শৈলকূপায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড: ১০০ টাকা জরিমানাও করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে পলাশ হোসেন (২৯) নামের এক যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সকালে উপজেলার ২ নং চাঁদপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ হোসেন ওই এলাকার মৃত মন্টু মন্ডলের ছেলে। আদালত তাকে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০০ টাকা নগদ জরিমানা অনাদায়ে আরও কয়েক দিনের সাজার আদেশ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শৈলকূপা থানা পুলিশের কাছে আসা একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। পুলিশ জানতে পারে যে, চাঁদপুর এলাকায় পলাশ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সদস্যদের একটি দল ওই এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানে পলাশকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে এবং পলাশের অপরাধের ধরন বিবেচনা করে তাকে এই সাজা প্রদান করেন। অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

আদালতের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পলাশ হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। মূলত জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং আইন অমান্য করার অপরাধে তাকে দণ্ডবিধি অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হয়। ১০০% স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের সামনেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়ার পর পলাশকে দ্রুত পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, সমাজে অপরাধের মাত্রা ৫% কমিয়ে আনলেও তা সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই আমরা কোনো অপরাধীকে ছাড় দিচ্ছি না।

শৈলকূপা থানার পুলিশ সদস্যরা জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের দৌরাত্ম্য কমাতে তারা রাত-দিন কাজ করছেন। পলাশ হোসেনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চাঁদপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে গত কয়েক মাসে অপরাধের হার প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে অপরাধীরা এখন সতর্ক হবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন যে, আসামিকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ২ নং চাঁদপুর এলাকার একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক বলেন, “আমরা চাই আমাদের এলাকায় শান্তি বজায় থাকুক। পলাশের মতো যুবকরা যখন বিপথে যায়, তখন পুরো সমাজের ক্ষতি হয়। এই ২ মাসের সাজা হয়তো তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।” এলাকাবাসী দাবি করেছেন, শুধু পলাশ নয়, তার মতো আরও যারা মাদক বা অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও যেন প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়। তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শৈলকূপার বিভিন্ন হাট-বাজার এবং জনবহুল এলাকায় ইদানীং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বখাটেদের আড্ডা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আসছে ৯৯৯ নম্বরে। প্রশাসন এই অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৫ থেকে ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও কারাদণ্ডের মাধ্যমে অপরাধীদের একটি কড়া বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না।

পলাশ হোসেনের এই সাজার খবরে চাঁদপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা সাজা কমানোর আবেদন করলেও আদালত তার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন, সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেওয়া। জেলখানায় থাকাকালীন তাকে বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে লাগানো হবে, যাতে সে শ্রমের মূল্য বুঝতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভালো পথে ফিরে আসে। ১০০ টাকার প্রতীকী জরিমানা করা হলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা যে বাধ্যতামূলক, সেটিই এই রায়ের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

পরিশেষে, ঝিনাইদহ জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার যৌথভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। শৈলকূপার চাঁদপুর গ্রামের এই ঘটনাটি পুরো উপজেলার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসন আশা করছে, এ ধরনের অভিযানের ফলে আগামীতে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ পাবে। পুলিশ ও প্রশাসনের এই যৌথ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ