শৈলকুপায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং অন্যজন মাদক কেনাবেচার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া কারবারি। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই সফল অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় অপরাধের হার ১০০% কমিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রথম অভিযানে পুলিশ মেহেন্দীগঞ্জ থানার দুটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ এনামুল হক শিকদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কুশবাড়ীয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এনামুল হক শিকদার দীর্ঘদিন ধরে সিআর-৩৪১/২০২৫ এবং সিআর-৩২৭/২৫ মামলায় পলাতক ছিলেন। পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, তিনি তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর পুলিশ বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে আটক করে। দীর্ঘদিন ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চললেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। তাকে ইতিমধ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

একই দিনে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে শৈলকুপার উলুবাড়ীয়া গ্রাম থেকে মোঃ ইমরান শিকদার নামে আরও এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ইমরান শিকদার শৈল জিআর-২৪/২৬ মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। তিনি আকরাম শিকদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে তারা বিশেষ তালিকা তৈরি করেছে এবং এই তালিকার প্রায় ৮০% আসামিকে ধরার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইমরান শিকদারকে গ্রেফতারের পর তাকেও বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে শৈলকুপা থানা পুলিশ গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের সময় দুধসর ইউনিয়নের দুধসর গ্রামে জনৈক রবি শেখের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে ৪১ (একচল্লিশ) পিচ ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া মাদক কারবারির নাম মোঃ সাগর হোসেন (২২)। তিনি চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুর রহিম মন্ডলের ছেলে। মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে পুলিশ এখন প্রযুক্তির সহায়তায় ১০০% নিখুঁতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত সাগর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত ৪১ পিচ ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। মাদকের এই ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে শৈলকুপা পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। সাগরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ বলছে, মাদকের কারবারিদের পেছনে যারা মূল হোতা হিসেবে কাজ করছে, তাদের ধরতে পারলে এলাকায় অপরাধের হার অন্তত ৫০% কমে আসবে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা এই অভিযানগুলো সম্পর্কে বলেন, “শৈলকুপাকে অপরাধমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে মাদক এবং পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ছাড় নেই। আমরা চাই এলাকার মানুষ যেন নিরাপদে ঘুমাতে পারে। আমাদের এই অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।” তিনি আরও জানান যে, সাধারণ জনগণ যদি ১০% তথ্য দিয়েও পুলিশকে সহায়তা করে, তবে অপরাধ নির্মূল করা অনেক সহজ হবে। পুলিশের এই তৎপরতায় অপরাধীরা এখন এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শৈলকুপার সচেতন মহল পুলিশের এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাতের বেলা পুলিশের টহল বৃদ্ধি পাওয়ায় চুরিবাজি ও বখাটেদের উৎপাত আগের চেয়ে অনেক কমেছে। জননিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত এমন অভিযান চললে মামলার জট যেমন কমবে, তেমনি অপরাধীরাও আইনকে ভয় পাবে। পুলিশ বাহিনীর এই সক্রিয়তা বজায় থাকলে শৈলকুপা উপজেলা ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে একটি আদর্শ ও নিরাপদ জনপদে পরিণত হবে বলে সবাই আশা করছেন।

পরিশেষে বলা যায়, ওয়ারেন্ট তামিল এবং মাদক উদ্ধার এই দুই ফ্রন্টেই শৈলকুপা পুলিশ সফলতার পরিচয় দিচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাবেন এবং কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবেন না। শৈলকুপার মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাওয়াই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

সম্পর্কিত নিবন্ধ