পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে স্মরণ করে নিউইয়র্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে ভাসানী ফাউন্ডেশন এবং আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) এই সভার আয়োজন করে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে ষষ্ঠ ভাসানী সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে সৃষ্ট পানি সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাহায্য চাইতে বর্তমান প্রশাসন ও বিএনপি সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়।
সভার প্রথম পর্বে ভাসানী ফাউন্ডেশনের বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিক আলী ইমাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন নাসের। সভায় উপস্থিত বক্তারা মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন এ দেশের একমাত্র সর্বজনীন নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে সব দলের মানুষ তাঁকে সম্মান করতেন ও ভালোবাসতেন।
বক্তারা ষষ্ঠ ভাসানী সম্মেলন সফল করার জন্য নিউইয়র্কে বসবাসরত সব প্রবাসী বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্মকে মওলানা ভাসানীর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে অবশ্যই জানাতে হবে। আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। এই মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলন বিশ্ব দরবারে তাঁকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করবে। সভায় অনেকে ভাসানীর জীবনের ওপর একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রামাণ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি তৈরির ওপর জোর দেন। প্রবাসীরা আশা করছেন, এই প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতে কয়েক হাজার ডলার ($) খরচ হলেও কমিউনিটির মানুষ ১০০% সাহায্য নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবেন।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন নাসের সভার একপর্যায়ে সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির কথা জানান। তিনি বলেন, আসন্ন ষষ্ঠ ভাসানী সম্মেলন সফল করতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদকে চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন সাগরকে সদস্যসচিব করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবার সাথে আলোচনা করে খুব শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া সংগঠনের কাজে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় না থাকায় প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক মুন্না এবং কার্যকরী সদস্য পারভেজ সাজ্জাদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় এম এ বাসেত ও বেলাল চৌধুরীকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভার দ্বিতীয় পর্বে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির (আইএফসি) আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব মোহাম্মদ হোসেন খান। সৈয়দ টিপু সুলতান সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে এসেছেন। সফরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে ফারাক্কা সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। সভায় তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথা সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতিসংঘের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া ফারাক্কা সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান কিছুতেই সম্ভব নয়।
ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতি বছর কৃষিখাতে কয়েক মিলিয়ন ডলার ($) সমপরিমাণ বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে প্রায় ৪০% থেকে ৫০% আবাদি জমি শুকিয়ে যায়, যা কৃষকদের পথে বসিয়ে দেয়। তাই সৈয়দ টিপু সুলতান বিএনপি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ফারাক্কা ইস্যুতে জাতিসংঘের মাধ্যমে দ্রুত যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সভায় আইএফসির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আতিকুর রহমান সালুকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
এই যৌথ সভায় নিউইয়র্ক প্রবাসী অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ আলী খান, কলামিস্ট সাঈদ তারেক, সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, রিমন ইসলাম, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, এস এম ফেরদৌস এবং সালেহ আহমেদ মানিক উল্লেখযোগ্য। সভার শেষে সভাপতি আলী ইমাম প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
















