দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা, প্রবেশ না করেই ঢাকায় ফিরলেন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি এক চরম অবমাননাকর ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। গত রোববার বিকেলে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে ভারতের উচ্চ মহলের নির্দেশে তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অপমানের প্রতিবাদে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে আজ সোমবার সরাসরি ঢাকায় ফিরে আসেন।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র মতে, রোববার বিকেল ৫টার পর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে নামার পরপরই তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এরপর নিয়ম অনুযায়ী হাইকমিশনার নিজেই তাঁকে ইমিগ্রেশন ডেস্কে নিয়ে যান। একজন ভিআইপি অতিথির ক্ষেত্রে সাধারণত ইমিগ্রেশনের কাজ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় বিপত্তি।

হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার পাসপোর্ট হাতে নিয়ে তার ব্যক্তিগত বৃত্তান্ত কম্পিউটার স্ক্রিনে খুব মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করছেন, কিন্তু মুখে কিছুই বলছেন না। এভাবে প্রায় ১৫ মিনিট কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তখন বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিজেই ওই কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, ‘পাসপোর্টে বা নথিতে কোনো সমস্যা আছে কি না?’ কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই ভারতীয় কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন।

এর কিছুক্ষণ পর ওই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা হঠাৎ জাহেদ উর রহমানের জন্মস্থান কোথায় এবং তিনি এর আগে কখনো ভারত সফর করেছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এরপর তিনি ডেস্ক থেকে উঠে ভেতরের একটি রুমে চলে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি জাহেদ উর রহমানের আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান নেন। এই সাধারণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা অত্যন্ত উদাসীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বলেন, ‘আপনি সোফায় গিয়ে বসুন। আপনার কাজে কিছুটা সময় লাগবে।’ একজন রাষ্ট্রের সম্মানীত উপদেষ্টার সঙ্গে এমন আচরণ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লি বিমানবন্দরে এমন অহেতুক কালক্ষেপণ এবং অবমাননাকর আচরণ দেখে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আর চুপ করে থাকেননি। তিনি দ্রুত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তাদের মধ্যে ফোনে বেশ কয়েক দফা কথা হয়। একপর্যায়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে অত্যন্ত অবাক করা একটি তথ্য জানানো হয়। তারা জানায়, ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগের নথিতে জাহেদ উর রহমানের নাম ‘বারড’ বা কালো তালিকাভুক্ত ওয়াচলিস্টে দেখানো হচ্ছে। তাই তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাচ্ছে না।

এমন চরম অবমাননাকর ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সরাসরি ঢাকায় সরকারের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মহলে যোগাযোগ করেন। পুরো ঘটনা শোনার পর ঢাকার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি আত্মসম্মান বজায় রেখে আর ভারতে প্রবেশ না করে সরাসরি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। যখন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভারতীয় ইমিগ্রেশন থেকে তার পাসপোর্ট ফেরত চান, তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা হঠাৎ সুর পাল্টান। তারা জানান, জাহেদ উর রহমানের ছাড়পত্র হয়ে গেছে এবং তিনি এখন চাইলে অনায়াসে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

দিল্লির বিমানবন্দরে টানা আড়াই ঘণ্টা ধরে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সময় ইমিগ্রেশনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের পাশাপাশি অনেক বাংলাদেশি যাত্রীও এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিবেশী দেশের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে ১০০% নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, কূটনৈতিক পর্যায়ে এমন ঘটনা খুব বিরল। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে এই হয়রানি দেশের সাধারণ মানুষের মনেও ভারত সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এর মাসিক মিটিং এর পরই শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন দালাল মুক্ত করুন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভীত মজবুত হতে শুরু করেছে