শৈলকুপায় মধ্যরাতে পুলিশের ঝটিকা অভিযান: ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং সমাজকে কলুষমুক্ত করতে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলাও এর বাইরে নয়। এই উপজেলার তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বেশ কিছুদিন ধরে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন মঙ্গলবার গভীর রাতে শৈলকুপা থানা পুলিশ একটি সফল ও সাহসী অভিযান চালিয়েছে। উপজেলার বিপ্রবগদিয়া এলাকা থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে তারা। পুলিশের এই সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মনে গভীর স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ঝিনাইদহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় এবং শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামানের সার্বিক সহযোগিতায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ টহল ও অভিযান ডিউটি পালন করছিল। এই দলে ছিলেন এসআই মো. তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্স। তারা রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা থানাধীন বিপ্রবগদিয়া এলাকায় ওত পেতে থাকেন।

পুলিশের কাছে আগে থেকেই একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য খবর ছিল যে, বিপ্রবগদিয়া এলাকায় গভীর রাতে মাদকের একটি বড় চালান হাতবদল হবে। ঠিক সেই অনুযায়ী পুলিশ সেখানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সতর্ক পুলিশ সদস্যরা দ্রুত চারপাশ ঘিরে ফেলে তাকে দৌড়ে ধরে ফেলেন। এরপর তার শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেটে লুকানো অবস্থায় ৪০ পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মূলত এলাকার তরুণ ও যুবকদের কাছে বিক্রির জন্যই সেখানে আনা হয়েছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই মাদক কারবারির পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম রিপন বিশ্বাস, তবে এলাকায় সে রিকু নামেই বেশি পরিচিত। তার পিতার নাম মো. মোতাহার বিশ্বাস এবং তার গ্রামের বাড়ি শৈলকুপা থানার পাইকপাড়া এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিকু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের সন্দেহজনক কাজের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের টার্গেট করে সে অত্যন্ত গোপনে এই মরণনেশা ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সাধারণ মানুষ তার এই অবৈধ ব্যবসার কথা জানলেও, তার ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

বর্তমানে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক প্রবেশ করে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য মতে, দেশের গ্রামগঞ্জে ঘটা চুরি, ছিনতাই, মারামারি বা কিশোর অপরাধের প্রায় ৭০% থেকে ৮০% ঘটনার পেছনেই এই মাদকের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তরুণরা একবার ইয়াবার মতো ভয়ংকর নেশায় জড়ালে তাদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। মাদক কারবারিরা মূলত নিজেদের পকেট ভারী করতে এই সমাজকে ধ্বংস করছে। আন্তর্জাতিক কালো বাজারে খুব কম দামে তৈরি হওয়া একেকটি ইয়াবা ট্যাবলেট তারা সাধারণ তরুণদের কাছে ২থেকে৩(ডলার) বা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। এই ব্যবসায় তারা প্রায় ২০০% থেকে ৩০০% পর্যন্ত অবৈধ মুনাফা লাভ করে থাকে।

মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সচ্ছল পরিবারও আজ আর্থিকভাবে পথে বসছে। একজন মাদকাসক্ত সন্তানকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে বা রিহ্যাবে পাঠাতে একটি পরিবারকে অনেক সময় ৫০০থেকে১০০০ ডলার বা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো বিশাল অঙ্ক খরচ করতে হয়। গ্রামের সাধারণ কৃষক, দিনমজুর বা মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ চিকিৎসার খরচ মেটানো ১০০% অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম হতাশা ও কান্নার মধ্যে দিন পার করে।

শৈলকুপা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া রিপন বিশ্বাস ওরফে রিকুর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবে, যাতে এই ৪০ পিস ইয়াবার মূল চালান কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর আসল সরবরাহকারী বা গডফাদার, সেই প্রকৃত তথ্য বের করে আনা যায়। শৈলকুপাকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষও যদি ভয় না পেয়ে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করে, তবে সমাজ থেকে এই মরণব্যাধি খুব দ্রুতই চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এর মাসিক মিটিং এর পরই শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন দালাল মুক্ত করুন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভীত মজবুত হতে শুরু করেছে