হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন প্রকৌশলী আবু তাহের

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে আসছে। তবে গত কয়েক বছরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল বলে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা মনে করেন। এই অচলাবস্থা দূর করতে এবং বিদ্যালয়ের আগের সেই জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (অ্যাডহক) নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্বনামধন্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু তাহের। গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ঠিক চারটার দিকে তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বর ও সুন্দর এক পরিবেশে নিজের এই নতুন দায়িত্ব বুঝে নেন।

নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং নতুন সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু তাহের। আর পুরো অনুষ্ঠানটি খুব সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সমীর কান্তি বড়ুয়া। এই আনন্দঘন মুহূর্তে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, এলাকার শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক এবং পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সবাই নতুন সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে স্বাগত জানান এবং আগামী দিনে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তার পাশে থাকার ১০০% প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর আলী। তিনি তার বক্তব্যে নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, একজন দক্ষ প্রকৌশলীর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি খুব দ্রুতই আধুনিকতার ছোঁয়া পাবে। এরপর বক্তব্য রাখেন বাঁশখালী উপকূলীয় ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জমির হায়দার বাবলা। তিনি বলেন, একটি বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে পরিচালনা কমিটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। নতুন এই কমিটি বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০% থেকে ৮০% সমস্যা খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক শিক্ষানুরাগী সদস্য ও সাংবাদিক মো. হাসানুর জামান বাবু, সাবেক অভিভাবক সদস্য আহমদ কবির বাবুল এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. শওকত আলী। এছাড়া বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম, অভিভাবক সদস্য আবদুল মাবুদ এবং সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে তপন দত্ত, কমর উদ্দীন, ফাল্গুনী দে, পান্না নাথ, কণিকা শীল, আবদুল মালেক, মুহাম্মদ মোবাশ্বেরুল মাহমুদ, মুহাম্মদ জাহিদ হাসান ও মুবাশ্বির আলী তাদের নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। উপস্থিত সবাই একবাক্যে বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান যে নিচের দিকে নেমে গেছে, তা থেকে দ্রুত উত্তরণ প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশের সরকারও শিক্ষায় ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রতি বছর শিক্ষা খাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ($) বা কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে। কিন্তু শুধু টাকা দিলেই তো হবে না, স্কুলগুলোকে সেই টাকার সঠিক ব্যবহার করে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যদি পিছিয়ে পড়ে, তবে তা এলাকার জন্য বড় একটি লজ্জার বিষয়। তাই সভায় উপস্থিত বক্তারা শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। এরপর তারা চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব এনামুল হকসহ এই নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সাথে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের সবার প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আলোচনা সভার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে নবনির্বাচিত সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু তাহের তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন, “আমি কোনো জাদুর কাঠি নিয়ে আসিনি। এই বিদ্যালয়ের একেবারে ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষার মান এক দিনে উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, তবে এটি ১০০% সম্ভব।” তিনি এই কাজে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক এবং এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে সার্বিক ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, তার প্রথম লক্ষ্য হবে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা নতুন এই কমিটির ওপর অনেক বেশি আশাবাদী। তারা মনে করেন, একজন প্রকৌশলীর বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনায় হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় আবারও পটিয়া উপজেলার সেরা বিদ্যালয়গুলোর একটিতে পরিণত হবে। আগামী দিনে এই বিদ্যালয় থেকে এমন সব মেধাবী শিক্ষার্থী বের হবে, যারা দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করবে। নতুন সভাপতির হাত ধরে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, শৃঙ্খলা এবং খেলাধুলা সব দিক থেকেই নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে, এটাই এখন সবার একমাত্র প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ