এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা জানালেন জামায়াত নেতা আব্দুল আওয়াল

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই মূলত একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের পথ বা ক্যারিয়ার তৈরি হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম এবং সমমানের পাবলিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মনে এখন একদিকে যেমন ভালো ফলাফল করার স্বপ্ন, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে পরীক্ষার এক অদ্ভুত ভয় ও স্নায়ুচাপ। এই কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষার্থীদের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাতে তাদের জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঝিনাইদহ জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. আব্দুল আওয়াল।

আজ সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আবেগঘন ও প্রেরণাদায়ক বার্তায় মো. আব্দুল আওয়াল এই শুভকামনা জানান। তিনি তার বার্তায় জেলার এবং সারা দেশের সকল এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষার্থীর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তাদের সফলতা ও সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “পরীক্ষা মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং এটি জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু মাত্র। আমাদের সন্তানদের এই পরীক্ষায় তাদের মেধা ও পরিশ্রমের ১০০% প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সকল পরীক্ষার্থীর জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা জানাচ্ছি।”

শিক্ষার্থীদের মনে সাহস জুগিয়ে এই প্রবীণ নেতা অত্যন্ত চমৎকার ও বাস্তবসম্মত একটি কথা বলেন। তিনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “চেষ্টা করার দায়িত্ব আমাদের, পরিপূর্ণতা আল্লাহ তায়ালা দান করবেন, ইন শা আল্লাহ।” তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চেয়েছেন যে, ফলাফলের চিন্তা করে অহেতুক মানসিক চাপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন শিক্ষার্থীর প্রধান কাজ হলো বছরজুড়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষার জন্য নিজের সেরা প্রস্তুতিটি নেওয়া এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে ১০০% মনোযোগ দিয়ে উত্তরপত্র লেখা। এরপর ফলাফল কী হবে, তা মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এই বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ অন্তত ৫০% কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এইচএসসি পরীক্ষা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, তাদের পরিবারের জন্যও একটি বড় সংগ্রামের বিষয়। অনেক অভিভাবক আছেন, যারা দিনমজুর বা সাধারণ কৃষক। তারা অনেক কষ্ট করে, নিজেরা না খেয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগান। বর্তমান বাজারে একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মাসিক পড়াশোনার খরচ, প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ফি মিলিয়ে প্রায় ৫০থেকে১০০(ডলার) বা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার ওপরে চলে যায়। অনেক গরিব বাবা-মা ব্যাংক বা এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সন্তানদের ফরম ফিলাপ ও পরীক্ষার আনুষঙ্গিক খরচ মেটান। তাই এই পরীক্ষাগুলোর সাথে লাখ লাখ পরিবারের আবেগ, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।

মো. আব্দুল আওয়াল তার বার্তায় শুধু পরীক্ষার্থীদেরই নয়, তাদের অভিভাবকদেরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন, তারা যেন পরীক্ষার এই শেষ মুহূর্তে সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত কোনো মানসিক চাপ বা ভালো রেজাল্ট করার জন্য কোনো জোরজুলুম না করেন। প্রতিটি শিশুর মেধা এক রকম হয় না। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, তাদের পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করা এবং তাদের মনে সাহস দেওয়া। কারণ, মানসিক চাপ নিয়ে পরীক্ষায় বসলে জানা প্রশ্নের উত্তরও অনেক সময় ভুল হয়ে যায়।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেন ১০০% নকলমুক্ত ও শান্ত পরিবেশ বজায় থাকে, সেদিকে প্রশাসনকে কড়া নজর রাখতে হবে। কোনো ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব যেন শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য সাইবার মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে পরীক্ষা চলাকালে যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের কোনো কষ্ট না হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

পরিশেষে মো. আব্দুল আওয়াল আবারও সকল পরীক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে তাদের মেধা ও সততা দিয়ে একটি সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তার এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা ঝিনাইদহের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। পরীক্ষার্থীরা এখন নতুন উদ্যমে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ