যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাত এবার হয়তো থামতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই দুই দেশের মধ্যে একটি বড় শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুব কাছাকাছি। হোয়াইট হাউসের সামনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এমন আশার কথা শোনান। চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা সই করার জন্য তিনি নিজে পাকিস্তানে যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় শর্ত হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। পরমাণু বোমা বানানোর জন্য সাধারণত ৯০% বা তার বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দরকার হয়। পশ্চিমা দেশগুলোর ভয় ছিল ইরান সেই পথেই এগোচ্ছে। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই ইউরেনিয়াম মজুতকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক ধুলো বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র বানাবে না, এমন নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র সবসময় চেয়ে এসেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পুরোপুরি এই শর্ত মেনে নিয়েছে। চুক্তির প্রায় সব বিষয় নিয়েই দুই পক্ষ একমত হয়েছে। এখন শুধু আলোচনার টেবিলে বসে শেষ মুহূর্তের কিছু বিষয় মেলানো বাকি। সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন তিনি চুক্তি সই করতে পাকিস্তানে যাবেন কিনা, তখন তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি যেতে পারেন। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি হয়, তবে তিনি সেখানে যাবেন।
এই পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বেশ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে তারা সত্যিই অসাধারণ কাজ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য পাকিস্তানের এমন ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। সেখানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে তাদের প্রথম দফার বৈঠক হয়। তবে সেবার কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই তাদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে এখন কাজ চলছে এবং খুব সম্ভবত এবারও পাকিস্তানেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই শান্তি চুক্তি সফল হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে আটকে থাকা অন্তত $১০ বিলিয়ন থেকে $১৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ইরান আবারও ব্যবহার করতে পারবে। সেই সাথে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত কমে আসার সম্ভাবনা আছে। এতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোও তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি পাবে। এখন পুরো বিশ্বের নজর থাকবে ইসলামাবাদে কবে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়, তার ওপর।
















