শিক্ষাব্যবস্থায় মান সংকট কেন বাড়ছে এখনকার বাস্তবতা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সেই জাতি তত বেশি
উন্নত—এই প্রবাদটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। বাবা-মায়েরা তাদের
নিজেদের অনেক শখ বা প্রয়োজন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠান, ভালো টিউটর
রাখেন, যেন সন্তান মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ের দিকে
তাকালে আমাদের মনে একটা বিশাল প্রশ্ন জাগে—আমরা কি আসলেই সুশিক্ষিত হচ্ছি, নাকি
শুধু এক টুকরো কাগজের সার্টিফিকেট অর্জন করছি?

আজকাল খবরের কাগজ খুললে বা টেলিভিশনের পর্দায় তাকালে আমরা দেখি, প্রতি বছর লাখ লাখ
শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (GPA-5) বা এ-প্লাস পেয়ে পাস করছে। পাশের হার কখনো ৮০ শতাংশ,
কখনো বা ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মিষ্টি বিতরণের ধুম পড়ে যায় চারদিকে। কিন্তু এই
আনন্দের উল্টো পিঠের গল্পটা বড্ড করুণ। এই জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেমেয়েগুলোই যখন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যায়, তখন দেখা যায় তাদের একটি বিশাল
অংশ ন্যূনতম পাস নম্বরটুকুও তুলতে পারছে না। আবার পড়াশোনা শেষ করে যখন তারা চাকরির
বাজারে প্রবেশ করছে, তখন তারা পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে। এই যে একদিকে পাশের হারের
রেকর্ড, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা বা চাকরির বাজারে চরম
ব্যর্থতা—এটাই হলো আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড়
‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় এই মান
সংকট কেন দিন দিন এত প্রকট আকার ধারণ করছে, এর পেছনের মূল কারণগুলো কী এবং
এটি আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আজ একটি বিস্তারিত
ও সহজবোধ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

এখনকার শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান যে কমছে, তা বোঝার জন্য খুব বড় কোনো গবেষক হওয়ার দরকার
নেই। চারপাশের কিছু সাধারণ ঘটনার দিকে নজর দিলেই এই রূঢ় বাস্তবতা আমাদের চোখে ধরা
পড়ে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

পাশের হার বনাম শিক্ষার মান

একসময় ম্যাট্রিক বা ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশন পাওয়াটা অনেক বড়
সম্মানের ব্যাপার ছিল। তখন কেউ পাস করলে ধরে নেওয়া হতো তার ভেতরে
অন্তত কিছু মৌলিক জ্ঞান আছে। কিন্তু এখন অবস্থা পাল্টেছে। এখন জিপিএ-৫
পাওয়াটা যেন একটা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই
জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীকে যদি সাধারণ কোনো ইংরেজির বাক্য লিখতে
বলা হয় বা গণিতের কোনো সাধারণ হিসেব করতে বলা হয়, তখন তারা আটকে যায়। অনেকেই
নিজের মাতৃভাষা বাংলায় শুদ্ধ করে একটি আবেদনপত্র পর্যন্ত লিখতে পারে না। তাহলে এই
এ-প্লাসগুলো আসলে কিসের মাপকাঠি? এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, আমাদের
শিক্ষাব্যবস্থা এখন শুধুই নম্বর পাওয়ার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে,
জ্ঞান অর্জনের কোনো জায়গা এখানে নেই।

সার্টিফিকেট নির্ভরতা ও শিক্ষিত বেকার

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা হলো, আমরা শিক্ষাকে শুধু চাকরির একটি উপায় বা
লাইসেন্স হিসেবে দেখি। সবাই চায় একটি ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট, কারণ
এটি ছাড়া চাকরি মিলবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট
তৈরি করছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন
বাড়ছে। সবচেয়ে মজার এবং একই সাথে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, দেশের বড় বড়
কোম্পানি বা করপোরেট অফিসগুলো বলছে যে তাদের লোক দরকার, কিন্তু
তারা কাজ জানা যোগ্য লোক পাচ্ছে না। অন্যদিকে তরুণেরা বলছে, তাদের হাতে
মাস্টার্সের সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছে না। এই যে চাওয়া
এবং পাওয়ার মধ্যে বিশাল দূরত্ব, এটাই প্রমাণ করে যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা
বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো দক্ষতা বা মান তৈরি করতে পারছে না।

শিক্ষাব্যবস্থায় মান সংকট বাড়ার মূল কারণগুলো

শিক্ষার মানের এই যে ভয়াবহ পতন, এটি এক দিনে হয়নি। বছরের পর বছর ধরে চলা কিছু ভুল
সিদ্ধান্ত, অবহেলা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা এর জন্য দায়ী। এর প্রধান কারণগুলো
নিচে আলোচনা করা হলো।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

মুখস্থবিদ্যা ও গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য

শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যা থেকে বের করে এনে তাদের চিন্তাশক্তি বাড়ানোর জন্য এক
যুগ আগে ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’ চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল খুব
মহৎ—শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে ভাববে এবং
প্রশ্নের উত্তর দেবে। কিন্তু বাস্তবে কী হলো? সৃজনশীল পদ্ধতিটাই এখন
গাইড বইয়ের দখলে চলে গেছে। শিক্ষকরা নিজেরা অনেক সময় সৃজনশীল পদ্ধতি ঠিকমতো
বোঝেন না, তাই তারা বাজার থেকে গাইড বই কিনে পড়ান। শিক্ষার্থীরাও মূল বই বাদ
দিয়ে নোট আর গাইড বই মুখস্থ করে পরীক্ষায় খাতায় উগরে দিয়ে আসছে। যে ব্যবস্থার
মূল লক্ষ্য ছিল সৃজনশীলতা বাড়ানো, সেই ব্যবস্থাই এখন নতুন রূপে মুখস্থবিদ্যায় পরিণত
হয়েছে। চিন্তাশক্তি বা বিশ্লেষণ ক্ষমতার কোনো বিকাশ এখানে হচ্ছে না।

কারিকুলাম ও বাস্তব জীবনের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক

আমরা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিখছি, বাস্তব জীবনে বা চাকরির বাজারে তার
কতটুকু কাজে লাগছে? আমাদের সিলেবাসগুলো যুগের পর যুগ ধরে প্রায় একই রকম রয়ে
গেছে। পৃথিবী যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), কোডিং, ডাটা সায়েন্স
এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে হু হু করে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা
এমন অনেক কিছু পড়ছে, যার কোনো প্রায়োগিক মূল্য বর্তমান যুগে নেই। কারিগরি শিক্ষা
(Vocational training), সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem-solving skills) বা
যোগাযোগ দক্ষতা (Communication skills)—এগুলো আমাদের মূল
শিক্ষাব্যবস্থায় খুবই অবহেলিত। ফলে একজন শিক্ষার্থী ২০ বছর
পড়াশোনা করেও বাস্তব পৃথিবীর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে না।

যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব

“শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর।” কিন্তু আমাদের দেশে এই কারিগরদের অবস্থা কেমন?
সত্যি কথা বলতে, আমাদের সমাজে খুব কম মেধাবী তরুণই নিজের ইচ্ছায় স্কুল বা
কলেজের শিক্ষক হতে চান। বেশিরভাগ মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে বিসিএস
ক্যাডার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় করপোরেট কর্মকর্তা হওয়া। এর কারণ হলো
শিক্ষকদের বেতন কাঠামো অত্যন্ত নিম্ন এবং সামাজিক মর্যাদাও আগের মতো নেই।
অন্য কোথাও চাকরি না পেয়ে অনেকেই শিক্ষকতায় আসেন। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য উন্নত
মানের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই। এখন প্রশ্ন হলো, একজন শিক্ষক যদি নিজে
পুরোপুরি দক্ষ না হন, তবে তিনি একজন শিক্ষার্থীকে কীভাবে দক্ষ করে তুলবেন?
যোগ্য শিক্ষকের এই চরম অভাব শিক্ষার মান কমার অন্যতম প্রধান কারণ।

কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ

শিক্ষা এখন আর কোনো সেবা নয়, এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
স্কুলগুলোতে এখন আর ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। অনেক শিক্ষক স্কুলেও যা
পড়ান, তার চেয়ে বেশি মনযোগী থাকেন তার কোচিং সেন্টারে। অলিখিত একটি নিয়ম হয়ে
দাঁড়িয়েছে যে, যে শিক্ষকের কাছে কোচিং না করলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া
যাবে না, শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে তার কাছেই দৌড়ায়। অভিভাবকরাও সন্তানের ভবিষ্যতের
কথা ভেবে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ঢালছেন এসব কোচিং সেন্টারে। পড়াশোনাটা যখন
ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে কোচিং সেন্টারের ব্যবসা হয়ে যায়, তখন সেখানে শিক্ষার
মানের চেয়ে টাকার অঙ্কটাই বড় হয়ে ওঠে।

দুর্বল অবকাঠামো ও গবেষণার অভাব

ভালো শিক্ষার জন্য একটি ভালো পরিবেশ দরকার। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ
স্কুল-কলেজে ভালো কোনো লাইব্রেরি নেই, বিজ্ঞান গবেষণাগার বা
ল্যাবরেটরির অবস্থা তথৈবচ। শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের নানা বিষয় বইয়ে পড়ে,
কিন্তু নিজ হাতে পরীক্ষা করে দেখার কোনো সুযোগ পায় না। অন্যদিকে,
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল কাজ হওয়ার কথা ছিল নতুন নতুন
জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং গবেষণা করা। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার
বাজেট এতই কম যে, তা বলার মতো নয়। শিক্ষকরাও গবেষণার চেয়ে রাজনীতি বা প্রশাসনিক
পদ পাওয়ার দিকে বেশি আগ্রহী থাকেন। ফলস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শুধু বড় স্কুল
হিসেবে কাজ করছে, সত্যিকারের জ্ঞানচর্চার কোনো কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারছে না।

সমাজ ও মানসিকতার ওপর এর প্রভাব

শিক্ষার এই মান সংকটের কারণে শুধু যে অর্থনৈতিক ক্ষতি বা বেকারত্ব বাড়ছে তা নয়, এর
কারণে আমাদের সমাজ ও মনস্তত্ত্বে এক ভয়াবহ অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।

মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয়

শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য শুধু চাকরি পাওয়া নয়, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন ভালো ও
আলোকিত মানুষ তৈরি করা। কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা শুধু
একটা রেস বা প্রতিযোগিতার জন্ম দিচ্ছে—যে করেই হোক জিপিএ-৫ পেতে হবে, যে
করেই হোক একটা বড় চাকরি পেতে হবে। এই ইঁদুর দৌড়ে মানবিকতা, সততা ও মূল্যবোধের
কোনো জায়গা নেই। এ কারণেই আমরা দেখি, অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ বা বড় বড় ডিগ্রিধারী
কর্মকর্তারা অবলীলায় দুর্নীতি করছেন, ঘুষ খাচ্ছেন এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার
করছেন। মানহীন শিক্ষা মানুষের মস্তিষ্ককে হয়তো কিছুটা ধারালো করছে, কিন্তু তার
বিবেককে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে।

বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা (ব্রেইন ড্রেইন)

শিক্ষাব্যবস্থার এই বেহাল দশা দেখে যাদের সামর্থ্য আছে বা যারা প্রকৃত শিক্ষা পেতে
চায়, তারা আর দেশে থাকতে চাইছে না। মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ,
আমেরিকা বা কানাডায় চলে যাচ্ছে এবং শিক্ষাজীবন শেষে ওখানেই স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। এর
ফলে আমাদের দেশ তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—মেধাবী তরুণদের—চিরতরে হারাচ্ছে। যাকে
আমরা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধা পাচার বলি। এই শূন্যতা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের
জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত।

উত্তরণের উপায় কী?

শিক্ষাব্যবস্থার এই গভীর সংকট থেকে রাতারাতি মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, তবে এখনই যদি
আমরা সঠিক পদক্ষেপ না নিই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অন্ধকার পৃথিবী
অপেক্ষা করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া
প্রয়োজন:

১. কারিকুলামের যুগোপযোগী পরিবর্তন: মুখস্থবিদ্যাকে পুরোপুরি বাতিল করে এমন একটি
সিলেবাস তৈরি করতে হবে, যা বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তি,
কারিগরি শিক্ষা এবং বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিতে হবে। সাধারণ ডিগ্রির
চেয়ে ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

২. শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি: মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে হলে
শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং সামাজিক মর্যাদা অন্যান্য প্রথম
শ্রেণির চাকরির সমান বা তার চেয়ে বেশি করতে হবে। সেই সাথে শিক্ষকদের
নিয়মিত ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা: কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হলে মূল
ক্লাসরুমের পড়াশোনাকে শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষকদের জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে এবং কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

৪. গবেষণা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ: শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে
বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে উন্নত ল্যাব, লাইব্রেরি ও ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে
হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য আলাদা এবং পর্যাপ্ত ফান্ড বরাদ্দ করতে
হবে।

৫. মানসিকতার পরিবর্তন: অভিভাবক ও সমাজকে বুঝতে হবে যে জিপিএ-৫ বা সার্টিফিকেট
জীবনের সব নয়। সন্তানদের নম্বরের পেছনে না ছুটিয়ে তাদের সত্যিকারের জ্ঞান
ও দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করতে হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে সেই দেশকে
ধ্বংস করার জন্য বাইরের কোনো শত্রুর প্রয়োজন হয় না। বর্তমান বাস্তবতায়
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে মান সংকট চলছে, তা আমাদের জন্য এক ভয়ংকর
বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে। আমরা প্রতিদিন অসংখ্য সার্টিফিকেটধারী তরুণ তৈরি করছি
ঠিকই, কিন্তু তাদের ভেতর সত্যিকারের জ্ঞান, দক্ষতা বা মানবিক মূল্যবোধের
নিদারুণ অভাব রয়ে যাচ্ছে।

উন্নয়নের মহাসড়কে টিকে থাকতে হলে আমাদের এমন একটি তরুণ প্রজন্ম দরকার, যারা শুধু
বইয়ের পাতায় নয়, বরং বাস্তব পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।
সংখ্যার অহংকার থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের শিক্ষার মানের দিকে নজর দিতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে যদি আমরা একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে না
পারি, তবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা মেগা প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে কোনো
কাজেই আসবে না। তাই এখনই সময় জেগে ওঠার, শিক্ষাব্যবস্থার গলদগুলো দূর করে
একটি মানসম্মত, আধুনিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার। তবেই আমাদের
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ