এক বছরের অপেক্ষা শেষ: দীঘিনালায় আবারও শুরু হচ্ছে জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

পাহাড়ের বুকে আবারও বেজে উঠছে ফুটবলের দামামা। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় এক বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাঠে গড়াচ্ছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল প্রতীক্ষিত ‘দীঘিনালা জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। এখানকার ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষ ও খেলোয়াড়দের কাছে এই টুর্নামেন্ট যেন একটি বিশাল উৎসবের মতো। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ঠিক সাড়ে ৩টায় দীঘিনালা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পুরো উপজেলার আনাচেকানাচে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এক অন্যরকম উত্তেজনা ও আনন্দ কাজ করছে।

দীঘিনালা জোনের সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা যায়, এই টুর্নামেন্টটি এই এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আসর। সর্বশেষ ২০২৪ সালে অত্যন্ত সফলভাবে এই জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার গ্যালারিভর্তি দর্শক প্রতিটি ম্যাচ দারুণভাবে উপভোগ করেছিলেন। কিন্তু নানা প্রশাসনিক ও কৌশলগত কারণে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এক বছর খেলা না হওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড় ও দর্শকদের মনে কিছুটা হতাশা ছিল। তবে সব বাধা কাটিয়ে এ বছর আবারও এই টুর্নামেন্ট মাঠে ফেরায় সেই হতাশা এখন ১০০% আনন্দে রূপ নিয়েছে।

আয়োজক কমিটি এই টুর্নামেন্ট সফল করতে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারা জানায়, এবারের এই আকর্ষণীয় টুর্নামেন্টে দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ৬টি শক্তিশালী দল অংশগ্রহণ করবে। দলগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজেদের মাঠে নিয়মিত কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে সব সময়ই একটা আলাদা উন্মাদনা থাকে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার তরুণরা খেলাধুলার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী। এই টুর্নামেন্টটি তাদের লুকানো মেধা ও প্রতিভা সবার সামনে তুলে ধরার একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।

খেলাধুলা শুধু বিনোদনই নয়, এটি যুবসমাজকে অনেক অপরাধমূলক কাজ থেকেও দূরে রাখে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যে এলাকার তরুণরা নিয়মিত খেলাধুলার সাথে যুক্ত থাকে, সেখানে মাদক ও অন্যান্য কিশোর অপরাধের মাত্রা প্রায় ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কম থাকে। তাই দীঘিনালার মতো একটি মিশ্র এলাকায় এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে। এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে এলাকার ছোটখাটো ব্যবসা ও অর্থনীতিতেও একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়। খেলা দেখতে আসা দর্শকদের ভিড়ে স্থানীয় দোকানদারদের বিক্রি প্রায় ২০% থেকে ৩০% বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দীঘিনালা জোনের বর্তমান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন (এসইউপি, পিএসসি) এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি নিজে এই আয়োজনের সার্বিক তদারকি করছেন। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বলেন, ‘আমরা অতীতের মতো এবারও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছি। খেলাধুলা মানুষের মনকে উদার করে এবং শৃঙ্খলা শেখায়। আমি দীঘিনালার সকল খেলাপ্রেমী ও সাধারণ দর্শককে মাঠে এসে খেলা উপভোগ করার এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানাই।’ তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শুক্রবার মিনি স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের ঢল নামবে বলে আয়োজকরা ১০০% নিশ্চিত।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এক বছর পর ফিরে আসা এই টুর্নামেন্টটি দীঘিনালা উপজেলার ঝিমিয়ে পড়া ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিশাল এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনবে। অনেক সাবেক খেলোয়াড়ও এই টুর্নামেন্ট দেখতে মাঠে আসবেন। তারা আশা করছেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে হয়তো এমন কোনো প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে এবং দীঘিনালার নাম পুরো দেশের সামনে উজ্জ্বল করবে। এখন শুধু শুক্রবার বিকেলের রেফারির প্রথম বাঁশি বাজার অপেক্ষা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ