“আমি মরে গেলে ইরানকে পুড়িয়ে ছাই করে দাও”: হত্যার হুমকির জবাবে ট্রাম্পের গোপন নির্দেশ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময়ই খবরের শিরোনামে থাকতে পছন্দ করেন। তবে এবারের খবরটি একটু ভিন্ন এবং বেশ আতঙ্কজনক। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান নাকি ট্রাম্পকে হত্যার জন্য এক গোপন ছক কষছে। এই খবর সামনে আসার পর চুপ করে বসে নেই সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনোভাবে ইরানের হাতে তার মৃত্যু হয়, তবে আমেরিকার পাল্টা পদক্ষেপ কী হবে সে বিষয়ে তিনি আগেভাগেই সামরিক বাহিনীকে লিখিত নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের দাবি, তার অবর্তমানে ইরানকে এমন এক শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা ১০০% কল্পনাও করতে পারছে না।

সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ ট্যাবলয়েড পত্রিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, “আমি জানি আমি অনেক দিন ধরেই তাদের হিটলিস্টে আছি। আমাদের এই বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত সামলাতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান যে, যদি সত্যিই তাকে গুপ্তহত্যা করা হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া আছে ইরানের ওপর ভয়াবহ মাত্রায় বোমাবর্ষণ করতে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি যদি আমার কিছু হয়, তবে তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমা ফেলা হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি মূলত তেহরানকে একটি আগাম এবং চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন।

এই উত্তেজনার শুরুটা হয়েছিল গত কয়েক সপ্তাহে পাওয়া কিছু বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য থেকে। সিএনএন-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে যে ইরান ট্রাম্পকে মারার জন্য তাদের পরিকল্পনা নতুন করে সাজিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় বা বিভিন্ন মিছিলে ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে ব্যানার ওড়ানো কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে এবার বিষয়টি কেবল স্লোগান বা ব্যানারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার পেছনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ($) খরচ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। ওয়াশিংটন এই হুমকিকে ১% ও হালকাভাবে নিচ্ছে না, বরং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষ করে কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর থেকে ইরান প্রতি মুহূর্তেই প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছিল। ট্রাম্পের ধারণা, ইরান বহু বছর ধরেই তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চায়। সাক্ষাৎকারে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে ট্রাম্প বলেন, “তেহরান বহু বছর ধরেই আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। আমি আশা করি, আমি চলে গেলে আপনারা সবাই আমার শূন্যতা অনুভব করবেন।” তবে তার এই কৌতুকের আড়ালে যে এক গভীর ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা শঙ্কা লুকিয়ে আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমনিতেই বেশ উত্তপ্ত। ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের সাথে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধ এখন তুঙ্গে। এর মধ্যে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আসায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং মিত্রদের রক্ষা করতে আমেরিকা প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার ($) খরচ করে। কিন্তু যদি সত্যিই এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ৫০% বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সারা বিশ্বের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (CIA ও FBI) জানিয়েছে, তারা ইরানের এই ধরনের চক্রান্তের বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরেই তথ্য পাচ্ছিল। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া এই সপ্তাহের তথ্যটি সবচাইতে বেশি উদ্বেগজনক। ইসরায়েল দাবি করছে, ইরানের বিশেষ একটি কমান্ডো দল ইতিমধ্যেই গোপনে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই তথ্য আসার পর ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অন্তত ২০০% জোরদার করা হয়েছে। যেখানেই তিনি জনসভায় যাচ্ছেন, সেখানে এখন চারপাশ বুলেটপ্রুফ গ্লাসে ঘিরে রাখা হচ্ছে যাতে দূরপাল্লার কোনো স্নাইপার হামলা না চালাতে পারে।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। একদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন, তাকে আগামী দিনের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই ইরান এই ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই এমন কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়, তবে আমেরিকার কোনো রাজনৈতিক দলই চুপ করে থাকবে না। এটি কেবল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হবে।

সবশেষে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের এই পাল্টা হুমকি তেহরানকে এক কঠিন বার্তা দিয়েছে। তিনি বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেও আমেরিকার সামরিক শক্তি এবং তাদের পাল্টা আঘাত করার ক্ষমতা থেমে থাকবে না। ট্রাম্পের দেওয়া সেই ‘গোপন নির্দেশনা’ যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো মানচিত্র বদলে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই হুমকির পর তাদের কথিত পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে কি না। আপাতত পুরো বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তা আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।

Donald-Trump

সম্পর্কিত নিবন্ধ