সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজারে যাওয়ার কথা মনে হলেই এখন সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার
ভাঁজ পড়ে যায়। হাতে একটা হাজার টাকার নোট নিয়ে বাজারে গেলে ব্যাগের তলায়
সামান্য কিছু বাজার নিয়ে ফিরতে হয়। আজকাল রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান,
অফিস বা পাড়ার মোড়—সব জায়গায় আলোচনার সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বাজারের আগুন দাম।
“দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি”—শব্দটি শুনতে কিছুটা বইয়ের ভাষার মতো মনে হলেও, এর আসল
রূপটা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক ভয়ংকর আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগে মানুষ হিসাব করত মাস শেষে কত টাকা সঞ্চয় করবে, আর এখন হিসাব করে মাসটা কোনোমতে
পার করবে কীভাবে। আয় বাড়ছে না, কিন্তু খরচের তালিকা প্রতিদিন যেন একটু একটু করে
লম্বা হচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, নুন থেকে শুরু করে এমন কোনো জিনিস নেই যার দাম
বাড়েনি। এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে আমাদের সমাজের নিম্নবিত্ত ও
মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে যে কতটা গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা
বাইরে থেকে সবটা বোঝা যায় না। বর্তমান বাস্তবতায় দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি
জনজীবনকে ঠিক কতটা বিপর্যস্ত করে তুলেছে, এর পেছনের কারণগুলো কী এবং এই
অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী—সেটি নিয়েই আজকের এই বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বর্তমান চিত্র ও বাস্তবতা
বাজারের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে মনে হয়, প্রতিটি জিনিসের দাম যেন প্রতিযোগিতায়
নেমেছে—কে কার চেয়ে বেশি বাড়তে পারে! একটু সাধারণ উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার
হবে।
সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বাজার
যে ডিম একসময় সাধারণ মানুষের প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস ছিল, সেই ডিমের দাম এখন
আকাশছোঁয়া। মাংস কেনা তো বহু আগেই নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে বিলাসিতা হয়ে গেছে,
এখন ব্রয়লার মুরগি বা পাঙাশ মাছ কিনতেও সাধারণ মানুষকে দশবার ভাবতে হয়। চালের
বাজার সব সময়ই অস্থিতিশীল। মোটা চালের দামও এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দিনমজুর বা
রিকশাচালকদের সারাদিনের আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায় শুধু চাল কিনতেই।
পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আলু বা সবজির দামও সিজন বা অফ-সিজন—সব সময়ই চড়া
থাকে।
আয়ের সাথে ব্যয়ের বিশাল ফারাক
পরিসংখ্যান ব্যুরো বা সরকারি হিসেবে মূল্যস্ফীতির যে হার দেখানো হয়, বাস্তবের
বাজারের সাথে তার অনেক ফারাক। সরকারি হিসেবে হয়তো মূল্যস্ফীতি ৯ বা ১০
শতাংশ, কিন্তু বাজারে গিয়ে মানুষ দেখছে অনেক পণ্যের দাম গত এক-দুই বছরে প্রায়
দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যাদের বেতন বা আয় নির্দিষ্ট, যেমন—সরকারি বা বেসরকারি
ছোট চাকরিজীবী, শিক্ষক, বা ছোট ব্যবসায়ী, তাদের আয় কিন্তু এক টাকাও বাড়েনি।
এই আয়ের সাথে ব্যয়ের যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা মেলাতে গিয়ে সাধারণ
মানুষের আক্ষরিক অর্থেই নাভিশ্বাস উঠছে।
জনজীবনে এই ঊর্ধ্বগতির বহুমুখী প্রভাব
দ্রব্যমূল্য বাড়লে শুধু যে পকেটের টাকা বেশি খরচ হয় তা নয়, এর প্রভাব পড়ে মানুষের
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য
এবং মানসিক অবস্থার ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস
সমাজে সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। নিম্নবিত্ত
বা দিনমজুররা হয়তো লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির (TCB) ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারেন বা
প্রকাশ্যে সাহায্য চাইতে পারেন। কিন্তু মধ্যবিত্তের অবস্থা হয়েছে “না পারে সইতে, না
পারে কইতে”। লোকলজ্জার ভয়ে তারা না পারেন লাইনে দাঁড়াতে, না পারেন কারও কাছে হাত
পাততে। মাসের প্রথম দশ দিন পার হতেই তাদের পকেট শূন্য হয়ে যায়। বাসা ভাড়া,
যাতায়াত খরচ, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দেওয়ার পর খাওয়ার জন্য যে টাকা বাঁচে, তা
দিয়ে কোনোমতে টিকে থাকাটাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও পুষ্টিহীনতার শঙ্কা
জিনিসপত্রের দাম বাড়ার প্রথম প্রভাব পড়ে মানুষের প্লেটে। মানুষ এখন বাধ্য হয়ে
খাওয়ার পরিমাণ বা মান কমিয়ে দিয়েছে। আগে যে পরিবারে সপ্তাহে তিন দিন
মাছ বা মাংস রান্না হতো, এখন সেখানে হয়তো এক দিন হয়। ছোট বাচ্চাদের দুধ, ডিম
বা ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার দেওয়া অনেক পরিবারের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু পেট
ভরানোর জন্য মানুষ সস্তা শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (যেমন ভাত বা আলু) বেশি খাচ্ছে
এবং প্রোটিন বা ভিটামিন জাতীয় খাবার বাদ দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে দেশের একটি বড়
অংশের মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা চরম পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছেন।
সঞ্চয় ভেঙে খাওয়া এবং ঋণের বোঝা
ভবিষ্যতের বিপদের কথা ভেবে মানুষ যে সামান্য টাকা জমিয়েছিল, এখন জীবন বাঁচাতে সেই
জমানো টাকা ভেঙে খেতে হচ্ছে। ব্যাংকে বা পোস্ট অফিসে জমানো টাকা তুলে মানুষ
সংসার চালাচ্ছে। যাদের সঞ্চয় নেই, তারা বাধ্য হয়ে ধারদেনা করছেন। মুদি
দোকানে বাকি খাতায় নামের তালিকা বড় হচ্ছে। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ এনজিও
বা চড়া সুদে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে
সেই ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে আরও বড় বিপদে পড়ছেন। একটি ঋণের কিস্তি শোধ করতে
আরেক জায়গা থেকে ঋণ নিচ্ছেন—এভাবেই মানুষ ঋণের এক দুষ্টচক্রে আটকে যাচ্ছে।
শিক্ষা ও চিকিৎসায় মারাত্মক কাটছাঁট
যখন মানুষের পেটে ক্ষুধা থাকে, তখন শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো জরুরি বিষয়গুলোও গৌণ
হয়ে যায়। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের ভালো স্কুল থেকে ছাড়িয়ে সাধারণ স্কুলে
দিচ্ছে, প্রাইভেট টিউটর বাদ দিচ্ছে বা পড়াশোনার খরচ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে মানুষ
এখন ছোটখাটো অসুখে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ওষুধের দাম অনেক বেড়ে
যাওয়ায় অনেকেই পুরো কোর্সের ওষুধ না কিনে অর্ধেক কিনছেন। রুটিন চেকআপ বা
পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের আর
নেই, যা ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।
সামাজিক ও মানসিক অস্থিরতা
অর্থনৈতিক এই চাপ মানুষের মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, পারিবারিক কলহ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মানসিক চাপ
ও হতাশা থেকে মানুষের মধ্যে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যা
বাড়ছে। এছাড়া অভাবের তাড়নায় সমাজে ছোটখাটো চুরি, ছিনতাই বা প্রতারণার মতো অপরাধ
প্রবণতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সমাজে যখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে
ঘাটতি দেখা দেয়, তখন সেই সমাজের সামগ্রিক শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়াটাই
স্বাভাবিক।
দাম বাড়ার পেছনের মূল কারণগুলো কী?
এই যে সবকিছুর দাম এত বাড়ছে, এর পেছনে আসলে কারণগুলো কী? অর্থনীতিবিদরা অনেক জটিল
কথা বললেও, সাধারণ মানুষের ভাষায় এর পেছনে প্রধান কয়েকটি কারণ রয়েছে।
বৈশ্বিক সংকট ও ডলারের দাম বৃদ্ধি
আমরা জানি, বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের
অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দিয়েছে।
জ্বালানি তেল, সার, গমের মতো অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমাদের বিদেশ থেকে
আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি
আমাদের দেশে ডলারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ডলারের দাম এক লাফে অনেক বেড়ে
যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে পণ্য কিনে আনতে এখন অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে,
যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।
অসাধু বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য
বৈশ্বিক কারণ যতটুকু দায়ী, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী আমাদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীদের
সিন্ডিকেট। কিছু বড় ব্যবসায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ইচ্ছেমতো পণ্যের কৃত্রিম
সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশে দাম
কমে না, কারণ এই সিন্ডিকেট তা হতে দেয় না। এছাড়া কৃষকের মাঠ থেকে একটি সবজি
সাধারণ মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছাতে কয়েক হাত ঘোরে। এই মধ্যস্বত্বভোগীরা কোনো
কাজ না করেই মাঝখান থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা লুটে নেয়। ফলে কৃষক তার পণ্যের
ন্যায্য দাম পায় না, অথচ ভোক্তাকে কিনতে হয় কয়েক গুণ বেশি দামে।
পথে পথে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো পরিবহন খাতের নৈরাজ্য এবং পথে পথে
চাঁদাবাজি। গ্রাম থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক শহরে আসার পথে বিভিন্ন
জায়গায় পুলিশ, স্থানীয় মাস্তান ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা দিতে হয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে পরিবহন ভাড়াও অস্বাভাবিকভাবে
বাড়ানো হয়েছে। এই সব চাঁদাবাজি ও পরিবহন খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সাথে
যুক্ত হয় এবং এর চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হয় সাধারণ ক্রেতা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে করণীয়
দ্রব্যমূল্যের এই পাগলা ঘোড়াকে থামানো না গেলে সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে
যাবে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ
মানুষ—সবাইকে কিছু কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাজার তদারকি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ
শুধু মাঝে মাঝে লোক দেখানো বাজার মনিটরিং করলে হবে না। বাজারে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি
বাড়াতে হবে। যারা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তারা যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক
না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে এই
বার্তা পৌঁছাতে হবে যে, বাজারে কেউ ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারবে না।
কৃষকের সুরক্ষা ও সাপ্লাই চেইন ঠিক করা
কৃষকরা যাতে সরাসরি বাজারে বা ভোক্তাদের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারে,
সে জন্য আধুনিক বাজার ব্যবস্থা বা ‘কৃষক বাজার’ তৈরি করতে হবে। এতে
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। কৃষক যেমন সঠিক
দাম পাবে, সাধারণ মানুষও তেমনি সস্তায় জিনিস পাবে। পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি জিরো
টলারেন্স নীতিতে বন্ধ করতে হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রির
কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। এর পরিধি শুধু শহর নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে দিতে
হবে। রেশনের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল বিতরণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত
করতে হবে, যাতে প্রকৃত গরিব ও অভাবী মানুষ এর সুবিধা পায়।
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো ও বিকল্প খোঁজা
যেসব পণ্য আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়,
সেদিকে জোর দিতে হবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ফলন বাড়াতে
হবে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারলে ডলারের দাম বাড়লেও আমাদের বাজারে তার খুব
বেশি প্রভাব পড়বে না।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের
জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট ও আতঙ্কের নাম। একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা
মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন তখনই সার্থক হয়, যখন সে দেশের সাধারণ মানুষ পেট ভরে দু’মুঠো
খেতে পারে এবং শান্তিতে ঘুমাতে পারে। বর্তমান বাস্তবতায় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তা সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে কঠিন থেকে কঠিনতর
করে তুলেছে। মধ্যবিত্তের নীরব কান্না আর নিম্নবিত্তের হাহাকার আজ প্রতিটি ঘরের
গল্প।
এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু সদিচ্ছা থাকলে অন্তত মানুষের
কষ্টটা কমিয়ে আনা সম্ভব। বাজার ব্যবস্থাকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করে, সঠিক
মনিটরিং এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে জোর দিয়ে একটি সুস্থ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা
এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সাধারণ মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের একটি সামঞ্জস্য
ফিরিয়ে আনা না গেলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর
সমাজ গঠন করা কখনো সম্ভব হবে না। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার, যাতে
প্রতিটি মানুষ তার মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে অন্তত একটি স্বাভাবিক ও সম্মানজনক
জীবনযাপন করতে পারে।
















