মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও চরম অস্থিরতার মাঝে বিশ্বরাজনীতিতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নতুন মেরুকরণ ঘটছে। একদিকে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থামানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক করতে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। তাদের এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হবে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধের বর্তমান আলোচনাকে আরও কার্যকরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া।
রাশিয়া যাওয়ার ঠিক আগে আব্বাস আরাগচি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান সফর করেন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনি অত্যন্ত গোপনে দুইবার পাকিস্তানে যান এবং সেখানকার শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে গভীরভাবে আলোচনা করেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পুরো সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক করেননি বা তাদের এড়িয়ে চলেছেন। এর মাধ্যমে ইরান মূলত পশ্চিমা দেশগুলোকে পাশ কাটিয়ে এশিয়া ও নিজেদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার একটি নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবাজ দেশ ইসরায়েলের ভেতরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত ও টালমাটাল। আগামী অক্টোবরের শেষে দেশটিতে নতুন সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে একজোট হয়েছেন দেশটির প্রধান ও কট্টর বিরোধীরা। ইসরায়েলের সাবেক দুই প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ ইতিমধ্যে নিজেদের সব বিভেদ ভুলে হাত মিলিয়েছেন। ডানপন্থী নেতা বেনেট এবং মধ্যপন্থী লাপিদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী নির্বাচনের আগেই তারা নিজেদের দল দুটিকে একীভূত করে ‘টুগেদার’ বা ‘একত্রে’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি বড় রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছেন।
বেনেট ও লাপিদ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশের মানুষের কাছে দাবি করেন, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতেই তারা এখানে একত্রিত হয়েছেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠন করে ক্ষমতায় বসেন নেতানিয়াহু। এরপর তার নির্দেশে ফিলিস্তিনের গাজায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২,৫০০ জনের বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। গাজা ছাড়াও তিনি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং পরবর্তীতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি জোড়া যুদ্ধে ইসরায়েলকে জড়িয়েছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জনমত জরিপে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু দেশের সাধারণ মানুষকে যে নিরাপত্তা রক্ষার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই ভাবমূর্তি এখন ১০০% ভেঙে পড়েছে। আগামী নির্বাচনে তার ভরাডুবি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর মধ্যেই ইসরায়েল নিয়ে আরেকটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে নিজেদের তৈরি অত্যাধুনিক আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। শুধু তা-ই নয়, এই আয়রন ডোম পরিচালনার জন্য তারা বেশ কয়েক ডজন সেনাও আমিরাতে মোতায়েন করেছিল।
২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মাধ্যমে এই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও, এমন গভীর সামরিক সহযোগিতার ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম। ইসরায়েলি একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সরাসরি ফোনালাপ হয়। এরপরই নেতানিয়াহু দ্রুত আমিরাতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেন। আয়রন ডোম হলো একটি ভ্রাম্যমাণ ও স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা খুব সহজেই শত্রুর ছোঁড়া রকেট, ড্রোন বা কামানের গোলা আকাশে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করতে পারে।
বিদেশে এই আধুনিক ব্যবস্থা বিক্রি করার রেকর্ড ইসরায়েলের থাকলেও, অন্য কোনো দেশে সরাসরি সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধে ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম। প্রতিটি আয়রন ডোম ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৫০,০০০
ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের এইপুরোপরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীলদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।সেখানে যুদ্ধদীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতিঅ নায়াসে ১০ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের এইপুরোপরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীলদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।সেখানেযু দ্ধদীর্ঘস্থায়ীহলেবিশ্ববাজারেজ্বালানিতেলেরদামব্যারেলপ্রতিঅনায়াসে১০
থেকে ২০$ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি অন্তত ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। তাই পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এই যুদ্ধ কবে থামবে তার ওপর।
















