সামাজিক আধিপত্য বিস্তার, সহিংসতার এবং নেতার নেতৃত্বের অবাধ্যতার কারণে শৈলকুপার উন্নয়ন থমকে যেতে পারে, শৈলকুপা বাসীকে বলবো সকল মতভেদ ভুলে আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এর মাধ্যমে শৈলকুপার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করুন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় উপজেলা হলো শৈলকুপা। উর্বর কৃষিজমি, নদী-নালা আর সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষের এই জনপদটি চাইলে অনেক আগেই উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, এই উপজেলার নামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে দলাদলি, গ্রাম্য সংঘাত আর আধিপত্য বিস্তারের এক কালো ইতিহাস। অতীতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, শুধুমাত্র নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য এখানে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে আমাদের সামনে এক বিশাল সুযোগ এসে ধরা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান শৈলকুপারই কৃতী সন্তান। তাঁর মতো একজন সৎ ও বলিষ্ঠ নেতার নেতৃত্বে শৈলকুপা আজ উন্নয়নের মহাসড়কে ওঠার অপেক্ষায়। কিন্তু আমাদের নিজেদের ভেতরের সামাজিক আধিপত্য বিস্তার, সহিংসতা এবং নেতার নেতৃত্বের অবাধ্যতার কারণে এই উন্নয়ন যেকোনো সময় থমকে যেতে পারে। তাই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি শৈলকুপাবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানাব আসুন, আমরা সব মতভেদ ভুলে গিয়ে একতাবদ্ধ হই এবং মাননীয় মন্ত্রীর হাত ধরে এলাকার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করি।

সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের বিষবাষ্প

শৈলকুপার গ্রামীণ সমাজের একটি বড় সমস্যা হলো ‘সামাজিক আধিপত্য বিস্তার’ বা গ্রাম্য মাতব্বরদের ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। গ্রামের সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দলাদলি সৃষ্টি করে। কে কার চেয়ে বড়, কার কথা গ্রামে চলবে, কার লাঠিয়াল বাহিনী কত শক্তিশালী এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা হয়। এই আধিপত্য বিস্তারের নোংরা খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। বিভেদের এই বিষবাষ্প একটি সমাজকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খায়। যখন মানুষ নিজেদের মধ্যে এই ধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে, তখন এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ বা হাসপাতালের উন্নয়নের কথা ভাবার মতো সময় বা মানসিকতা কারও থাকে না।

সহিংসতার কারণে থমকে যাওয়া উন্নয়ন

যেখানে শান্তি নেই, সেখানে কখনো উন্নয়ন হতে পারে না। সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের সূত্র ধরেই জন্ম নেয় সহিংসতা। শৈলকুপায় অতীতে আমরা দেখেছি তুচ্ছ কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। রামদা, সড়কি আর ঢাল নিয়ে হানাহানির কারণে অনেক তরুণের জীবন অকালে ঝরে গেছে, অনেক পরিবার চিরতরে নিঃস্ব হয়েছে। এই সহিংসতার কারণে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে থমকে যায়। সংঘাতময় এলাকায় কোনো ভালো উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করতে চান না। সরকারি কর্মকর্তারাও আতঙ্কে থাকেন। ফলে রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো জরুরি কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা যদি এখনই এই সহিংসতার পথ পরিহার না করি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের কখনো ক্ষমা করবে না।

নেতার নেতৃত্বের প্রতি অবাধ্যতার চরম কুফল

যেকোনো জাতি বা সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে একজন যোগ্য নেতার প্রয়োজন হয়, আর সেই নেতার প্রতি অনুগত থাকাটা আরও বেশি জরুরি। বর্তমানে আমরা আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের মতো একজন স্বচ্ছ, সৎ এবং দূরদর্শী নেতা পেয়েছি, যিনি শৈলকুপাকে সংঘাতমুক্ত একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়তে চান। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে না পেরে নেতার নির্দেশনার অবাধ্য হচ্ছেন বা আড়ালে ষড়যন্ত্র করছেন। নেতার নেতৃত্বের প্রতি এই অবাধ্যতা পুরো উপজেলার জন্যই একটি অশনিসংকেত। যখন দলের বা সমাজের ভেতরেই বিশৃঙ্খলা থাকে এবং নেতার ভালো উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তখন দিনশেষে ক্ষতিটা সাধারণ মানুষেরই হয়। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে বড় নেতাকে অবমাননা করলে আমরা নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারব।

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান: আমাদের এক সুবর্ণ সুযোগ

স্বাধীনতার পর থেকে শৈলকুপার মানুষ এমন একজন জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক নেতা খুব কমই পেয়েছে। বর্তমান আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান শুধু শৈলকুপার নয়, পুরো দেশের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাঁর সততা, প্রজ্ঞা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি নিষ্ঠা সর্বমহলে প্রশংসিত। তিনি শৈলকুপায় দলাদলি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি চান না কোনো সাধারণ মানুষ অকারণে হয়রানির শিকার হোক। তাঁর এই সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা শৈলকুপার রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষিখাতে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটাতে পারি। এই সুবর্ণ সুযোগটি যদি আমরা অবহেলা ও দলাদলির কারণে হারিয়ে ফেলি, তবে এমন সুযোগ আর কবে আসবে তা কেউ বলতে পারে না।

মতভেদ ভুলে ঐক্যের পথে হাঁটার এখনই সময়

নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করার যে পুরোনো মানসিকতা আমাদের মধ্যে রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কে কোন গোষ্ঠীর, কার সাথে কার অতীত শত্রুতা ছিল, এসব ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে। আমরা যদি আজ নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ না করি, তবে এই আধুনিক যুগে আমরা অন্যান্য উপজেলার চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়ব। শৈলকুপার সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মী, গ্রাম্য মাতব্বর, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আপনারা বিভেদের দেয়াল ভেঙে ফেলুন। আমরা সবাই শৈলকুপার সন্তান। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে এই মাটিকে একটি শান্তির নীড়ে পরিণত করতে।

উন্নয়নের নতুন রূপরেখায় বদলে যাক শৈলকুপা

আমরা যদি আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতা বন্ধ করে মাননীয় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হই, তবে শৈলকুপা অচিরেই একটি মডেল উপজেলায় পরিণত হবে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরিব মানুষ উন্নত চিকিৎসা পাবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে এবং গ্রামের মেঠো পথগুলো পাকা সড়কে রূপান্তরিত হবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের পাশাপাশি তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সংঘাতমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। আইনমন্ত্রীর সঠিক দিকনির্দেশনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কাজে লাগিয়ে আমরা এই স্বপ্নের শৈলকুপা গড়তে পারি।

উপসংহার

পরিশেষে আমি শৈলকুপার আপামর জনসাধারণের প্রতি আবারও উদাত্ত আহ্বান জানাই, আসুন আমরা হানাহানি, সহিংসতা এবং সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের মতো ধ্বংসাত্মক কাজগুলো চিরতরে কবর দিই। আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে শৈলকুপার সার্বিক উন্নয়ন অনেক বেশি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন একজন নেতা পেয়েছি যিনি আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তাই আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের সৎ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য রেখে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। নেতার অবাধ্য হয়ে বা নিজেদের মধ্যে মতভেদ জিইয়ে রেখে আমরা যেন আমাদের এই প্রিয় উপজেলার উন্নয়নকে থমকে না দিই। আসুন, সব ভেদাভেদ ভুলে মাননীয় মন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করি এবং একটি শান্তিময়, সমৃদ্ধ ও উন্নত শৈলকুপা গড়ার পথে একসাথে এগিয়ে যাই।


সম্পর্কিত নিবন্ধ