শৈলকুপায় মধ্যরাতে পুলিশের হানা: ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সমাজ থেকে মাদকের মতো ভয়াল ব্যাধি দূর করতে শৈলকুপা থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। এরই একটি বড় অংশ হিসেবে গত ১৬ জুন মঙ্গলবার গভীর রাতে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি বিশেষ ও সাহসী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশের এই ঝটিকা অভিযান এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় এবং শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামানের সার্বিক সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ টহল ও অভিযান ডিউটি পালন করছিল। এই দলে ছিলেন এএসআই মো. ফেরদৌস কবিরসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্স। তারা রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা থানাধীন খুলুমবাড়ী বাজার এলাকায় ওত পেতে থাকেন।

পুলিশের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে, ওই বাজারে গভীর রাতে মাদকের একটি চালান হাতবদল হবে। ঠিক সেই অনুযায়ী পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সতর্ক পুলিশ সদস্যরা দ্রুত চারপাশ ঘিরে ফেলে তাদের দুজনকে দৌড়ে ধরে ফেলেন। এরপর তাদের শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেটে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২০ পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এই ইয়াবাগুলো মূলত এলাকার তরুণ ও যুবকদের কাছে বিক্রির জন্যই সেখানে আনা হয়েছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই মাদক কারবারির পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজনের নাম মো. কাউসার আলী শেখ। তার বয়স ৪৫ বছর এবং তার পিতার নাম মো. সরমান মুন্সী। গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। তার বয়স ৩৫ বছর এবং তার পিতার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। এই দুই আসামিরই গ্রামের বাড়ি শৈলকুপা থানার ফাজিলপুর এলাকায়। বয়সের পার্থক্য থাকলেও তারা দুজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অত্যন্ত গোপনে এই মরণনেশা ইয়াবার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সাধারণ মানুষ তাদের এই ব্যবসার কথা জানলেও, তাদের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

বর্তমানে আমাদের দেশে ইয়াবা একটি মারাত্মক জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের যুবসমাজের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% মানুষ নানাভাবে এই মাদকের কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ এই মাদক ব্যবসার কারণে দেশ থেকে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ()বিদেশেপাচারহয়েযাচ্ছে।চোরাকারবারিরাখুবকমদামেতৈরিহওয়াএকেকটিইয়াবাট্যাবলেটসাধারণতরুণদেরকাছে২)বিদেশেপাচারহয়েযাচ্ছে।চোরাকারবারিরাখুবকমদামেতৈরিহওয়াএকেকটিইয়াবাট্যাবলেটসাধারণতরুণদেরকাছে২থেকে ৩$ (ডলার) বা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। এই ব্যবসায় তারা প্রায় ২০০% থেকে ৩০০% পর্যন্ত অবৈধ মুনাফা লাভ করে থাকে।

মাদকের কারণে শুধু যে একজন ব্যক্তি নষ্ট হয় তা নয়, বরং একটি সাজানো গোছানো পরিবারও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। যারা নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে, তারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা খুনের মতো ভয়ংকর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, গ্রামগঞ্জে ঘটা বিভিন্ন অপরাধের প্রায় ৮০% ঘটনার পেছনেই থাকে এই মাদকের মারাত্মক প্রভাব। নেশায় আসক্ত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা-মায়েরা সব সময় এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটান। অনেক সময় পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের সুস্থ জীবনে ফেরাতে রিহ্যাব সেন্টারে প্রচুর টাকা খরচ করতে বাধ্য হয়, যা অনেক গরিব পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।

শৈলকুপা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কাউসার ও সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবে, যাতে এই ইয়াবার মূল চালান কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর আসল সরবরাহকারী, সেই প্রকৃত তথ্য বের করে আনা যায়। শৈলকুপাকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষও যদি ভয় না পেয়ে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করে, তবে সমাজ থেকে এই মরণব্যাধি খুব দ্রুতই চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এর মাসিক মিটিং এর পরই শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন দালাল মুক্ত করুন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভীত মজবুত হতে শুরু করেছে