চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। শহরের উদয়ন মোড় থেকে রেল স্টেশন কলাপট্টি পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। কাদা আর ধুলোবালিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছিল। অবশেষে আজ সেই কষ্টের অবসান ঘটিয়ে আধুনিক ইউনিব্লক প্রযুক্তিতে এই রাস্তাটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
আজ সোমবার ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই শুভ কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি যখন ফলক উন্মোচন করছিলেন, তখন উপস্থিত শত শত মানুষ হাততালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বস্তি স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে।
এই সড়কটি নির্মাণের কারিগরি দিক নিয়ে জেলা পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ পিচ ঢালা রাস্তা নয়। বরং স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে এখানে ইউনিব্লক বা ইন্টারলকিং টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে। এই কাজের জন্য মোট চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা (১২,৬০,২৬৩ টাকা)। প্রকৌশলীরা বলছেন, এই আধুনিক প্রযুক্তিতে রাস্তা তৈরি করলে তা ১০০% টেকসই হয় এবং বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল এই রাস্তাটি, কিন্তু এর বেহাল দশার কারণে উদয়ন মোড় থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত রিকশা বা অটোরিকশা চালকরা আসতেই চাইত না। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে রিকশা উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। বিশেষ করে ট্রেনের যাত্রীরা যারা মালপত্র নিয়ে স্টেশনে আসতেন, তাদের কষ্টের সীমা ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, এই উন্নয়ন কাজ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থায় ৯৯% ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে বয়স্ক ও রোগীদের যাতায়াতও আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. ময়েজ উদ্দিন। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই মহতি অনুষ্ঠানে শামিল হন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জনগণের ভোগান্তি লাঘব করাই হলো রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সড়কের মান যেন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যাতে আগামী অনেক বছর মানুষ এর সুবিধা ভোগ করতে পারে।
ব্যবসায়িক দিক থেকেও এই সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। কলাপট্টি এলাকাটি মূলত একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রেল স্টেশনের একদম পাশে হওয়ায় এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা ভিড় করেন। রাস্তা খারাপ থাকায় অনেক সময় ট্রাক বা মালবাহী গাড়ি এখানে ঢুকতে পারত না। ব্যবসায়ীদের মতে, রাস্তাটি আধুনিকায়ন হলে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন আগের চেয়ে অন্তত ১৫% থেকে ২০% বৃদ্ধি পাবে। কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা মানেই উন্নত অর্থনীতি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই সড়কটি নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা অনেক দিন আগেই নিয়েছিলাম। আজ সেই কাজ শুরু হলো। আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা কাজের মানের সাথে কোনো আপস না করে।” তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করা হবে।
সবশেষে বলা যায়, এই সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে কলাপট্টি ও রেল স্টেশন এলাকার চেহারা পুরোপুরি বদলে যাবে। ধূলামুক্ত ও কাদা মুক্ত একটি আধুনিক রাস্তা পাওয়ার স্বপ্ন এখন বাস্তব হতে চলেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ জেলা পরিষদের এই দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। সবাই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে এবং তারা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।
















