ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২ জন বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামী এবং বাকি ৩ জন মাদক সেবনকালে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। এই অভিযানটি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ আগস্ট শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার নির্দেশনায় পুলিশের একটি ফোর্স এলাকায় বিশেষ টহল ও অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জিআর-১১৯/২৬ মামলার আসামী মোঃ বেলাল হোসেনকে তার নিজ এলাকা ফুলহরি থেকে গ্রেফতার করা হয়। বেলাল হোসেনের পিতার নাম মোঃ ইকবাল হোসেন। একই অভিযানে জিআর-১১৮/২৬ মামলার অপর এক পরোয়ানাভুক্ত আসামী রিপন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিপন নবগ্রাম এলাকার মিনাজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারের পর বিধি মোতাবেক তাদের উভয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একই রাতে শৈলকুপা থানা পুলিশের আরেকটি দল এলাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় ৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— ফুলহরি (চরাপাড়া) গ্রামের মৃত ইকবাল ফকিরের ছেলে মোঃ বিল্লাল হোসেন (৪৫), হড়রা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ শাহাজান (৩৫) এবং বোয়ালিয়া উত্তরপাড়ার অহেদ শেখের ছেলে মোঃ ওয়াসিম শেখ (৪২)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও পরিবেশ নষ্ট করার কাজ করে আসছিলেন। পুলিশের এই তৎপরতাকে এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।
আটককৃত এই ৩ মাদকসেবীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় মামলা রুজু করে দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামীদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই কঠোর সিদ্ধান্তে মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালতের রায় অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামী মোঃ বিল্লাল হোসেনকে ০৫ (পাঁচ) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০০ টাকা ($৯ ডলার প্রায়) জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ২ নম্বর আসামী মোঃ শাহাজানকে ০৩ মাস ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত ১৫ দিনের জেল খাটতে হবে। ৩ নম্বর আসামী মোঃ ওয়াসিম শেখকে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ০৬ (ছয়) মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ০১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা এই সফল অভিযান সম্পর্কে বলেন, এলাকায় অপরাধ কমিয়ে আনতে এবং মাদক নির্মূল করতে আমাদের পুলিশ ফোর্স ১০০% নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার ও মাদকসেবীদের শাস্তির আওতায় আনার মাধ্যমে সমাজে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শৈলকুপা এলাকায় পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামীদের ধরতে তাদের তালিকা ধরে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হচ্ছে।
বর্তমানে গ্রেফতারকৃত সকল আসামীকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে অপরাধের হার কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শৈলকুপা থানা পুলিশ স্থানীয় জনগণের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, এলাকায় যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা মাদক সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য।
কিউওয়ার্ডস: শৈলকুপা থানা, পুলিশ অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত আসামী, মাদকসেবী গ্রেফতার, কারাদণ্ড, ঝিনাইদহ সংবাদ, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, অফিসার ইনচার্জ, আদালত রায়, অপরাধ দমন।
















