রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে এখন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন সাধারণ মানুষ যখন বাজারে যান এবং দেখেন যে চাল, ডাল বা
ডিমের দাম এক রাতের ব্যবধানে বেড়ে গেছে, তখন তিনি হয়তো মনে করেন এটি নিছকই
বাজারের ব্যাপার। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, বাজারের এই
অবস্থার পেছনে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রের বড় বড় সব নীতি ও সিদ্ধান্ত। আর
এই সিদ্ধান্তগুলো কারা নেন? নেন আমাদের রাজনীতিকরা। একটি দেশের অর্থনীতি কীভাবে
চলবে, সাধারণ মানুষ সুখে থাকবে নাকি কষ্টে দিন পার করবে—তার পুরোটাই নির্ভর করে
দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতির ওপর।

বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, রাজনীতি এবং অর্থনীতি—এই দুটি শব্দ যেন
একে অপরের সাথে এক অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সুতোয় বাঁধা পড়ে গেছে। একটি
দেশের অর্থনীতি হলো একটি গাড়ির ইঞ্জিনের মতো, যা দেশটিকে সামনের দিকে এগিয়ে
নিয়ে যায়। আর রাজনীতি হলো সেই গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল, যা ঠিক করে দেয় গাড়িটি
কোন দিকে যাবে। স্টিয়ারিং যদি ভুল দিকে ঘোরে, তবে শক্তিশালী ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও
গাড়িটি খাদে পড়ে যেতে বাধ্য। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের মনে এক গভীর
প্রশ্নের উদয় হয়েছে—রাজনীতি ও অর্থনীতির এই জটিল সম্পর্ক এখন আসলে কোন দিকে
যাচ্ছে? এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা প্রভাবিত হচ্ছে এবং
ভবিষ্যতের জন্য এটি কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে আজ একটি বিস্তারিত
ও সহজবোধ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

রাজনীতি ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য বন্ধন

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রাজনীতি এবং অর্থনীতি কখনোই আলাদা কিছু ছিল না। একে বলা হয়
‘পলিটিক্যাল ইকোনমি’ বা রাজনৈতিক অর্থনীতি। সরকার বা রাষ্ট্র যখন কোনো রাজনৈতিক
সিদ্ধান্ত নেয়, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতির ওপর। আবার দেশের
অর্থনীতি যখন খারাপ হতে শুরু করে, তখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয় অস্থিরতা।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

যেমন ধরুন, সরকার যদি রাজনৈতিক কারণে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বেশি
সুবিধা দেয়, তবে বাজারে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়। আবার নির্বাচনের আগে অনেক
সময় জনপ্রিয় হওয়ার জন্য সরকার এমন কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়, যা সাময়িকভাবে
মানুষকে খুশি করলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দেয়।
সুতরাং, রাজনীতি সুস্থ না হলে অর্থনীতি কখনো মজবুত হতে পারে না।
বর্তমানে এই দুইয়ের সম্পর্ক এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কে কাকে
নিয়ন্ত্রণ করছে, তা বোঝা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক

আমাদের দেশে এবং বিশ্বজুড়ে বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক
এক নতুন রূপ ধারণ করেছে। এই সম্পর্কটি সাধারণ মানুষের জন্য কতটা কল্যাণকর, তা বোঝার
জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য

একসময় রাজনীতি করতেন মূলত পেশাদার রাজনীতিক, আইনজীবী বা সমাজসেবকরা। তাদের মূল
লক্ষ্য ছিল মানুষের কল্যাণ। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন
সংসদের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। যখন ব্যবসায়ীরা
রাজনীতিতে আসেন এবং নীতিনির্ধারকের চেয়ারে বসেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তারা
দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ব্যবসার স্বার্থকে বেশি বড় করে দেখেন। এর ফলে এমন
সব আইন বা নীতি তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে বেশি
সুবিধা দেয়। রাজনীতি ও অর্থনীতির এই যে এক হয়ে যাওয়া, এটি সাধারণ মানুষের
জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট সিন্ডিকেট ও বাজার ব্যবস্থা

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

বর্তমানে আমাদের বাজারের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম ‘সিন্ডিকেট’। আন্তর্জাতিক বাজারে
কোনো জিনিসের দাম কমলেও আমাদের দেশে তা কমে না। কারণ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী
একজোট হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। এই সিন্ডিকেটগুলো এত ক্ষমতা কোথায় পায়?
উত্তরটা খুবই সহজ—রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়। এই অসাধু ব্যবসায়ীদের মাথার ওপর
যখন শক্তিশালী রাজনৈতিক ছাতা থাকে, তখন প্রশাসন চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো
শক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে না। ফলে রাজনীতি ও অর্থনীতির এই অশুভ আঁতাতের মাশুল
গুনতে হয় সাধারণ মানুষকে, অতিরিক্ত দাম দিয়ে পণ্য কিনে।

ব্যাংক খাত, খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার

একটি দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো তার ব্যাংকিং খাত। কিন্তু বর্তমানে রাজনীতি ও
অর্থনীতির নেতিবাচক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এই ব্যাংক খাতে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া
হচ্ছে। এরপর সেই টাকা আর ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, পরিণত হচ্ছে খেলাপি ঋণে। ব্যাংকের
নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নামে-বেনামে ঋণ নেওয়ার এই যে সংস্কৃতি, তা দেশের
অর্থনীতিকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিচ্ছে। আর এই লুটের টাকার একটি বড়
অংশ হুন্ডি বা অবৈধ পথে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। গড়ে উঠছে বেগম পাড়ার মতো
বিলাসবহুল এলাকা। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই অর্থনৈতিক ডাকাতি কোনোভাবেই
বন্ধ করা সম্ভব নয়।

মেগা প্রকল্প ও রাজনৈতিক অর্থনীতি

গত কয়েক বছরে দেশে বেশ কিছু বড় বড় অবকাঠামো বা মেগা প্রকল্প তৈরি হয়েছে। পদ্মা
সেতু, মেট্রোরেল বা টানেলের মতো প্রকল্পগুলো অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে
ভালো। কিন্তু এর সাথে রাজনৈতিক প্রচারণার একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে। অনেক সময়
দেখা যায়, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তাড়াহুড়ো করে প্রকল্প নেওয়া হয়। আবার
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার কারণে প্রকল্পের খরচ ও সময়
কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে যে টাকা দিয়ে দুটি ব্রিজ বানানো যেত, সেই টাকা দিয়ে একটি
ব্রিজ বানানো হয়। এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাঁধেই চাপে
কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে।

ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির প্রভাব

আজকের দিনে রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা ভূ-রাজনীতিও আমাদের অর্থনীতিকে
দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিশ্বযুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল,
সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এটি মূলত রাজনৈতিক সংঘাত, কিন্তু এর সরাসরি
অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশের ওপর। আমাদের দেশে ডলারের চরম সংকট দেখা
দিয়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

পশ্চিমা বিশ্বের চাপ ও তৈরি পোশাক খাত

আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খুঁটি হলো তৈরি পোশাক রপ্তানি। পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ
করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। কিন্তু এই দেশগুলো
এখন শুধু ব্যবসাই দেখে না, তারা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকার, শ্রম
অধিকার এবং নির্বাচনের পরিবেশের ওপরও নজর রাখে। যদি আমাদের রাজনৈতিক
পরিস্থিতি তাদের মনঃপূত না হয়, তবে তারা আমাদের রপ্তানির ওপর
নানা ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক বসাতে পারে। অর্থাৎ, আমাদের
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ঠিক না থাকলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ময়দানেও
আমাদের বড় ধরনের মূল্য চোকাতে হবে।

এই সম্পর্ক আসলে কোন দিকে যাচ্ছে?

সবকিছু বিশ্লেষণ করে একটি অত্যন্ত জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে—রাজনীতি ও অর্থনীতির এই
মেলবন্ধন এখন আমাদের কোন গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে? এর কিছু স্পষ্ট চিত্র আমরা
দেখতে পাচ্ছি।

স্বজনতোষী পুঁজিবাদ বা ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের উত্থান

বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতিকে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা স্বজনতোষী
পুঁজিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো, দেশের সম্পদ বা
ব্যবসার সুযোগ সবাই সমানভাবে পাবে না। যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকবে, যারা
রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ, তারাই কেবল ব্যবসা পাবে, ব্যাংক থেকে ঋণ পাবে এবং বড়
বড় প্রজেক্টের কাজ পাবে। এর ফলে মেধা বা যোগ্যতা থাকলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা টিকতে
পারবেন না। অর্থনীতি কুক্ষিগত হবে গুটি কয়েক পরিবারের হাতে। এটি একটি দেশের জন্য
অত্যন্ত ভয়ংকর পরিণতি।

আকাশচুম্বী অর্থনৈতিক বৈষম্য

রাজনীতি ও অর্থনীতির এই বর্তমান ধারায় সমাজে ধনী ও গরিবের বৈষম্য হু হু করে বাড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যানে জিডিপি বাড়ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে বলে দাবি করা হলেও, বাস্তবের
চিত্র ভিন্ন। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে, আর দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ
সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতি আর বেকারত্বের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। মধ্যবিত্ত সমাজ
তাদের জমানো সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। নীতি প্রণয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না
থাকার কারণেই এই বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাব

অর্থনীতি যখন শুধু কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন রাজনৈতিক
জবাবদিহিতা হারিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের ভোটের বা মতামতের কোনো মূল্য থাকে
না। আর যখন জবাবদিহিতা থাকে না, তখন সরকারি টাকার অপচয় বাড়ে, দুর্নীতি বাড়ে এবং
সুশাসন বলে কিছু থাকে না। এই দিক থেকে বিচার করলে রাজনীতি ও অর্থনীতির
বর্তমান সম্পর্কটি আমাদের একটি চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উত্তরণের উপায় ও করণীয়

এই অশুভ গন্তব্য থেকে দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে আমাদের কিছু কার্যকর ও
দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

১. সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: সবার আগে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দলমত
নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। যে কেউ বাজার
সিন্ডিকেট করুক বা ব্যাংক লুট করুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ২.
প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা: বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা
বিচার বিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে
দিতে হবে। ৩. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সরকারি কেনাকাটা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঋণ
দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের করের টাকা কোথায় কীভাবে
খরচ হচ্ছে, তার হিসাব জনগণকে দিতে হবে। ৪. ব্যবসায়ীদের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ: রাজনীতি
যেন শুধু ব্যবসায়ীদের ক্লাব না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সৎ, যোগ্য এবং
সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন—এমন মানুষদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ তৈরি করে দিতে
হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, রাজনীতি ও অর্থনীতি কখনোই একে অপরের পরিপূরক ছাড়া চলতে পারে না।
একটি সুস্থ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতিই পারে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি
উপহার দিতে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক যে
দিকে যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তির চেয়ে আশঙ্কাই বেশি তৈরি করছে।
রাজনীতি আজ আর মানুষের কল্যাণে নিবেদিত না থেকে, অনেক ক্ষেত্রেই
গোষ্ঠীতন্ত্র ও ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যার
সরাসরি খেসারত দিচ্ছে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ—কখনো বাজারের আগুনে পুড়ে, কখনো
বেকারত্বের হতাশায় ভুগে।

তবে এই অন্ধকারের শেষে আলোর পথও রয়েছে। যদি আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের বৃহত্তর
স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন, তবে পরিস্থিতি বদলাতে
বাধ্য। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং জবাবদিহিতার চর্চা
বাড়িয়ে আমরা একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়তে পারি। মনে রাখতে হবে,
সাধারণ মানুষকে পেটে ক্ষুধার আগুন নিয়ে রেখে কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক মডেলই
দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। তাই রাজনীতি ও অর্থনীতির এই সম্পর্কটি
যেন গুটিকয়েক লুটেরার পক্ষে না গিয়ে, দেশের আপামর জনসাধারণের কল্যাণের দিকে
যায়—বর্তমান সময়ে এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ