ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলা: আজ রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি আসিফ মাহমুদের

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এক অতর্কিত হামলা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির মুখপাত্র এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সরকারকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন। আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, আজ শুক্রবার রাতের মধ্যেই এই হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো রাজপথে সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তবে এনসিপিও বাধ্য হয়ে একই পথ ধরবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে একটি বড় যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি। এই অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গড়া রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) ঢাকার দুই মহানগরের ২২৯ জন নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানেই বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো বারবার সদিচ্ছা দেখালেও সরকারি দল ইচ্ছা করেই রাজপথে সংঘাত উসকে দিচ্ছে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

আসিফ মাহমুদ ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের বয়স হয়তো কম এবং রক্ত বেশ গরম, কিন্তু তারা খুব ভালো করেই জানেন কখন দেশ গড়ার কাজ করতে হবে আর কখন রাজপথে নামতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারি দল যদি সংঘাতকেই তাদের একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে এনসিপিও নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। কারণ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে তারা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন যে রাজপথের লড়াইয়ে তারা কতটা পারদর্শী। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আর নিজেদের এই ব্যর্থতা ঢাকতে তারা এখন বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়নের পুরোনো কৌশল হাতে নিয়েছে।

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে দেশে খুন, ধর্ষণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার চরম অবনতি ঘটেছে। দেশের প্রায় ৪০% থেকে ৫০% মানুষ এখন নিজেদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। আমাদের মা-বোনেরা এখন দিনের বেলায়ও ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর সমালোচনা করেন। আসিফ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিকমতো তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন না। তাঁকে দেখে মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি মনে হয়। এভাবে দেশ চললে সাধারণ মানুষ খুব দ্রুত এই ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে আবার রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপির সঙ্গে লড়াই করা মানে পুরো একটি প্রজন্মের সঙ্গে লড়াই করা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে লড়াই করার চরম ভুল করেছিলেন। তিনি আশা করেন, তারেক রহমান যেন ক্ষমতায় বসে সেই একই ভুল না করেন। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবিতে হামলাকারীদের সবার পরিচয় ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। তাই রাতের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সারজিস জানান, নাসীরুদ্দীন ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঠিক তখনই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাঁর ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ করে। সারজিস সরাসরি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক থেকে শুরু করে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতারা এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, কিছুদিন আগে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের নেতারা সাংবাদিকদের পিটিয়েছিলেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকার সেই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কোনো বিচার করেনি।

সারজিস আলম ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওই শিশুর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন, এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। কিন্তু এই সহমর্মিতা যদি শুধু সাময়িক ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল হয় এবং আগামী ছয় মাসেও ভুক্তভোগী পরিবার বিচার না পায়, তবে জনগণ এই নাটক মেনে নেবে না। বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে সারজিস বলেন, বিগত অভ্যুত্থানে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু তারা যদি এখন বিগত সরকারের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেন, তবে তাদের পতন আগের সরকারের চেয়েও অন্তত ১০০ গুণ বেশি ভয়াবহ হবে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

আজকের এই প্রতিবাদী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন সুলতানা। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

সম্পর্কিত নিবন্ধ