চায়ের দোকান থেকে মেম্বার প্রার্থী: জনসেবার ব্রত নিয়ে মাঠে কাজীপুরের হারুন অর রশিদ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চিত্র এখন অনেকটা উৎসবমুখর। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একজনেরই নাম তিনি হলেন হারুন অর রশিদ গাজী। কাজীপুর পূর্ব পাড়ার এক সাধারণ মানুষ হয়েও তিনি অসাধারণ এক স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন নিজে বড় হওয়ার নয়, বরং অবহেলিত ২নং ওয়ার্ডের মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের পথে হাঁটার। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হারুন অর রশিদ এবার মেম্বার প্রার্থী হিসেবে নিজের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূলের মানুষের সেবা করা এবং এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো সমাধান করা। সাধারণ এক চায়ের দোকানদার থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই লড়াইয়ে তিনি ইতোমধ্যে এলাকার মানুষের মন জয় করতে শুরু করেছেন।

৫৫ বছর বয়সী হারুন অর রশিদ গাজী একজন খাঁটি মাটির মানুষ। তার বাবা নূর মোহাম্মদ গাজী এখনো বার্ধক্যের ছায়া নিয়ে বেঁচে আছেন, কিন্তু মা আনোয়ারা বেগম ইহকাল ত্যাগ করেছেন। পারিবারিক জীবনে হারুন সাহেব বেশ সুখী। তার দুই ছেলে—বিপ্লব হোসেন ও হৃদয় হোসেন আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। স্ত্রী নাজমা বেগম তাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। পরিবারের সচ্ছলতা থাকলেও হারুন অর রশিদ নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারেই রাখতে পছন্দ করেন। কাজীপুর গ্রামবাসীর কাছে তিনি এক নিরহংকার সেবক হিসেবে পরিচিত। তার ছোট একটি চায়ের দোকান রয়েছে, যা আসলে কেবল ব্যবসার জায়গা নয়, বরং গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প বলার এক মিলনমেলা। এই দোকানের আয় থেকেই চলে তার সংসার, আর এই পেশাই তাকে সাধারণ মানুষের ১০০% কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে।

নির্বাচনী মাঠের কথা বলতে গেলে, ২নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৪০০ জনেরও বেশি। হারুন অর রশিদ মনে করেন, জয় পেতে হলে বড় অংকের টাকার চেয়ে বড় হৃদয়ের প্রয়োজন বেশি। তিনি বলেন, “আমি মেম্বার হতে চাই মানুষের হক বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য।” তার নির্বাচনী ইশতেহারে রাস্তার উন্নয়নের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গ্রামের স্কুল মাঠ থেকে মুন্সীপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। প্রায় ৭০% রাস্তা ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে বর্ষাকালে মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মেম্বার নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে এই রাস্তাটি সংস্কার করা। এরপর স্কুল মাঠ থেকে বিল পাড়া পর্যন্ত রাস্তাটির কাজও তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে চান। তার মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হলে এলাকার উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হারুন অর রশিদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বর্তমানে গ্রামগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বা ফারমার্স কার্ড নিয়ে অনেক অনিয়মের অভিযোগ শোনা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অভাবীরা সুবিধা পায় না। হারুন অর রশিদ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি মেম্বার হলে কোনো স্বজনপ্রীতি করবেন না। তিনি বলেন, “সরকারি বরাদ্দের ১টি টাকাও আমি এদিক-সেদিক হতে দেব না। প্রকৃত গরীব-দুঃখী মানুষরাই যেন তাদের প্রাপ্য কার্ড পায়, তা নিশ্চিত করাই হবে আমার লক্ষ্য।” তিনি মনে করেন, সঠিক বন্টন নিশ্চিত করতে পারলে এলাকার দারিদ্র্য বিমোচনে অন্তত ৪০% থেকে ৫০% অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি বদ্ধপরিকর।

রাজনীতিতে হারুন অর রশিদ একজন আদর্শবাদী মানুষ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক। জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী এই মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, তার দলের প্রতি সাধারণ মানুষের যে সমর্থন রয়েছে, তা নির্বাচনে তাকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করতে সাহায্য করবে। তবে তিনি শুধু একটি বিশেষ দলের নেতা হয়ে থাকতে চান না। তার কাছে গরীব, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সবার আগে। তিনি আশাবাদী যে, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি মেম্বার নির্বাচিত হবেন এবং এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারবেন। এলাকার মানুষের সাথে তার সম্পর্ক এতটাই গভীর যে, অনেকেই তাকে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা করেন।

এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হারুন অর রশিদ বেশ উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে মাদক ও জুয়ার প্রতি আসক্তি তাকে ব্যথিত করে। তিনি মনে করেন, মাদক ও জুয়া আজ সমাজের ২০% থেকে ৩০% যুবশক্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মেম্বার হতে পারলে তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন যাতে কাজীপুর গ্রাম থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূল করা যায়। তিনি চান একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে নতুন প্রজন্ম নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে। তার এই উদ্যোগকে এলাকার সচেতন নাগরিকরা স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক অবক্ষয় রোধে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

কাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, “হারুন চাচা খুবই ভালো মনের মানুষ। বিপদে-আপদে তাকে ডাকলে পাওয়া যায়। তার মতো একজন পরোপকারী ও পরহেজগার মানুষ মেম্বার হলে আমাদের এলাকার চেহারা বদলে যাবে। তিনি মানুষের উপকার ছাড়া অপকার করেন না।” এলাকাবাসীর এমন ইতিবাচক মন্তব্যই হারুন অর রশিদের সবচেয়ে বড় পুঁজি। তিনি কোনো বড় বড় বাজেট বা ডলারের মোহ নিয়ে রাজনীতি করেন না, বরং মানুষের ভালোবাসা পেতে চান। তার মতে, সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হতে হলে মাটির কাছাকাছি থাকতে হয়, যা তিনি তার চায়ের দোকানে বসেই প্রতিদিন শিখছেন। জনসেবার এই মানসিকতাই তাকে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।

পরিশেষে, হারুন অর রশিদ তার প্রিয় কাজীপুর ও ২নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। তিনি চান একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের সঠিক প্রতিনিধি বেছে নিক। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তার প্রচারণা আরও জোরালো হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ভোটের মাধ্যমে মানুষ যদি তাকে সেবা করার সুযোগ দেয়, তবে তিনি তার জীবন সায়াহ্নে এসে এলাকার জন্য স্মরণীয় কিছু কাজ করে যেতে পারবেন। কাজীপুরের মানুষের কাছে তিনি আজ এক আশার আলো। মেম্বার হওয়ার এই স্বপ্ন কেবল তার নিজের নয়, বরং তার ওয়ার্ডের হাজারো সুবিধা বঞ্চিত মানুষের স্বপ্ন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ