ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা লম্বা ছুটি

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এই দুইয়ে মিলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হতে যাচ্ছে এক লম্বা ছুটি। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটি মানেই বাঁধভাঙা আনন্দ। আর সেই ছুটি যদি হয় ঈদের মতো বড় কোনো উৎসবের, তাহলে তো কথাই নেই। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে সারা দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দীর্ঘ ছুটি শুরু হবে। তবে শিক্ষা ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে বৃহস্পতিবার ক্লাসের পরই লম্বা ছুটিতে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পাচ্ছে। কারণ, ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই ছুটির আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের যে সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি বা ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে এই ছুটির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। সেই তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ছুটি একটানা চলবে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন আবার শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। তাই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ৭ জুন রোববার। হিসাব করে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটিসহ এসব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের এক বিশাল ছুটি পাচ্ছে। একটানা পড়ালেখার চাপের পর এমন একটি লম্বা ছুটি শিক্ষার্থীদের মনে নতুন করে প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনবে।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সাধারণ স্কুল-কলেজের চেয়ে আরও একটু বেশি ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোতেও ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হবে। তবে তাদের এই ছুটি চলবে একেবারে ১১ জুন পর্যন্ত। এরপর ১২ ও ১৩ জুন শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি পার করে ১৪ জুন রোববার থেকে মাদ্রাসায় নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা টানা ২৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি কাটাতে পারবে। লম্বা এই সময়ে তারা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বেশ চমৎকার সময় কাটানোর সুযোগ পাবে।

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে ঘিরে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ তৈরি হয়। বিশেষ করে লম্বা ছুটির কারণে শহরের লাখ লাখ মানুষ গ্রামের দিকে ছুটে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, কোরবানির ঈদের সময় দেশের ভেতরে যে বিশাল অঙ্কের লেনদেন হয়, তার পরিমাণ অনায়াসেই কয়েক বিলিয়ন ডলার ($) ছাড়িয়ে যায়। যাতায়াত, কেনাকাটা, পশুর হাট এবং পর্যটন খাত মিলিয়ে এই অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী। লম্বা ছুটির কারণে অনেকেই পরিবার নিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে উৎসবের সময় পরিবহন ভাড়াও অনেক বেড়ে যায়। দেখা যায়, বাস, লঞ্চ বা অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন মালিকেরা। তবুও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় কোনো অংশেই কমে না।

গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই এই গ্রীষ্মকালীন অবকাশ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। ছুটির এই সময়টাতে শিক্ষার্থীরা যেমন পড়ালেখার চাপ থেকে মুক্ত থাকবে, তেমনি প্রচণ্ড গরমের হাত থেকেও রক্ষা পাবে। অভিভাবকেরাও এই ছুটি কাজে লাগিয়ে নিজেদের সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারবেন। শহুরে জীবনের ইট-পাথরের দেয়াল থেকে বেরিয়ে গ্রামের সবুজ প্রকৃতি ও খোলা হাওয়ায় শ্বাস নেওয়ার এমন সুযোগ সত্যিই দারুণ। তবে চিকিৎসকেরা এই তীব্র গরমের সময় সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, ছুটিতে ঘোরাঘুরির সময় প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে এবং বাইরের খোলা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

জুন মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর জুলাই ও আগস্ট মাসেও শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু সরকারি ছুটির দিন অপেক্ষা করছে। সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক দিনের ছুটি থাকবে। এছাড়া আগস্ট মাসে রয়েছে কয়েকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছুটি। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। এরপর ১২ আগস্ট আখেরি চাহার শোম্বা এবং ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে।

সেপ্টেম্বর মাসেও শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির সুযোগ রয়েছে। এই মাসে শুভ জন্মাষ্টমী এবং ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সরকারি ছুটি নির্ধারিত আছে। সব মিলিয়ে সামনের কয়েক মাস শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি বেশ কিছু ছুটির দিন উপভোগ করতে পারবে। তবে শিক্ষকদের পরামর্শ হলো, লম্বা ছুটিতে একেবারে বইয়ের পাতা থেকে দূরে সরে যাওয়া ঠিক হবে না। দিনে অন্তত কিছুটা সময় পড়ালেখার মধ্যে থাকলে ছুটির পর স্কুল খুললে আর বাড়তি চাপ মনে হবে না। দীর্ঘ এই ছুটি শিক্ষার্থীদের জীবনে আনন্দ ও সতেজতা নিয়ে আসুক, সবাই নিরাপদে ঈদ উদ্‌যাপন করুক এবং সুস্থ শরীরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক এটাই সবার প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ