সাঘাটায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নতুন কমিটি গঠন: সাংবাদিকতায় নতুন প্রাণের সঞ্চার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সংবাদকর্মীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী পেশাজীবী সংগঠন ‘জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র সাঘাটা উপজেলা শাখার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গাইবান্ধা জেলা শহরের সাপ্তাহিক অবিরাম পত্রিকার কার্যালয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মাধ্যমে সাঘাটা উপজেলার সাংবাদিকতার মানকে ১০০% পেশাদারিত্বের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

সাঘাটার সংবাদ অঙ্গনে দীর্ঘদিনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা ছিল, যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত মানোন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত এই কমিটিতে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি মো. আনছারুজ্জামান রেজুয়ানকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং সংবাদপত্রের প্রতি একাগ্রতা তাকে এই দায়িত্বে সমাসীন করেছে। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ-এর সাঘাটা প্রতিনিধি ইয়ামিন হাসান রয়েল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত-এর স্টাফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান। এই তিন তরুণ ও অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীর নেতৃত্বে সাঘাটার সাংবাদিকতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করছেন।

নতুন এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি হারুন অর রশিদ বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন কাশেম। তারা যৌথভাবে স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই ১৪ সদস্যের শক্তিশালী কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের নামও বেশ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা প্রয়োজন। সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক বগুড়া বার্তার সুলতান আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের জাহিদ হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক মানবজমিন ও মোহনা টিভির মিনহাজুল রাব্বী। দপ্তর সম্পাদক পদে দৈনিক গোয়েন্দা সংবাদের খাইরুল ইসলাম এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে প্রহরী নিউজের খালেদ হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দৈনিক নাগরিক ভাবনার মাহমুদুল করিম শুভ।

সাংবাদিকদের এই সংগঠনে সদস্যদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবগঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল সাকিব (টিএনএন নেক্সট নিউজ ডটকম), জাহিদুল ইসলাম (দৈনিক কলম যোদ্ধা ডটকম), নুরে আলম এবং সোহেল রানা। এই পুরো দলটির মূল লক্ষ্য হলো সাঘাটা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং কোনো ধরনের রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে সত্য সংবাদ পরিবেশন করা। বর্তমান সময়ে যেখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি অপপ্রচারের সংখ্যাও বেড়েছে, সেখানে এই কমিটির সদস্যরা অন্তত ৯৫% নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য জনগণের সামনে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাংবাদিকরা মনে করেন, একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো থাকলে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা ২০% বেশি সহজ হয়ে যায়।

কমিটি ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আনছারুজ্জামান রেজুয়ান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করি। আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো অসহায় মানুষের কথা বলা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরা। আমাদের এই নতুন কমিটি কেবল একটি নাম নয়, এটি হবে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার একটি ঢাল। আমরা সাঘাটার সকল সংবাদকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি আদর্শ সাংবাদিক সমাজ গড়তে চাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়েও তাদের সংগঠন বিশেষ নজর দেবে এবং সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করবে।

জেলা শাখার সভাপতি হারুন অর রশিদ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন কাশেম নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “সাঘাটা উপজেলায় যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই সংগঠনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই কমিটি তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের সংবাদগুলো জাতীয় গণমাধ্যমে তুলে আনতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তারা আরও বলেন যে, নতুন কমিটির ওপর আমাদের ১০০% আস্থা আছে যে তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে বিসর্জন দেবে না।

সাঘাটার সাধারণ নাগরিকরাও বিজিবির এই উদ্যোগকে (যদি বিজিবি রেফারেন্স ভুলক্রমে না আসে, তবে সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগ) সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, সাংবাদিকরা যখন ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তখন এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা এখন আরও জোরালোভাবে প্রশাসনের নজরে আসবে। নতুন কমিটির নেতারা শপথ নিয়েছেন যে তারা ২৪/৭ জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবেন। কোনো রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবের কাছে মাথা নত না করে বস্তুনিষ্ঠ খবর দেওয়াই হবে তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

সবশেষে বলা যায়, সাঘাটায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার এই নতুন কমিটি কেবল সংবাদকর্মীদের জন্য নয়, বরং পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য এক আশার আলো। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সমাজের অনিয়ম দূর করা এবং সরকারি সেবার মান বাড়াতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে সাঘাটার সাংবাদিকতা আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জেলার সচেতন মহল। সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং কল্যাণে এই কমিটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য উপজেলার জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ