একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তরুণ সমাজ। যৌবনের অদম্য শক্তি, নতুন কিছু করার
স্বপ্ন এবং পাহাড় সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে তরুণেরাই পারে একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে বদলে
দিতে। কিন্তু এই স্বপ্নবাজ তরুণদের চোখের সামনে যখন বেকারত্ব নামক এক বিশাল দেয়াল
এসে দাঁড়ায়, তখন সেই স্বপ্নগুলো পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। বর্তমানে আমাদের সমাজে
বেকারত্ব এমন একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে লাখো
তরুণের ভবিষ্যৎ।
দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পড়াশোনা শেষ করার পর একজন তরুণ যখন দেখে
তার জন্য কোথাও কোনো কাজের সুযোগ নেই, তখন তার চারপাশের পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে
আসে। একসময় যে ছেলেটি বা মেয়েটি পরিবার ও সমাজের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা
ছিল, বেকারত্বের চাপে সে নিজেকেই পরিবারের জন্য ‘বোঝা’ ভাবতে শুরু করে। বর্তমান
বাস্তবতায় বেকারত্বের এই অসহনীয় চাপ তরুণ সমাজে ঠিক কী কী ধরনের ভয়াবহ সংকট তৈরি
করছে, এটি কীভাবে তাদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এর পেছনেই বা
কারণ কী—তা নিয়ে আজ আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে।
বর্তমান বেকারত্ব পরিস্থিতি ও তরুণদের হতাশা
আমাদের দেশে এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’-এর সুবর্ণ সময় চলছে।
অর্থাৎ, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখন তরুণ এবং কর্মক্ষম। কিন্তু এই
কর্মক্ষম তরুণদের আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি না।
শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি
বেকারত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো আমাদের দেশে অশিক্ষিত মানুষের চেয়ে
শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। একজন রিকশাচালক বা দিনমজুর হয়তো কোনো না
কোনো কাজ জুটিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু একজন মাস্টার্স পাস করা তরুণ চাইলেই
রাস্তায় নেমে যেকোনো কাজ করতে পারেন না। সমাজের চোখরাঙানি আর নিজের
আত্মসম্মানবোধ তাকে বাধা দেয়। প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু
সেই তুলনায় কর্মসংস্থান বা চাকরির বাজার বড় হচ্ছে না। ফলে উচ্চশিক্ষার
সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে বছরের পর বছর বেকার বসে থাকতে হচ্ছে এই
তরুণদের।
সরকারি বনাম বেসরকারি চাকরির ইঁদুর দৌড়
আমাদের সমাজে চাকরি বলতে মানুষ মূলত সরকারি চাকরিকেই বেশি নিরাপদ মনে করে। বিশেষ
করে বিসিএস (BCS) বা সরকারি ব্যাংকের চাকরির জন্য তরুণদের মধ্যে যে এক ধরনের
‘ইঁদুর দৌড়’ বা অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা অকল্পনীয়। কয়েক হাজার পদের
বিপরীতে আবেদন করেন কয়েক লাখ তরুণ। এই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে
অনেকেই জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন। অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিতে কাজের
কোনো নিশ্চয়তা নেই, বেতন কম এবং কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত। ফলে বাধ্য হয়েই
তরুণরা বছরের পর বছর একটি সরকারি চাকরির আশায় লাইব্রেরির টেবিলে মাথা গুঁজে পড়ে
থাকছেন, আর প্রতিনিয়ত হতাশার সাগরে ডুব দিচ্ছেন।
বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী সংকট
বেকারত্ব শুধু একজন তরুণের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি তার পরিবার, সমাজ এবং
রাষ্ট্রের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বেকারত্বের চাপে
তরুণ সমাজে বর্তমানে যে বহুমুখী সংকট তৈরি হচ্ছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা
হলো:
পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মসম্মানবোধের সংকট
পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস পরিবার থেকে হয়তো সাপোর্ট দেওয়া হয়, কিন্তু
দিন গড়ানোর সাথে সাথে এই সাপোর্ট পরিণত হয় মানসিক চাপে। “অমুকের ছেলে চাকরি
পেয়েছে, তুই কী করছিস?”, “আর কতদিন বাবার হোটেলে খাবি?”—এমন তীর্যক কথাগুলো
প্রতিদিন শুনতে হয় একজন বেকার তরুণকে। আত্মীয়স্বজন বা পাড়াপড়শির সামনে
যাওয়া বন্ধ করে দেন অনেকেই। ২৫-২৬ বছর বয়সে এসে নিজের হাতখরচ বা ফোনের
এমবি (MB) কেনার টাকা বাবার কাছে চাইতে গিয়ে যে কী পরিমাণ অপরাধবোধ কাজ করে,
তা শুধু একজন বেকার তরুণই বোঝেন। এই তীব্র সামাজিক ও পারিবারিক চাপ তাদের
আত্মবিশ্বাসকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ও বিষণ্ণতা
বেকারত্বের সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। চাকরি
না পাওয়া, সমাজের কটু কথা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাদের গভীরভাবে বিষণ্ণ বা
ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দেয়। বেকার তরুণরা প্রায়ই রাত জাগেন, একা থাকতে
পছন্দ করেন এবং ধীরে ধীরে বন্ধুদের আড্ডা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। এই
মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, হতাশা এবং নিজেকে মূল্যহীন
ভাবার প্রবণতা থেকে বর্তমানে অনেক তরুণ আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথ বেছে
নিচ্ছেন। খবরের কাগজ খুললেই প্রায়শই বেকারত্বের অভিশাপ সইতে না
পেরে তরুণদের আত্মহত্যার খবর আমাদের চোখে পড়ে, যা একটি জাতির জন্য চরম
লজ্জার ও কষ্টের।
মেধা পাচার বা ব্রেইন ড্রেইন
যে তরুণটি তার মেধা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করতে পারত, দেশে সঠিক মূল্যায়ন ও
কর্মসংস্থান না পেয়ে সে বাধ্য হয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। ভালো
রেজাল্ট করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতে
চলে যাচ্ছেন এবং সেখানেই স্থায়ী হচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, দেশে থাকলে তাদের
যোগ্যতার কদর হবে না, বেকারত্বের গ্লানি টানতে হবে। এই মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন
ড্রেইন’-এর ফলে আমাদের দেশ হারাচ্ছে তার সবচেয়ে দক্ষ ও মেধাবী সন্তানদের, যা
দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ক্ষতি।
অপরাধ প্রবণতা ও মাদকের বিস্তার
“অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা”—এই প্রবাদটি বেকারদের ক্ষেত্রে খুব বেশি সত্যি।
একজন তরুণের পকেটে যখন টাকা থাকে না, অথচ তার নানা রকম প্রয়োজন থাকে, তখন
সে সহজেই বিপথগামী হতে পারে। বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট হতাশা ভুলতে অনেক তরুণ
মাদকের ভয়াল থাবায় আটকে পড়ছেন। ইয়াবা, ফেনসিডিল বা অন্যান্য নেশাজাতীয়
দ্রব্যের প্রতি তাদের আসক্তি বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা
জড়িয়ে পড়ছেন চুরি, ছিনতাই বা চাঁদাবাজির মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
এছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনেক সময় বেকার তরুণদের সামান্য কিছু টাকার
প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন।
পারিবারিক জীবন ও বিয়েতে জটিলতা
আমাদের সমাজে একজন বেকার ছেলের বিয়ে করা এক প্রকার অসম্ভব ব্যাপার। বয়স তিরিশ পার
হয়ে গেলেও চাকরি না থাকায় অনেক তরুণ সংসার শুরু করতে পারেন না। আবার যাদের আগে
থেকেই প্রেমের সম্পর্ক থাকে, বেকারত্বের কারণে তাদের সেই সম্পর্কগুলো ভেঙে যায়।
চাকরি নেই বলে ভালোবাসার মানুষটিকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মতো মানসিক
যন্ত্রণার শিকার হতে হয় অনেককে। এই বিষয়গুলো তরুণদের মনে সমাজ ও
ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম দেয়।
বেকারত্ব বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ
তরুণদের এই দুরবস্থার জন্য শুধু তারা নিজেরা দায়ী নন, বরং আমাদের সিস্টেম বা
ব্যবস্থাও অনেকাংশে দায়ী। বেকারত্বের এই পাহাড়সমান চাপের পেছনে
প্রধান কিছু কারণ রয়েছে:
ত্রুটিপূর্ণ ও সেকেলে শিক্ষাব্যবস্থা
আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত মুখস্থবিদ্যা ও থিওরি নির্ভর। শিক্ষার্থীরা
শুধু পরীক্ষার খাতায় লিখে সার্টিফিকেট অর্জন করেন, কিন্তু বাস্তব জীবনের
কাজের জন্য কোনো দক্ষতা অর্জন করেন না। শিল্পের বা করপোরেট দুনিয়ার কী ধরনের
কর্মী প্রয়োজন, আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী ধরনের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে—এর মধ্যে
যোজন যোজন দূরত্ব রয়েছে। কারিগরি জ্ঞান, কম্পিউটার স্কিল, বা যোগাযোগের
দক্ষতা না থাকার কারণে উচ্চশিক্ষিত হয়েও তারা চাকরির বাজারে অযোগ্য বলে
বিবেচিত হচ্ছেন।
স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য
“মামা-চাচার জোর না থাকলে চাকরি হয় না”—এই কথাটি এখন আর শুধু প্রবাদ নয়, বরং অনেক
ক্ষেত্রেই রুঢ় বাস্তবতা। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস
এবং ঘুষ বাণিজ্যের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। লাখ লাখ টাকা ঘুষ
দিয়ে চাকরি পাওয়ার এই সিস্টেম মেধাবী তরুণদের মনে চরম হতাশার সৃষ্টি করছে।
মেধার চেয়ে যখন টাকার বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল্য বেশি হয়, তখন তরুণদের
বেকার থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধীরগতি
অর্থনীতিবিদরা বলে থাকেন দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি
পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না। এটিকে ‘জবলেস গ্রোথ’ বা
কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি বলা হয়। নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি হচ্ছে না,
বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসছে না। অন্যদিকে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও
অটোমেশনের কারণে অনেক মানুষের কাজ এখন যন্ত্র বা এআই (AI) করে দিচ্ছে। ফলে
চাকরির বাজার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।
সংকট উত্তরণে আমাদের কী করণীয়
এই ভয়াবহ সংকট থেকে তরুণ সমাজকে বের করে আনতে হলে রাষ্ট্র, পরিবার এবং সমাজকে
একযোগে কাজ করতে হবে। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ এই পরিস্থিতি বদলে দিতে
পারে:
কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার
শুধু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত না করে তরুণদের কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষায় দক্ষ করে
তুলতে হবে। আইটি (IT), ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, এবং
বিভিন্ন ট্রেড কোর্সের মাধ্যমে তরুণদের হাতে-কলমে কাজ শেখাতে হবে। যাতে পড়াশোনা
শেষ করে তারা অন্যের দরজায় চাকরির জন্য না ঘুরে নিজেরাই নিজেদের কাজের ব্যবস্থা
করতে পারে।
উদ্যোক্তা তৈরিতে সহজ অর্থায়ন
আমাদের তরুণদের মনমানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। সবাইকে যে চাকরিজীবী হতে হবে, এমন
কোনো কথা নেই। বরং তরুণদের “চাকরিপ্রার্থী” না হয়ে “চাকরিদাতা” বা উদ্যোক্তা
হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। সরকার ও ব্যাংকগুলোকে নতুন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে,
বিনা জামানতে এবং স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে। ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাইসেন্স পাওয়ার হয়রানি দূর করতে
হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
সরকারি ও বেসরকারি সকল চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং
মেধাভিত্তিক করতে হবে। ঘুষ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে
চাকরি নিশ্চিত করলে তরুণদের মাঝে আস্থা ফিরে আসবে।
পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা দরকার আমাদের পরিবার ও সমাজে। একজন বেকার তরুণকে কটূক্তি না
করে, তাকে মানসিকভাবে সমর্থন দিতে হবে। সরকারি চাকরিই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে
পারে না—এই মানসিকতা থেকে অভিভাবকদের বেরিয়ে আসতে হবে। সন্তান সৎ পথে যে কাজই
করুক না কেন, তাকে সম্মান করতে শিখতে হবে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বেকারত্বের চাপ বর্তমান তরুণ সমাজের জন্য এক নীরব ঘাতক, যা তাদের
মেধা, স্বপ্ন এবং জীবনকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যে তরুণদের হাত ধরে দেশ
এগিয়ে যাওয়ার কথা, তারা আজ হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আত্মহত্যার পথ
খুঁজছে, যা কোনোভাবেই একটি স্বাধীন ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রের জন্য কাম্য হতে
পারে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, তরুণ সমাজ যদি এই বেকারত্বের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকে, তবে
দেশের কোনো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা মেগা প্রকল্পই দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।
শিক্ষিত ও মেধাবী এই জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা সম্পদে পরিণত করতে না পারি, তবে
এরাই একসময় রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা ও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই
এখনই সময় তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা, শিক্ষাব্যবস্থাকে
যুগোপযোগী করা এবং তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সব ধরনের বাধা দূর
করা। সমাজ ও রাষ্ট্রের একটু আন্তরিকতা এবং সঠিক পরিকল্পনাই পারে বেকারত্বের এই
ভয়াল অভিশাপ থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এবং তাদের হাত ধরেই রচিত হতে
পারে এক সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ।
















