জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কতটা ঝুঁকিতে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

জলবায়ু পরিবর্তন—শব্দটি একসময় শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্র, টেলিভিশনের খবর বা
আন্তর্জাতিক বড় বড় সেমিনারের আলোচনার বিষয় ছিল। সাধারণ মানুষের কাছে এটি
মনে হতো দূরের কোনো দেশের সমস্যা, যার সাথে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কোনো সম্পর্ক
নেই। কিন্তু আজ, এই বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি যে,
জলবায়ু পরিবর্তন কোনো কল্পকাহিনি নয়। এটি এখন আমাদের ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে, আর এর
সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।

যখন চৈত্রের খরতাপে বা বৈশাখের তীব্র গরমে আমাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়, যখন
আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টির অভাবে কৃষকের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়,
অথবা যখন অসময়ের বন্যায় চোখের সামনে মানুষের বাড়িঘর তলিয়ে যায়—তখন আর বুঝতে
বাকি থাকে না যে প্রকৃতি তার রূপ বদলাচ্ছে। বিশ্বে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়,
তার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশেরও কম (০.৫%) ছাড়ে বাংলাদেশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের
ক্ষতিকর প্রভাবের দিক থেকে সারা বিশ্বে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায়
বাংলাদেশ সব সময়ই প্রথম সারিতে থাকে। এই যে অন্যের পাপের শাস্তি আমাদের ভোগ করতে
হচ্ছে, এর ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক কতটা অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে? জলবায়ু
পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশ, অর্থনীতি, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের
জীবনে কী ধরনের মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আজ আমাদের গভীরভাবে
বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ভৌগোলিক অবস্থান: কেন এত বিপদে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের এই চরম ঝুঁকির প্রধান কারণ হলো আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান। আমাদের দেশটি
হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় বদ্বীপ। এর উত্তরে রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে
বিশাল বঙ্গোপসাগর। হিমালয়ের বরফ গলা জল এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের পানি আমাদের দেশের
ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।

দেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি অনেকটা ফানেল বা চোঙার মতো।
বঙ্গোপসাগরে যখন কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তখন এই ফানেল আকৃতির
কারণে সেটি সোজা আমাদের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে।
তাছাড়া, বাংলাদেশের ভূমির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব একটা বেশি নয়।
দেশের একটি বিশাল অংশের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক মিটার ওপরে। এই
সমতল ও নিচু ভূমির কারণেই সমুদ্রের পানির উচ্চতা সামান্য বাড়লেই আমাদের জন্য তা চরম
বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃতির এই কাঠামোগত দুর্বলতাই আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের
সবচেয়ে সহজ শিকারে পরিণত করেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও দৃশ্যমান প্রভাব

আমরা যদি ভাবি যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতে কোনো একসময় আসবে, তবে আমরা
বোকার স্বর্গে বাস করছি। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং তা আমাদের
জীবনকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

অস্বাভাবিক ঋতুচক্র ও তীব্র দাবদাহ

বাংলাদেশে একসময় ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য ছিল। কিন্তু এখন ঋতুচক্র পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে
গেছে। শীতকাল কবে আসে আর কবে যায়, তা অনেক সময় বোঝাই যায় না। অন্যদিকে,
গ্রীষ্মকালের তীব্রতা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। টানা দাবদাহ বা
হিটওয়েভের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। গরমের কারণে হিটস্ট্রোক করে মানুষ
মারা যাচ্ছে, যা কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে খুব একটা শোনা যেত না। আবার যখন
বৃষ্টির দরকার, তখন বৃষ্টি হচ্ছে না; আর যখন বৃষ্টি হচ্ছে, তখন এক দিনেই এত
বৃষ্টি হচ্ছে যে শহর ও গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে ঘূর্ণিঝড় একটি পরিচিত শব্দ। কিন্তু আগে যেখানে দশ বা
বিশ বছরে একটি বড় ঘূর্ণিঝড় আসত, এখন প্রায় প্রতি বছরই সিডর, আইলা, আম্পান বা
রিমালের মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানছে। এসব ঘূর্ণিঝড়ের সাথে আগের
চেয়ে অনেক উঁচু ও শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এই নোনা জল
মানুষের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের বেঁচে থাকার সব সম্বল কেড়ে
নিচ্ছে।

বন্যা ও নদীভাঙন: নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে দেশে বন্যার প্রকোপ
বেড়েছে। কয়েক বছর আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জে যে ভয়াবহ বন্যা আমরা দেখেছি, তা ছিল
একেবারেই অভাবনীয়। এছাড়া নদীভাঙন বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক নীরব ঘাতক।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদীর ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার
তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে এক রাতেই পথের ফকিরে পরিণত হচ্ছে।

ভবিষ্যতের ভয়াবহ ঝুঁকিগুলো কী কী?

বর্তমান পরিস্থিতি যদি এমন হয়, তবে আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কতটা ভয়াবহ
হতে পারে, তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং জলবায়ু মডেলগুলো
আমাদের সামনে যে ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জমি তলিয়ে যাওয়া

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বা সি-লেভেল
রাইজ। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং সমুদ্রের পানির স্তর
ওপরে উঠে আসছে। বিশ্বব্যাংক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, যদি
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র এক মিটার বাড়ে, তবে
বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভূমি চিরতরে পানির
নিচে তলিয়ে যাবে। এর মানে হলো, আমাদের দেশের মানচিত্রের নিচের দিকের একটি বড়
অংশ—যেমন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা ও কক্সবাজারের
বিশাল এলাকা—সমুদ্রের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

কৃষিতে বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তা

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হলো কৃষি, আর আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন হলো
কৃষকের উৎপাদিত ফসল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন কৃষির জন্য এক অশনিসংকেত নিয়ে
এসেছে। উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের লোনা পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে জমির উর্বরতা
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লবণাক্ত মাটিতে ধান বা অন্যান্য ফসল জন্মাতে পারে না।
অন্যদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর
নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যদি ফসল উৎপাদন
কমে যায়, তবে আমাদের ১৭ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকিতে
পড়বে। খাদ্যের অভাবে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

জলবায়ু উদ্বাস্তু বা ক্লাইমেট রিফিউজি

যখন মানুষের জমি নদীর বুকে বিলীন হয়ে যাবে, কিংবা লবণাক্ততার কারণে জমিতে কোনো ফসল
ফলবে না, তখন ওই এলাকার মানুষগুলো কী করবে? বাধ্য হয়ে তারা বাঁচার তাগিদে নিজেদের
বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে শহরের দিকে ছুটবে। এদের বলা হয় ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ বা
ক্লাইমেট রিফিউজি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের
প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ
যখন কাজের খোঁজে ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে এসে জড়ো হবে, তখন
শহরগুলোর অবস্থা কী হবে? বস্তির সংখ্যা বাড়বে, বেকারত্ব বাড়বে, অপরাধ
বাড়বে এবং শহরের নাগরিক সুবিধা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব

তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক
নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ডেঙ্গু জ্বরের মতো রোগ, যা একসময় শুধু বর্ষাকালে বা
শহরে দেখা যেত, তা এখন সারা বছর ধরে দেশের প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। মশা ও
পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া তীব্র গরমের
কারণে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং
শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের নতুন নতুন রোগের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।

অর্থনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা

একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু তার ভূমির ওপর নির্ভর করে না, অর্থনীতির ওপরও নির্ভর করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিনিয়ত বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন
হচ্ছে। প্রতি বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে হাজার হাজার কোটি টাকার
রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে। সরকার
উন্নয়নের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করে, তার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে এই
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পোষাতে এবং ভেঙে যাওয়া অবকাঠামো পুনরায়
নির্মাণ করতে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)-এর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের
কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ২ শতাংশ এবং
শতবর্ষ শেষে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি আমাদের
একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্নকে অনেক পিছিয়ে দিচ্ছে।

বাঁচার উপায় ও আমাদের করণীয়

জলবায়ু পরিবর্তন এমন কোনো সমস্যা নয় যা আমরা একা সমাধান করতে পারব। কিন্তু হাত
গুটিয়ে বসে থাকলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। এই মহাবিপদ থেকে নিজেদের
ভবিষ্যৎকে বাঁচাতে হলে আমাদের দুইভাবে লড়াই করতে হবে।

বৈশ্বিক দরবারে চাপ প্রয়োগ ও ক্ষতিপূরণ আদায়

যেহেতু এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত দেশগুলোর শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কার্বনই
মূলত দায়ী, তাই এর দায় তাদেরই নিতে হবে। বিশ্বমঞ্চে বা জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে (COP)
বাংলাদেশকে তার অধিকারের কথা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। “আমরা কার্বন ছড়াই
না, অথচ আমরাই সবচেয়ে বেশি ডুবছি”—এই নৈতিক অবস্থান থেকে উন্নত দেশগুলোর কাছ
থেকে ক্ষতিপূরণ বা ‘ক্লাইমেট ফান্ড’ আদায় করতে হবে। এই টাকা দিয়ে আমাদের
দেশকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও খাপ খাইয়ে নেওয়া (Adaptation)

আন্তর্জাতিক সাহাজ্যের আশায় বসে না থেকে আমাদের নিজেদেরও বাঁচার প্রস্তুতি নিতে
হবে। একে বলা হয় অ্যাডাপটেশন বা খাপ খাইয়ে নেওয়া। উপকূলীয় অঞ্চলে মজবুত ও
টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। কৃষকদের এমন ধরনের ধানের বীজ সরবরাহ করতে
হবে, যা লবণাক্ত পানিতে এবং খরায় টিকতে পারে। প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে
এবং বনভূমি রক্ষা করতে হবে, বিশেষ করে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কারণ
সুন্দরবন বুক চিতিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। এছাড়া
শহরের ওপর চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য
পরিকল্পিত বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জন্য কোনো দূরের মেঘের গর্জন নয়, এটি
আমাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়া এক ভয়ংকর ঝড়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কতটা
ঝুঁকিতে, তা ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা কঠিন। সমুদ্রের লোনা জল শুধু
আমাদের উপকূলের মাটিকেই গ্রাস করছে না, এটি আমাদের ১৭ কোটি মানুষের স্বপ্ন, খাদ্য
নিরাপত্তা এবং অস্তিত্বকেই একটু একটু করে গিলে খাচ্ছে।

আমরা চাইলেও আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান বদলাতে পারব না। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা,
আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং দেশীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগের
ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনতে পারি। প্রকৃতি যখন বিরূপ হয়, তখন তাকে জয় করা যায়
না, বরং তার সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার কৌশল আয়ত্ত করতে হয়। এখনই যদি আমরা জেগে না
উঠি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য
বাংলাদেশ রেখে যাওয়া আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। তাই, জলবায়ুর এই নীরব
যুদ্ধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র—সবাইকে একযোগে লড়াই
করতে হবে বাঁচার তাগিদে, অস্তিত্বের তাগিদে।

.

সম্পর্কিত নিবন্ধ