ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সাধারণ মানুষের উদ্যোগ সব সময়ই প্রশংসনীয়। কিন্তু এই ভালো কাজের আড়ালে যদি কেউ নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা সমাজের জন্য আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ঠিক এমনই এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে মাদক নির্মূলের আড়ালে চাঁদাবাজি, মব বা বিশৃঙ্খল জনতা সৃষ্টি করে দোকান ও বাড়ি ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মাদক দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এসব ঘটনার সাথে জড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নামেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার বিকেলে পীরগঞ্জে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলার এক্তিয়ারপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন লিবন এবং ভাবনাগঞ্জ বাজার এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সংবাদ সম্মেলনে এলাকার নানা বয়সের শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, একটি নির্দিষ্ট কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মাদকের নাম ব্যবহার করে এলাকায় চরম ত্রাস ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষ এখন তাদের ভয়ে শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চলাফেরাও করতে পারছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত জোরালো ও প্রতিবাদী বক্তব্য রাখেন এক্তিয়ারপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন লিবন, পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বাকাউল্লাহ চৌধুরী রিংকু, ৫ নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সব সময়ই জিরো টলারেন্স বা ০% ছাড় দেওয়ার পক্ষে। কিন্তু মাদকের নাম করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে ঘটনার পেছনের আসল সত্যটি তুলে ধরেন। তারা জানান, “আমরাই প্রথমে আমাদের এলাকার সচেতন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। আমাদের সেই উদ্যোগ বেশ সফলও হয়, এলাকা থেকে মাদকের বিস্তার প্রায় ৮০% থেকে ৯০% কমে আসে। কিন্তু আমাদের এই ভালো কাজ দেখে একটি অসাধু মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই মহলটি আমাদের বিরুদ্ধেই চরম মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতে শুরু করে। তারা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বলছে যে, আমরা নাকি উল্টো মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা বা চাঁদা নিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করছি।”

এই অপপ্রচারের কারণে এলাকায় তাদের সম্মানহানি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তারা বলেন, “আমাদের সমাজে হেয়প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার লক্ষ্যেই মূলত একটি কুচক্রী মহল এই মিথ্যা গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তারা রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করছে। এমনকি নিরীহ মানুষদের পকেটে জোর করে কয়েক পিস ইয়াবা বা গাঁজা ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজও তারা করছে।” অনেক সময় মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়ে একটি সাধারণ পরিবারকে উকিল ও পুলিশের পেছনে ৫০থেকে১০০(ডলার) বা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অযথাই খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম আর্থিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই কুচক্রী মহলটি শুধু ব্যক্তিবিশেষকেই আক্রমণ করছে না, তারা সুকৌশলে বিএনপির নামও ব্যবহার করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি নেতারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, এই চাঁদাবাজি বা ভাঙচুরের সাথে বিএনপির কোনো স্তরের কোনো নেতার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে জোর দাবি জানান, যেন এই কুচক্রী মহলটিকে দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষ একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ নেন। তারা বলেন, কোনো অপপ্রচার বা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের এই ভালো কাজ থামানো যাবে না। তবে প্রশাসন যদি এই চাঁদাবাজ চক্রটিকে এখনই শক্ত হাতে দমন না করে, তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের দাবি, পুলিশ যেন কোনো নির্দোষ মানুষকে হয়রানি না করে এবং প্রকৃত অপরাধীদের ধরে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ