশোনার সুযোগ

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ