মহেশপুরে এডিপির অর্থায়নে অসহায়দের মুখে হাসি: সেলাই মেশিন ও হুইল চেয়ার বিতরণ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জীবনমান উন্নত করতে এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এরই একটি চমৎকার উদাহরণ দেখা গেল ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে এই উপজেলার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ারসহ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এই সহায়তার ফলে অনেকগুলো অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে এবং তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ঠিক ১০টায় মহেশপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান। তিনি নিজ হাতে অসহায় নারী ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মাঝে এই উপকরণগুলো তুলে দেন। বর্তমান বাজারে একটি ভালো মানের সেলাই মেশিনের দাম হয়তো ১০০থেকে১৫০(ডলার) বা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হতে পারে, কিন্তু একজন গরিব নারীর কাছে এটি তার সারা জীবনের বেঁচে থাকার একটি বড় হাতিয়ার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও প্রেরণাদায়ক কথা বলেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা। সমাজের যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ, তাদের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এই সহায়তা আগামী দিনেও ১০০% অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি একটি গরিব পরিবারের আয়ের নতুন পথ তৈরি করে দিতে পারে। ঠিক তেমনি, একটি হুইল চেয়ার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের বন্দী জীবনে চলাচলের নতুন সম্ভাবনা ও স্বাধীনতা সৃষ্টি করতে পারে। মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সুন্দর ও সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে সরকারি সহায়তার স্বচ্ছতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, “সরকারি সহায়তা বা এডিপির এই টাকা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা। তাই এই সহায়তা প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীদের হাতে ১০০% স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান প্রশাসনিক দায়িত্ব। আমরা যাচাই-বাছাই করেই এই তালিকা করেছি।” তিনি বিশ্বাস করেন, এসব উপকরণ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়নে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় এদিন মোট ৪৫টি সেলাই মেশিন এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে বেশ কয়েকটি আধুনিক হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ১২টি স্টিলের আলমারি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি শক্তিশালী আইপিএস (IPS) প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি এলাকার তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন স্পোর্টস বা খেলাধুলার উপকরণও বিতরণ করা হয়েছে।

এই মহতী আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এটিএম খায়রুজ্জামান উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফারুক আহমেদ, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই এবং পৌর জামায়াতের আমির মো. নওফেল আহমেদ। এছাড়াও মহেশপুর আদর্শ প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান এবং মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে এই জনকল্যাণমূলক কাজের খবর সংগ্রহ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ সরকারি এই সহায়তা পেয়ে চরম সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেলাই মেশিন পাওয়া এক বিধবা নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। এখন এই সেলাই মেশিন দিয়ে কাপড় সেলাই করে তিনি ঘরে বসেই মাসে অন্তত ৪০থেকে৫ (ডলার) বা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে সবাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ