কূটনৈতিক চুক্তি না হলে এক বিকেলেই ইরানের সব অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আবারও চরম উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক ভয়াবহ ও অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা বা ওয়ার্নিং দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, যদি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চাইলে “একটি বিকেলের সামান্য সময়ের মধ্যেই” ইরানের পুরো জাতীয় অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস বা গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে কোনো ধরনের রাখঢাক না করেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমরা যেকোনো উপায়েই হোক না কেন, এই লড়াইয়ে জিততে যাচ্ছি। হয় আমরা ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি করব, আর তা না হলে আমরা আমাদের অসমাপ্ত কাজটি চিরতরে শেষ করব, ঠিক আছে? আর এই কাজটি শেষ করা আমাদের জন্য মোটেও কোনো কঠিন কিছু হবে না।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি সামরিক হামলার বিকল্পটি এখনো পুরোপুরি টেবিল থেকে সরিয়ে নেননি এবং ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে তিনি যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে রাজি আছেন।

তবে ট্রাম্প এও জানিয়েছেন যে, তিনি আসলে সামরিক হামলার চেয়ে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতেই বেশি আগ্রহী। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি বরং একটি চুক্তি করতেই বেশি পছন্দ করব, কারণ আমি চাই না আমার কোনো সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের প্রায় ৯১ মিলিয়ন বা ৯ কোটি ১০ লাখ সাধারণ মানুষ কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক।” ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি ইরানের সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হলেও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করতে চান না। তবে এই কথার আড়ালে যে প্রচ্ছন্ন হুমকি লুকিয়ে আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

যদি চুক্তি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঠিক কী করতে পারে, তার একটি ভয়ংকর ও বিস্তারিত চিত্রও ট্রাম্প তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সব বড় বড় ব্রিজ বা সেতুগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারি। আমরা তাদের পুরো এনার্জি সাপ্লাই বা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারি।” একটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হলে সেই দেশের অর্থনীতি মুহূর্তের মধ্যে পঙ্গু হয়ে যায় এবং তাদের সামরিক বাহিনীও অকেজো হয়ে পড়ে। ট্রাম্পের এই হুমকি ইরানের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত।

ট্রাম্প শুধু সেতু বা জ্বালানির কথাই বলেননি, তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং পাওয়ার জেনারেটিং প্ল্যান্ট বা বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারি। আর আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, একটি বিকেলের সামান্য সময়ের মধ্যেই তাদের প্রতিটি প্ল্যান্ট বা কারখানা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর তারা (ইরানের নেতারা) খুব ভালো করেই জানে যে আমরা এটা করতে সক্ষম।” আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো দেশ এক দিনও চলতে পারে না, তাই ট্রাম্পের এই হুমকি সত্যিই খুব ভয়াবহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই দ্বন্দ্বের প্রভাব শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০% হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, তবে তেলের দাম এক লাফে হয়তো ১০০$ (ডলার) বা তার চেয়েও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে।

এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই চরম হুমকির পর ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা কি চুক্তির টেবিলে বসে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো মেনে নেবে, নাকি তারাও পাল্টা সামরিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেবে? পুরো বিশ্ব এখন চরম উৎকণ্ঠার সাথে এই দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি সত্যিই শান্তি চুক্তি সই হয়, তবে তা পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই একটি বিশাল স্বস্তির কারণ হবে।

Donald-Trump

সম্পর্কিত নিবন্ধ