মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা, আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে তিন দিনের এক সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। তাঁর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী বিমানটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করছেন কূটনীতিকরা।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে মালয়েশিয়ার সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনার চলাকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হয়, যা সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। এর আগে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় মাইসা নুর আইশা নামের এক ছোট শিশু ফুল দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানায়।

বিমানবন্দরের এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের কড়া নিরাপত্তায় বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত পাঁচতারা ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই তিন দিনের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও অন্য সফরসঙ্গীরা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের পুরো সড়কপথটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় চমৎকারভাবে সজ্জিত করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলামও এই সফরে যোগ দিয়েছেন। সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই বহরে রয়েছেন।

সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই মূলত এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ হলো বাংলাদেশ। তবে পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে আছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রায় কয়েক লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় কাজ করেন, যারা দেশে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ($) রেমিট্যান্স পাঠান। তাই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়াটা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

আজ সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একটি একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই একান্ত বৈঠকের পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে মূলত জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ (MOU) সই হতে পারে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েও এই সফরে জোর দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ