নিউইয়র্কে কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজির নির্বাচনী সভা: আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিলেন খোকন ও মানিক

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন নির্বাচনী হাওয়া বেশ গরম। আসন্ন প্রাইমারি ও মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জোরেশোরে মাঠে নেমেছে। প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন এবং ভোট চাইছেন। এই নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই নিউইয়র্কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেফারসন ডেমোক্রেটিক ক্লাবের উদ্যোগে গত বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে নিউইয়র্কের বে-সাইডে অবস্থিত নর্থ সু টাওয়ার হলে কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজির এই বিশাল নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এই সভায় মূলধারার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।

আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সভায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত দুই লিডার আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সেই প্রমাণই দিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং অপরজন হলেন ক্লিনটন ডেমোক্রেটিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মানিক। তাদের এই উপস্থিতি নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রায় ১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশির জন্য একটি বড় সম্মানের বিষয়। তারা সেখানে শুধু অতিথি হিসেবেই যাননি, বরং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও সমস্যার কথা মূলধারার নেতাদের কানে পৌঁছানোর কাজও করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে উষ্ণ স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেফারসন ডেমোক্রেটিক ক্লাবের অন্যতম শীর্ষ লিডার মিস ডেবি মার্কেল। তিনি তার বক্তব্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীল ও চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন ডেব ফিশার। তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এরপর মঞ্চে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান এডওয়ার্ড ব্রাউনস্টাইন এবং কুইন্স কাউন্টি সিভিল কোর্টের জজ পদপ্রার্থী এডমন্ড ওয়াং। তারা দুজনেই ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি ও আদর্শের কথা তুলে ধরে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন চান।

এই নির্বাচনী সভার মূল আকর্ষণ ও প্রধান আলোচক ছিলেন কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজি। তিনি মঞ্চে এসে অত্যন্ত জোরালো ও উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে আগামী মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রাইমারি নির্বাচনে তাকেসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্য সব প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার বিনীত অনুরোধ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু প্রাইমারি নির্বাচন জিতলেই হবে না, আসল লড়াইটা হবে নভেম্বরে। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যে গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের যেকোনো মূল্যে মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা যদি সংসদে মেজরিটি না পায়, তবে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো কোনো আইন পাস করা বা জনকল্যাণমূলক কাজ করা তাদের জন্য ১০০% অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজি তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং সাধারণ মানুষের হাতে আরও বেশি ডলার ($) পৌঁছে দিতে ডেমোক্র্যাটরা বদ্ধপরিকর। তার দীর্ঘ ও তথ্যবহুল বক্তব্য শেষ হওয়ার পর উপস্থিত শ্রোতাদের জন্য একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত অনেকেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কংগ্রেসম্যানকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। টম সুয়াজি অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে প্রতিটি প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব দেন এবং সবার সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে টম সুয়াজি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির দুই নেতা হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং দেলোয়ার মানিককে আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার বক্তব্যে নিউইয়র্কে বসবাসরত পরিশ্রমী বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা অত্যন্ত সৎ ও কর্মঠ। তারা আমেরিকার অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে বাংলাদেশিদের পরিচালিত শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন ডলার ($) যোগ করছে। আগামী দিনেও ডেমোক্রেটিক পার্টি বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এই বিশাল নির্বাচনী আয়োজনে নিউইয়র্কের মূলধারার অন্তত দেড় শতাধিক শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। সভার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও উৎসবমুখর। দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার জন্য চমৎকার চা-চক্র ও মজাদার স্ন্যাকসের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে বসে নেতারা নিজেদের মধ্যে আরও খোলামেলা আলোচনা করেন এবং আগামী নির্বাচনের কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। সব মিলিয়ে জেফারসন ডেমোক্রেটিক ক্লাবের এই আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সফল এবং আগামী নির্বাচনের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

সম্পর্কিত নিবন্ধ