ট্রাম্পের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন মার্কিন তরুণেরা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তরুণ ভোটাররা যে বিপুল সমর্থন দিয়েছিলেন, তাতে রিপাবলিকানরা বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ট্রাম্প তখন ‘বিশ্বের ইতিহাসের সেরা অর্থনীতি গড়ার’ মতো লোভনীয় সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণদের মন জয় করেছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যেভাবে দ্রুত কমে যাচ্ছে, তাতে রিপাবলিকান দলের জন্য বড় ধরনের চিন্তার কারণ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ইউগভ ও দ্য ইকোনমিস্টের একটি যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তরুণদের মধ্যে ট্রাম্পের জনসমর্থন যেখানে ৪৮ শতাংশ ছিল, এখন তা কমে মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। লাখ লাখ তরুণ কেন ট্রাম্পের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তার বড় কারণ হলো তিনি তার দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতিই পূরণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

তরুণদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জিনিসপত্রের বাড়তি দাম বা মূল্যস্ফীতি। ট্রাম্প কথা দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই তিনি জিনিসপত্রের দাম কমাবেন এবং মানুষের জীবনযাত্রার খরচ সাশ্রয়ী করবেন। কিন্তু তিনি সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে হোয়াইট হাউসে ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ৪,৮০০ কোটি টাকা) খরচ করে বিলাসবহুল বলরুম বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং শুল্কযুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য জিনিসের দাম আরও বেড়ে গেছে। একটি হিসাবে দেখা যায়, ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭৮ শতাংশ তরুণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জো বাইডেনের আমলে অর্থনীতি ধীর থাকায় তরুণরা ট্রাম্পের কাছে অনেক কিছু আশা করেছিলেন। কিন্তু তার মেয়াদের ১৫ মাস যাওয়ার পরও তারা শুধু হতাশাই পাচ্ছেন। দেশে এখন মূল্যস্ফীতি ৩.৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। গত এক বছরে কফির দাম ১৮.৭ শতাংশ, গরুর মাংস ১২.১ শতাংশ এবং সবজির দাম ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ ৬.৪ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে। তরুণরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন চাকরির বাজারে। ট্রাম্পের সময়ে প্রতি মাসে মাত্র ২৬ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে, যা বাইডেনের মেয়াদের শেষ দিকের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ মাত্র।

ট্রাম্প পড়াশোনার খরচ কমানোর আশ্বাস দিলেও এখন উল্টো টিউশন ফি বাড়ছে এবং তিনি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাহায্য কাটছাঁট করার চেষ্টা করছেন। স্বাস্থ্যসেবার খরচও আকাশচুম্বী। ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রায় এক কোটি মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাবেন এবং আরও দুই কোটি মানুষের প্রিমিয়াম দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো তরুণদের পাশে না দাঁড়িয়ে তিনি উল্টো এআই কোম্পানিগুলোকে সমর্থন দিচ্ছেন।

শুধু অর্থনীতি নয়, ট্রাম্পের কিছু খামখেয়ালি আচরণও তরুণদের ক্ষুব্ধ করেছে। বড় শহরগুলোয় মুখোশধারী ইমিগ্রেশন পুলিশ পাঠানো, নিজেকে যিশুর মতো দাবি করা এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের অপমান করার বিষয়টি তরুণরা পছন্দ করছেন না। হার্ভার্ডের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৩ শতাংশ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে চলছে। তরুণদের এই হতাশা ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ