শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান ও স্টার্টআপ প্রদর্শনীর প্রস্তুতি শুরু

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য একটি দারুণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা এবং স্টার্টআপ বা নতুন ব্যবসার আইডিয়া সবার সামনে তুলে ধরতে একটি বড় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। এই প্রদর্শনীর নাম দেওয়া হয়েছে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং”। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে শেষ করার জন্য আজ রবিবার, ৭ জুন সকাল ১১টায় শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকেরা বেশ উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন।

প্রস্তুতিমূলক এই সভার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, আসন্ন বিজ্ঞান প্রদর্শনীটিকে কীভাবে একটি সফল ও আকর্ষণীয় ইভেন্টে রূপ দেওয়া যায়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা। সভায় বক্তারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হলে শুধু পাঠ্যবই মুখস্থ করা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের এখন বাস্তবমুখী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার ও স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন এখন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ, ছোটখাটো গবেষণা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে ১০০% উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, এই ধরনের আয়োজন মূলত শিক্ষার্থীদের লুকানো মেধা বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আমাদের গ্রামের স্কুলগুলোতেও এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা শ্রেণিকক্ষের বাইরে চমৎকার সব বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা করে। কিন্তু সঠিক কোনো প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চ না থাকায় তাদের সেই মেধা আর বিকশিত হতে পারে না। এই প্রদর্শনী সেই অভাব পূরণ করবে। তারা আশা করেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে শৈলকুপার শিক্ষার্থীরা অন্তত ৫০% নতুন আইডিয়া নিয়ে আসবে, যা দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে কাজে লাগবে।

প্রস্তুতিমূলক সভায় স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, তারা যেন নিজেদের আগ্রহী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে ছোট ছোট দল গঠন করে। প্রতিটি দলের জন্য আলাদা করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ রক্ষা, আধুনিক কৃষি, স্বাস্থ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে এমন কোনো প্রকল্প তৈরি করতে বলা হয়েছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কোনো বড় সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারবে। কোনো ধারণা যাতে শুধু কল্পনা নির্ভর না হয়, বরং তা যাতে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, সেদিকে শিক্ষকদের কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞান শিক্ষকরাও এই উদ্যোগকে বেশ সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে অনেক চমৎকার আইডিয়া বা ব্যবসার স্টার্টআপ প্ল্যান আছে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি ভালো স্টার্টআপ আইডিয়া ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলার ($) ব্যবসার রূপ নিতে পারে। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের শৈলকুপার শিক্ষার্থীরাও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারবে। তাই স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাসের জন্য না পড়িয়ে, তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে হবে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তারা দলগতভাবে কাজ করা, বড় পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নিজেদের আইডিয়া সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার মতো অতি জরুরি অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য শুধু কিছু পুরস্কার দেওয়া নয়। এর আসল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মনে একজন উদ্যোক্তা বা বিজ্ঞানী হওয়ার বীজ বপন করা। ভবিষ্যতে যারা দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে বড় অবদান রাখবে, তাদের এখনই তৈরি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, শৈলকুপার শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতা দিয়ে সবাইকে চমকে দেবে। এই প্রদর্শনী উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে সবাই আশাবাদী।

সম্পর্কিত নিবন্ধ