বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: তারেক রহমানের সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার বড় একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুই দেশ মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং নতুন খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বা গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভেও (জিডিআই) যুক্ত হয়েছে।

গতকাল দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এটিকে দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি নতুন ও বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন এই সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জানান যে, বৈঠকগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন। ওই সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করতে শিগগিরই দেশটিতে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে। সম্মেলনে চীনের ১২৫ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।”

বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রায় গ্রেট হলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর তাঁকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং তোপধ্বনি দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দেন এবং পরে নৈশভোজে অংশ নেন।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তার মধ্যে বিনিয়োগ সহায়তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, চীনের ভাষা শিক্ষা এবং গণমাধ্যমের নানা পরিসরে সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়িয়ে চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা এবং মোংলায় চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও সমঝোতা সই হয়েছে।

গতকাল দুপুরে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইংয়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন এবং চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আজ শুক্রবার চীন সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ