অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সহজ ও সঠিক উপায়

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অস্ট্রেলিয়া এখন অন্যতম পছন্দের একটি দেশ। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা, চমৎকার আবহাওয়া এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ—সব মিলিয়ে দেশটি শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। তবে অনেকেই মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়া খুব কঠিন একটি কাজ। আসলে নিয়মকানুনগুলো ঠিকঠাক মেনে চললে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া বেশ সহজ। আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ পার হতে হবে। চলুন জেনে নিই ভিসা পাওয়ার সেই গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পর্কে।

ভিসা আবেদনের প্রথম ধাপই হলো আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি ‘অফার লেটার’ বা ভর্তির প্রস্তাবপত্র পাওয়া। আপনি যখন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে কোনো কোর্সে আবেদন করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে যোগ্য মনে করবে, তখন তারা আপনাকে এই চিঠি পাঠাবে। অফার লেটারে আপনার কোর্সের নাম, মেয়াদ, কত টাকা টিউশন ফি দিতে হবে এবং ভর্তির সব শর্ত পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে অফার লেটার গ্রহণ করার আগে শর্তগুলো খুব ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে কোনো কারণে ভর্তি বাতিল করলে তারা কত শতাংশ টাকা ফেরত দেবে, সেই রিফান্ড পলিসিটি অবশ্যই জেনে নিতে হবে।

অফার লেটার পাওয়ার পর আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী প্রথম সেমিস্টারের টিউশন ফি বা নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হবে। আপনি টাকা জমা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে একটি চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিতকরণ সনদ পাঠাবে। একে বলা হয় কনফারমেশন অব এনরোলমেন্ট বা সংক্ষেপে সিওই (CoE)। এই সিওই কাগজটি আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি প্রমাণ করে যে আপনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একজন ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয়েছেন। ভিসা আবেদনের সময় এই সিওই নম্বরটি আপনাকে অবশ্যই জমা দিতে হবে।

যেহেতু অস্ট্রেলিয়ার মানুষের মাতৃভাষা ইংরেজি এবং সেখানে পড়াশোনাও ইংরেজিতেই হয়, তাই আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি ইংরেজি ভাষা ভালোভাবে বোঝেন। এর জন্য আপনাকে আইএলটিএস (IELTS), টোয়েফল বা পিটিই-এর মতো কোনো একটি স্বীকৃত ইংরেজি ভাষার পরীক্ষা দিতে হবে। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৬.০ বা ৬.৫ স্কোর চেয়ে থাকে। আপনার ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণের এই স্কোরশিট ভিসা আবেদনের সময় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি হয় আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের জায়গায়। অস্ট্রেলিয়ার সরকার দেখতে চায়, বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা এবং থাকার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য আপনার আছে কি না। বর্তমানে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে এক বছরের থাকা-খাওয়ার খরচ হিসেবে অন্তত ২৯,৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেখাতে হয়। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকার সমান। এর পাশাপাশি আপনার এক বছরের টিউশন ফি এবং যাওয়া-আসার বিমান ভাড়ার টাকাও ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে। আপনি চাইলে নিজের পরিবারের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা এডুকেশন লোনের কাগজ দিয়ে এই আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ খুব গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে যে আপনি সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে সেখানে যাচ্ছেন কি না। ভিসা আবেদনপত্রে আপনাকে একটি বড় চিঠি বা স্টেটমেন্ট লিখতে হয়। সেখানে আপনাকে সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে হবে কেন আপনি এই কোর্সটি বেছে নিলেন, কেন অন্য দেশ বাদ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে চাইছেন এবং পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসে আপনি কী করবেন। আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার নাড়ির টান আছে এবং আপনি কোর্স শেষে দেশে ফিরে আসবেন।

অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা বা ‘ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কভার’ করা ১০০% বাধ্যতামূলক। আপনি যত দিন সেখানে থাকবেন, ঠিক তত দিনের জন্যই আপনাকে এই বিমা কিনতে হবে। বিমার কাগজ ছাড়া আপনি কোনোভাবেই ভিসা পাবেন না। আবেদন করার পর আপনাকে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে হবে। একই সঙ্গে আপনার নামে থানায় কোনো মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই, তা প্রমাণ করার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ জমা দিতে হয়।

সব কাগজপত্র ঠিকঠাক গুছিয়ে নেওয়ার পর আপনাকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের ‘ইমিঅ্যাকাউন্ট’ ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে ভিসার আবেদন করতে হবে। এই কাজের জন্য কোনো এজেন্টের কাছে যাওয়া একেবারেই বাধ্যতামূলক নয়; আপনি নিজেই ঘরে বসে আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনি যদি মনে করেন আপনার পেশাদার কারও সাহায্য দরকার, তবে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত মাইগ্রেশন এজেন্টের সাহায্য নেবেন। সব শেষে মনে রাখবেন, অভিবাসন আইন প্রায়ই পরিবর্তন হয়। তাই সব সময় তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রেখে নিজেকে আপডেট রাখবেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ