নান্দাইলে শিক্ষার নতুন আলো: তথ্য প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে দত্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধুনিক ভবন উদ্বোধন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় আজ এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী দুই দিনের এক সরকারি সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসে পৌঁছেছেন। সফরের প্রথম দিনেই তিনি নান্দাইলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে তিনি উপজেলার দত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা বিশিষ্ট ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় আধুনিক এই ভবনটি পেয়ে এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নান্দাইলের উন্নয়নের যে ধারা সরকার শুরু করেছে, এই ভবনটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী যখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান, তখন কয়েকশ’ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। নবনির্মিত এই ভবনটি নির্মাণে সরকার প্রায় ৮০ হাজার ডলার ($80,000) সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভবনে রয়েছে প্রশস্ত ক্লাসরুম, ডিজিটাল ল্যাব এবং উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আগে বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ত, ফলে প্রায় ২০% শিক্ষার্থী ক্লাসে আসতে চাইত না। কিন্তু এখন নতুন ভবন হওয়ার ফলে ক্লাসে উপস্থিতির হার ১০০% হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং এই অঞ্চলের শত শত শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বর্তমান সরকারের শিক্ষা দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সন্তানদের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই গড়ার কাজ শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের প্রায় ১৫% বরাদ্দ দিয়েছে, যা বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিমন্ত্রী জানান, নান্দাইল উপজেলার প্রতিটি জরাজীর্ণ স্কুলকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করা হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথেও শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের কাজ সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে যাতে এর গুণগত মান ১০০% বজায় থাকে। তিনি স্থানীয় জনগণকে সরকারি এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিমন্ত্রীর এই নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং এলাকার অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত শেষ করার দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নান্দাইলের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইয়াসের খান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এলাকায় রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গ্রামের একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা আগে ভাবতাম শহরের স্কুলেই বুঝি ভালো বিল্ডিং থাকে, কিন্তু এখন আমাদের গ্রামের স্কুলেও চারতলা বিল্ডিং হয়েছে। এতে আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়বে।” তথ্য প্রতিমন্ত্রী তার দুই দিনের এই সফরে কেবল ভবন উদ্বোধন নয়, বরং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন। তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা সরাসরি শুনতে পছন্দ করেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ ভাগে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের সফলতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৫% মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় এসেছে এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে তরুণরা প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন ডলার ($) দেশে আনছে। গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা যাতে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য তিনি প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই নতুন ভবনটিতে একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান তাদের হাতের মুঠোয় পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী স্কুলের আঙিনায় একটি বকুল ফুলের চারা রোপণ করেন এবং উপস্থিত সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তিনি এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। প্রতিমন্ত্রীর এই আগমনে পুরো নান্দাইল উপজেলা জুড়ে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে তিনি এলাকার কিছু উন্নয়নাধীন রাস্তা পরিদর্শন করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। তার এই দুই দিনের সফর কেবল নান্দাইল নয়, বরং পুরো ময়মনসিংহ জেলার উন্নয়নে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।

পরিশেষে বলা যায়, দত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই নতুন ভবনটি কেবল ইটের তৈরি একটি কাঠামো নয়, এটি এই এলাকার শিশুদের স্বপ্নের ডানা মেলার জায়গা। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নান্দাইলের শিক্ষা খাতকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। সরকার যদি এভাবে তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে, তবে অচিরেই বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা ১০০% দূর হবে এবং প্রতিটি শিশু একজন সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। নান্দাইলের মানুষ এখন বিশ্বাস করে, তাদের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

সম্পর্কিত নিবন্ধ