তাহেরপুর কলেজ স্টুডেন্ট গ্রুপকে রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড ও হসপিটালের বিশেষ সংবর্ধনা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সমাজের কল্যাণে তরুণ প্রজন্মের কোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি পেলে তাদের কাজের গতি ও উৎসাহ বহুগুণ বেড়ে যায়। ঠিক এমন একটি চমৎকার ও প্রেরণাদায়ক ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। এলাকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং সামাজিক নানা কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘তাহেরপুর কলেজ-স্টুডেন্ট গ্রুপ’-কে বিশেষ সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছে রাজশাহীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটাল’। তরুণদের ভালো কাজে উৎসাহিত করতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের এমন উদ্যোগ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

আজ ২৮ জুন শুক্রবার সকাল ঠিক ১১টার দিকে রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটালের প্রধান কার্যালয়ে অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে এই সম্মাননা স্মারক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমান যুগে তরুণরা যখন মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে, তখন তাহেরপুর কলেজের একদল শিক্ষার্থী এই ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই নিঃস্বার্থ কাজের মূল্যায়ন করতেই মূলত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তাহেরপুর কলেজ স্টুডেন্ট গ্রুপের সদস্যদের হাতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটালের সুযোগ্য পরিচালক এম এ মালেক। স্টুডেন্ট গ্রুপের পক্ষে এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন গ্রুপের প্রধান অ্যাডমিন জামিরুল জিহাদ এবং মডারেটর মো. আতিকুর রহমানসহ গ্রুপের অন্যান্য সক্রিয় নেতৃবৃন্দ। সম্মাননা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে এক অন্যরকম আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সাধারণত ছাত্রজীবনে এমন বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে শিক্ষার্থীদের মনে দেশ ও দশের জন্য আরও ভালো কিছু করার ১০০% জেদ তৈরি হয়।

সম্মাননা প্রদানকালে রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক এম এ মালেক উপস্থিত সবার উদ্দেশে অত্যন্ত চমৎকার ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “তরুণ ও যুবসমাজই হলো একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি। আজকের এই তরুণেরাই আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে। তাহেরপুর কলেজ স্টুডেন্ট গ্রুপ যেভাবে নিজেদের এলাকার শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক এবং সামাজিক কার্যক্রমে নিঃস্বার্থভাবে অবদান রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলাকার স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটাল সব সময় এ ধরনের উদ্যোগী তরুণদের পাশে থাকবে এবং তাদের আর্থিক ও মানসিকভাবে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে।”

সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করার পর গ্রুপের অ্যাডমিন জামিরুল জিহাদ ও মডারেটর মো. আতিকুর রহমান তাদের যৌথ প্রতিক্রিয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “এই সম্মাননা আমাদের পুরো গ্রুপের কাজের গতি এবং সমাজের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ আরও অনেক বেশি বাড়িয়ে দিল। আমরা সাধারণত কোনো লাভের আশায় কাজ করি না, কিন্তু রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের এই স্বীকৃতি ও ভালোবাসার জন্য আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আগামী দিনে আমরা এই গ্রুপের মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে এবং এলাকার রক্তদাতাদের একটি বড় ডেটাবেস তৈরি করতে কাজ করব।”

আমাদের দেশে বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলো সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় অনেক বড় ভূমিকা রাখছে। দেশের মোট চিকিৎসা সেবার প্রায় ৬০% থেকে ৭০% এখন বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। রয়্যাল আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড হসপিটালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের বাৎসরিক আয়ের মাত্র ১% বা ২% অংশও এমন সামাজিক কাজে বা তরুণদের উৎসাহ দিতে ব্যয় করে, তবে সমাজ খুব দ্রুত বদলে যাবে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি ছোট সম্মাননা বা সামান্য কিছু আর্থিক সাহায্য পেয়ে একটি তরুণ দল সমাজের বড় কোনো সমস্যার সমাধান করে ফেলে। তাই অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত তরুণদের এমন ভালো কাজগুলোতে পাশে দাঁড়ানো।

এই চমৎকার অনুষ্ঠানে হসপিটালের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় সুধীসমাজের প্রতিনিধি এবং তাহেরপুর কলেজের বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই করতালি দিয়ে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উপস্থিত বক্তারা সবাই একবাক্যে ভবিষ্যতে এই স্টুডেন্ট গ্রুপের আরও বড় সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাহেরপুর কলেজ স্টুডেন্ট গ্রুপের এই কাজের মডেল দেখে আগামী দিনে রাজশাহীর অন্যান্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সমাজকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসবে এবং একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ১০০% ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ