সোমালিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি উপাচার্য: তথ্যমন্ত্রীর সাথে ড. মিজানেরগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিরা এখন নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ
দিচ্ছেন। শুধু ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আফ্রিকার
দেশগুলোতেও আমাদের দেশের মেধাবীরা নিজেদের মেধা দিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এমনই এক গর্বের ও আনন্দের উদাহরণ হলেন প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। তিনি
বর্তমানে পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার স্বনামধন্য দারুস সালাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর বা উপাচার্য হিসেবে অত্যন্ত সফলতার
সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে আসার পর সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ে মাননীয়
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি-এর সাথে এক বিশেষ সৌজন্য
সাক্ষাৎ করেন। বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করা একজন
শিক্ষাবিদের সাথে মন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ সাধারণ মানুষের মাঝে
বেশ উৎসাহ তৈরি করেছে।

সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই
গুণী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দীর্ঘ এই বৈঠকে তারা
বাংলাদেশ এবং সোমালিয়ার মধ্যে পারস্পরিক নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট
বিষয় নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনা করেন। তাদের কথার মূল
কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ,
সংস্কৃতির বিস্তার এবং তথ্য বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো। শুধু
নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ
উদ্যোগ কীভাবে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বৈঠক চলাকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সোমালিয়ার মতো একটি
দেশের উচ্চশিক্ষায় একজন বাংলাদেশির এমন সফল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা
করেন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বলেন, বিদেশের মাটিতে দেশের একজন কৃতী
সন্তানের এমন শীর্ষ অবস্থান পুরো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও
গৌরবের একটি বিষয়। আমরা সব সময় দেখি যে উন্নত দেশগুলোতে আমাদের দেশের মানুষেরা
ভালো ভালো চাকরি করছেন, কিন্তু আফ্রিকার মতো একটি উন্নয়নশীল মহাদেশে গিয়ে
সেখানকার পুরো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার হাল ধরা
সত্যিই এক ব্যতিক্রমী ও বিশাল অর্জন।

আফ্রিকা মহাদেশ এখন সারা বিশ্বের কাছেই সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার। সোমালিয়াসহ ওই
অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠে নিজেদের শিক্ষা এবং
অর্থনীতি ঢেলে সাজাতে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ($) বিনিয়োগ করছে। অনেক দেশের
সরকার এখন শিক্ষার দিকে গভীর মনোযোগ দিচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৫
থেকে ১০ বছরের মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোতে বিদেশি দক্ষ পেশাজীবী ও শিক্ষকদের
চাহিদা প্রায় ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ঠিক এমন একটি সময়ে
একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদের সোমালিয়ার একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে
থাকাটা আমাদের দেশের অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য সেখানে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি
করবে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বৈঠকে উপাচার্য ড. শেখ আসিফ এস. মিজান তার পরিচালনাধীন দারুস সালাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক কার্যক্রম এবং
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তথ্যমন্ত্রীর সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি
মন্ত্রীকে জানান, সোমালিয়ার তরুণরা এখন সংঘাত ভুলে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণে
অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ড. মিজান তার নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশের সাথে সোমালিয়ার
জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি গভীরভাবে
মনে করেন, বাংলাদেশের নামকরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে
সোমালিয়ার দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যৌথ শিক্ষা চুক্তি খুব সহজেই হতে
পারে।

জ্ঞান বিনিময়ের এই আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় দুই দেশই সমানভাবে লাভবান হবে।
ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে, আমাদের দেশের তরুণ ও মেধাবী শিক্ষকরা
সোমালিয়ায় গিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বা গবেষণা করছেন। আবার দারুস সালাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও হয়তো ৫০% বা ১০০% শিক্ষাবৃত্তির
সুযোগ নিয়ে আমাদের বাংলাদেশে পড়তে আসবেন। এমন মহতী উদ্যোগগুলো সফলভাবে
বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক
পরিচিতি বাড়বে এবং বিশ্ব র‍্যাংকিংয়েও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অনেক বড় একটি ভূমিকা
রাখতে পারে। সোমালিয়ার টেলিভিশন ও অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের দীর্ঘ
ইতিহাস, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, পর্যটন কেন্দ্র এবং সাম্প্রতিক উন্নয়নের নানা
প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এমন প্রচারণামূলক কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও
অনেক বেশি উজ্জ্বল হবে। সবাই আশা করেন, খুব শিগগিরই এই আলোচনার সূত্র ধরে দুই দেশের
মধ্যে শিক্ষা ও তথ্য বিনিময়ের একটি মজবুত সেতু তৈরি হবে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ