মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসায় বাড়ছে শৈলকুপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলো শৈলকুপা। শান্ত ও ছিমছাম এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা মূলত কৃষিনির্ভর ও অত্যন্ত সহজ-সরল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই শান্ত এলাকায় একটি নীরব ঘাতক অত্যন্ত ভয়ানকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর তা হলো মাদক। উঠতি বয়সী তরুণ থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ মানুষ এই মাদকের ভয়াল থাবায় নিজেদের সুন্দর জীবন ধ্বংস করছিল। তবে অত্যন্ত আশার কথা হলো, শৈলকুপার আকাশে জমে থাকা এই মাদকের কালো মেঘ এখন কাটতে শুরু করেছে। শৈলকুপা থানা পুলিশের লাগাতার ও সাহসী তৎপরতায় মাদকের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে, শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা নিজের দক্ষ নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসায় ভাসছেন। তাঁর এই মহতী উদ্যোগ শৈলকুপার সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটিয়েছে এবং সমাজে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

শৈলকুপায় মাদকের ভয়াবহ থাবা ও অতীত চিত্র

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন শৈলকুপার অলিতে-গলিতে, পাড়ার মোড়ে বা গ্রামের চায়ের দোকানে মাদকের অবাধ বেচাকেনা চলত। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ নানা ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য খুব সহজেই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের হাতে পৌঁছে যেত। এই মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক কলহের মতো নানা অপরাধ মারাত্মক হারে বেড়ে গিয়েছিল। অনেক বাবা-মা তাদের আদরের সন্তানকে মাদকের নেশায় ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে নীরবে চোখের জল ফেলতেন। কিন্তু লোকলজ্জা আর প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। মাদকের এই অবাধ রাজত্ব পুরো শৈলকুপার সামাজিক পরিবেশকে চরম বিষাক্ত করে তুলেছিল।

ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার যোগদান ও জিরো টলারেন্স নীতি

শৈলকুপা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে হুমায়ুন কবির মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকার পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। তিনি দায়িত্ব নিয়েই মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাদক কারবারি সে যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই আইনের হাত থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর এই দৃঢ় অবস্থান ও সুস্পষ্ট বার্তা পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও নতুন কাজের স্পৃহা তৈরি করে। তিনি শুধু অফিসে বসে নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং সরাসরি মাঠে নেমে নিজের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা শুরু করেন।

সাঁড়াশি অভিযান ও মাদক কারবারিদের পতন

ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় শৈলকুপার গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে শুরু হয় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান। দিন-রাত এক করে পুলিশ সদস্যরা মাদকের আখড়াগুলোতে হানা দিতে থাকেন। তাঁর এই টানা অভিযানে শৈলকুপায় বহু মাদক কারবারি গ্রেফতার হয়েছে। শুধু খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারী নয়, বরং মাদকের বড় বড় ডিলার এবং সাপ্লায়াররাও পুলিশের এই জালে ধরা পড়েছে। এর ফলে শৈলকুপায় মাদকের মূল নেটওয়ার্ক বা শিকড় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। পুলিশের এই লাগাতার কঠোর অভিযানের কারণে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার উদ্যোগ

যেকোনো দেশ বা সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ হলো তার তরুণ সমাজ। কিন্তু মাদক সেই তরুণ সমাজকেই তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়, তাদের মেধা ও সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়। শৈলকুপায় পুলিশের এই কঠোর অভিযানের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে এই আগামী প্রজন্ম। যারা সবেমাত্র কৌতূহলবশত মাদকের দিকে ঝুঁকছিল, পুলিশের এমন কঠোর তৎপরতা দেখে তারা এখন ভয়ে পিছিয়ে আসছে। অন্যদিকে, যারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল, মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবার এখন তাদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছে। ওসি সাহেবের এই উদ্যোগ মূলত আগামী প্রজন্মকে রক্ষার এক মহান প্রচেষ্টা।

সাধারণ মানুষের মনে ফিরে আসা পরম স্বস্তি

পুলিশের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর শৈলকুপার সাধারণ মানুষের মনে এক পরম স্বস্তি ফিরে এসেছে। যে বাবা-মায়েরা একসময় রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন না সন্তানের চিন্তায়, তারা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। পাড়া-মহল্লায় এখন আর বখাটেদের সেই পুরনো আড্ডা বা উৎপাত চোখে পড়ে না। সাধারণ মানুষ চায়ের দোকানে বসে এখন পুলিশের, বিশেষ করে ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার সাহসিকতার গল্প করেন। একসময় যে মানুষগুলো পুলিশের কাছে যেতে ভয় পেতেন বা পুলিশকে এড়িয়ে চলতেন, আজ তারাই পুলিশের এই চমৎকার কাজে মুগ্ধ হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা

মাদকের মতো একটি শিকড় গেড়ে বসা জঘন্য অপরাধ কেবল পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এই অভিযানে পুলিশের সফলতার পেছনে স্থানীয় সাধারণ মানুষেরও বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার আন্তরিক ব্যবহার ও জনবান্ধব নীতির কারণে সাধারণ মানুষ এখন নির্ভয়ে পুলিশকে গোপন তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন। কোথায় মাদক বিক্রি হচ্ছে, কারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত এসব তথ্য সাধারণ মানুষই পুলিশকে জানাচ্ছেন। জনগণ এবং পুলিশের এই যে বন্ধুসুলভ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা, এটাই মূলত শৈলকুপায় মাদক কারবারিদের মেরুদণ্ড চিরতরে ভেঙে দিয়েছে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্ব

মাদকের বিরুদ্ধে এমন সফল অভিযান পরিচালনা করা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল মাইলফলক ও গর্বের বিষয়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ একদিনের বা এক মাসের নয়। গ্রেফতার হওয়া কারবারিরা যেন আইনের ফাঁকফোকর গলে বের হয়ে আবারও একই পেশায় জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে কঠোর আইনি নজরদারি রাখতে হবে। পাশাপাশি, তরুণদের জন্য গ্রামে গ্রামে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা অলস সময়ে বাজে চিন্তায় বা নেশায় মগ্ন না হয়। সুস্থ বিনোদনের সুযোগ থাকলে মাদকের চাহিদা এমনিতেই কমে যাবে এবং সমাজ সত্যিকার অর্থেই মাদকমুক্ত হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে শৈলকুপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা প্রমাণ করেছেন যে সদিচ্ছা, সততা ও দেশপ্রেম থাকলে সমাজ থেকে যেকোনো অপরাধ দূর করা সম্ভব। তাঁর এই অদম্য সাহসিকতা আমাদের সমাজে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তিনি আজ শৈলকুপার মানুষের কাছে শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাই নন, বরং একজন প্রকৃত সমাজ সংস্কারক ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আমরা আশা করি, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর এই জেহাদ যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়। পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুতই শৈলকুপা একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, শান্ত ও সুন্দর মডেল উপজেলা হিসেবে সারা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠবে, এটাই আমাদের সবার প্রাণের প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এর মাসিক মিটিং এর পরই শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন দালাল মুক্ত করুন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভীত মজবুত হতে শুরু করেছে