চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সম্প্রতি শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে একদল
চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা। বুধবার তারা
সরাসরি পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যালয়ে গিয়ে একটি
স্মারকলিপি জমা দেন। তারা এই হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের
দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় এমন রক্তক্ষয়ী
ঘটনা সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এই হামলার কারণে পুরো কলেজের
স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং ডাকসুর
ভিপি সাদিক কায়েম। তার সাথে মহানগর দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন স্তরের
নেতাকর্মীরা সেখানে হাজির হন। তারা প্রশাসনের
কর্তাব্যক্তিদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং এই
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। নেতারা ক্ষোভ
প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে যারা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার সাহস
দেখায়, তারা দেশ ও দশের শত্রু। এমন হামলা শিক্ষার সুন্দর পরিবেশকে পুরোপুরি
ধ্বংস করে দেয় এবং শিক্ষার্থীদের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করে।
ছাত্রশিবিরের নেতারা তাদের স্মারকলিপিতে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি প্রশাসনের
সামনে তুলে ধরেন। তারা খুব স্পষ্টভাবে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ শুনে দ্রুত সময়ের মধ্যে
সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে হবে। শনাক্ত করার পর কালক্ষেপণ
না করে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা চান প্রশাসন যেন অন্তত ৯০% স্বচ্ছতার সাথে এই হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও
নিরপেক্ষ তদন্ত করে। প্রকৃত অপরাধীরা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ে যেন
কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, সেদিকে প্রশাসনকে কড়া নজর রাখতে হবে
বলে তারা দাবি জানান।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়ই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে, যা আমাদের
সমাজকে পিছিয়ে দিচ্ছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে এমন সংঘাত ও
মারামারির কারণে প্রায় ৪০% থেকে ৫০% সাধারণ শিক্ষার্থী ভয়ে ক্লাস করা
বন্ধ করে দেয়। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পড়ালেখা শেখানোর জন্য অনেক কষ্ট করে হাজার
হাজার ডলার ($) বা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেন। কিন্তু ক্যাম্পাসে জীবনের নিরাপত্তা না
থাকলে তাদের এই বিশাল বিনিয়োগ একেবারেই বৃথা যায়। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের
পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে প্রশাসনকে অবশ্যই এমন সন্ত্রাসী
কর্মকাণ্ড জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা নীতিতে দমন করতে হবে।
শিবির নেতারা পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অনেক বড় প্রশ্ন তুলেছেন। তারা
স্মারকলিপিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সিটি কলেজে যখন
এই বর্বরোচিত হামলা চলছিল, তখন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা চরম অবহেলা
দেখিয়েছেন। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন, যার কারণে
সন্ত্রাসীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে হামলার সুযোগ পেয়েছে। তাই
দায়িত্বে অবহেলা এবং নিষ্ক্রিয়তার দায়ে ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও
বিভাগীয় তদন্ত করে খুব দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ছাত্রশিবিরের
নেতারা। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সঠিক সময়ে
পদক্ষেপ নিত, তাহলে এই হামলার মাত্রা কমানো সম্ভব হতো।
সবশেষে ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ও সবার কাছে দৃশ্যমান পদক্ষেপ
নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মূলত রাষ্ট্রেরই প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের
সহিংসতা ঠেকাতে এখন থেকেই কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের
চেয়ে কয়েক গুণ জোরদার করতে হবে। আমরা সবাই চাই আমাদের কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানচর্চার একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ
জায়গা হিসেবে গড়ে উঠুক। এজন্য প্রশাসন, শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের একসাথে
মিলে কাজ করতে হবে। অপরাধীরা সঠিক বিচার না পেলে শিক্ষার্থীরা আগামীতে রাস্তায় নেমে
আরও বড় প্রতিবাদ গড়ে তুলবে বলে তারা হুশিয়ারি দেন।
















