খুলনা বিভাগে হ্যাটট্রিক জয়: টানা তিনবার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে হরিণাকুণ্ডুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মোঃ রবিউল ইসলাম, ঝিনাইদহঃ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জন্য বয়ে এলো এক অনন্য গৌরব। টানা তৃতীয়বারের মতো খুলনা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার মর্যাদা পেলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু। বুধবার (২৯ জুলাই) খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বার্ষিক মূল্যায়ন সভায় তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে প্রাণিসম্পদ সেক্টরে তথ্য ব্যবস্থাপনায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। বিশেষ করে ‘BAHIS’ (বাংলাদেশ এনিম্যাল হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম) অ্যাপে শতভাগ তথ্য সফলভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে ১ নম্বর স্থান অধিকার করেছেন।

বিভাগীয় বার্ষিক মূল্যায়ন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মোঃ আব্দুর রহিম এই সফল কর্মকর্তার হাতে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট তুলে দেন। ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু কেবল তথ্য ব্যবস্থাপনায় নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় গত এক বছরে গবাদি পশুর চিকিৎসার হার আগের তুলনায় প্রায় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর সঠিক পরিকল্পনা এবং দিনরাত কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা।

সভায় জানানো হয়, ‘BAHIS’ হলো এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি যা পশুপাখির রোগবালাই ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য ডিজিটাল উপায়ে সংরক্ষণ করে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এই সিস্টেম ব্যবহার করে এলাকায় প্রায় ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) এর বেশি খামারি ও পশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য আপলোড করেছে। তথ্যের এই নির্ভুলতা ও দ্রুততা যাচাই করে দেখা গেছে, ডা. কুন্ডুর বিভাগটি খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলার চেয়ে ১০% থেকে ১৫% বেশি দক্ষতার সাথে কাজ সম্পন্ন করেছে। ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রির এই বিশাল কর্মযজ্ঞে তিনি কোনো ত্রুটি হতে দেননি, যা প্রশাসনিক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণের পর ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “যেকোনো অর্জনই কাজের প্রতি আগ্রহ অনেক বাড়িয়ে দেয়। এটি আমার জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তবে এই সাফল্য আমি উৎসর্গ করছি আমার পুরো টিমকে। বিশেষ করে আমাদের পরিচালক ডা. মোঃ আব্দুর রহিম স্যারের সময়োপযোগী গাইডলাইন এবং কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না থাকলে এই হ্যাটট্রিক জয় সম্ভব হতো না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, হরিণাকুণ্ডুর সাধারণ খামারিদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। খামারিদের আয় ২০% থেকে ৩০% বৃদ্ধি করতে এবং পশুর অকাল মৃত্যু রোধে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রাণিসম্পদ সেক্টরে ডা. কুন্ডুর এই অবদান কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হরিণাকুণ্ডু এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে পশু অসুস্থ হলে সঠিক পরামর্শ পেতে অনেক দেরি হতো, এখন ডিজিটাল সিস্টেমের কল্যাণে সেবা পাওয়া অনেক সহজ হয়েছে। খামারিদের মতে, উন্নত চিকিৎসার ফলে এলাকায় প্রতি বছর পশুপালনে যে ক্ষতি হতো, তা এখন প্রায় ১০% এর নিচে নেমে এসেছে। ডা. কুন্ডুর এই পুরস্কার প্রাপ্তি তাই মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছেও এক বড় আনন্দ ও স্বস্তির খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সহকর্মীরা জানান, ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু একজন কর্মঠ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে সবার প্রিয়। তিনি প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন এবং অফিসের ১০০% কাজের তদারকি নিজেই করেন। তাঁর এই পরিশ্রমের ফলেই হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আজ একটি মডেলে পরিণত হয়েছে। বিভাগীয় সভায় অন্যান্য উপজেলার কর্মকর্তারাও তাঁর এই কাজের ধরন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। সবাই একমত হয়েছেন যে, সরকারি সেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ সারা দেশেই ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডুর এই হ্যাটট্রিক সাফল্য ঝিনাইদহ জেলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে মাঠ পর্যায়ের কাজকে গতিশীল করা যায়, তিনি তা হাতে-কলমে প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই অর্জনে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আশা প্রকাশ করছে যে, তাঁর হাত ধরে এই অঞ্চলে দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ