দীঘিনালায় মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ: মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার, পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে পরিবার বাধ্য হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনে। বিপদের সময় থানায় গেলে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিতে রাজি হয়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে।

শিশুটির নাম মাহমুদুর রহমান রাফি। তার বয়স ১২ বছর। সে দীঘিনালার মেরুং এলাকার নূরে মদিনা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তার বাবার নাম মো. আনোয়ার। গত মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল মাদ্রাসা থেকে মেরুং বাজারে যাওয়ার সময় অপহরণকারীরা রাফিকে তুলে নেয়।

পরিবার জানায়, অজ্ঞাত দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে রাফিকে জোর করে রাঙামাটির লংগদু এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তারা দুটি মোবাইল নম্বর থেকে রাফির বাবার কাছে ফোন করে। তারা ৫১ হাজার টাকা (যা প্রায় ৪৬০ ডলার বা $৪৬০) মুক্তিপণ দাবি করে। দ্রুত টাকা না দিলে তারা শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ছেলের জীবনের ভয়ে রাফির বাবা মঙ্গলবার গভীর রাতে দীঘিনালা থানায় ছুটে যান। কিন্তু সেখানে থাকা ডিউটি অফিসার জিডি নিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি রাফির বাবাকে বলেন যে থানার ওসি সাহেব নেই, তাই সকালে আসতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, থানায় ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়।

পুলিশের কাছ থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে পরিবারটি অপহরণকারীদের দাবি মেনে নেয়। তারা পুরো ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দেয়। এরপর বুধবার সকালে অপহরণকারীরা রাফিকে মেরুং বাজার এলাকায় অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

দেশে বর্তমানে এমন মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, পুলিশ যদি সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়, তবে অন্তত ৮০% ক্ষেত্রেই অপরাধীদের দ্রুত ধরা সম্ভব। কিন্তু এই ঘটনায় পুলিশের অবহেলা এলাকার সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে।

জিডি না নেওয়ার বিষয়ে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি জানান, পরিবারটি রাত ২টার দিকে থানায় এসেছিল। ঘটনাটি ভালোভাবে তদন্ত করার জন্যই তিনি তাদের সকালে আসতে বলেছিলেন। অপরাধীদের ধরতে বর্তমানে পুলিশের দুটি দল মাঠে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ