ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস দলিল লেখক সমিতির নতুন একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনার পর অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সবার সম্মতিক্রমে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মিরাজ হোসেন। এই নতুন কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর সাধারণ মানুষ এবং দলিল লেখকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সবাই আশা করছেন, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
দলিল লেখক সমিতি মূলত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি কেনাবেচা বা অন্যান্য দলিল সম্পাদনের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় আইনি জটিলতা বা নিয়মনীতি না বোঝার কারণে হয়রানির শিকার হন। এই দলিল লেখকরাই তখন তাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন। তবে মাঝে মাঝে কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে এই পেশার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, জমি রেজিস্ট্রির সময় সরকারি ফির বাইরেও অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা বা চাঁদা দাবি করা হয়। নতুন কমিটি এই ধরনের অনিয়ম রোধে ১০০% জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছেন।
নবনিযুক্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম তার দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যম ও উপস্থিত দলিল লেখকদের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং সেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। যারা দূর-দূরান্ত থেকে জমি রেজিস্ট্রি বা হেবা দলিলের কাজে আসেন, তারা যেন কোনোভাবেই কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে আমরা কড়া নজর রাখব।” তিনি আরও জানান, দলিল লেখকদের পেশাগত মান বাড়াতে এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখতে এই নতুন কমিটি সব সময় কাজ করে যাবে।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মিরাজ হোসেনও প্রায় একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই দলিল লেখকদের সাথে সাধারণ মানুষের একটি ভালো ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি হোক। জমি বিক্রির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনেক সময় আবেগের কাজে মানুষ যেন আমাদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি জমি বিক্রি করে একটি পরিবার হয়তো ১,০০০বা২,০০০(ডলার) সমমূল্যের টাকা পায়, যা তাদের বিপদের সময়ের একমাত্র সম্বল। সেই টাকা থেকে যদি তাদের অতিরিক্ত ফি দিতে হয়, তবে তা অত্যন্ত অমানবিক। আমরা এই ধরনের প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা করব।”
শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। এই রাজস্ব আয়ের পেছনে দলিল লেখকদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে আধুনিকায়নের এই যুগে দলিল লেখার কাজেও এখন অনেক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে। নতুন কমিটি আশা করছে, তারা দলিল লেখকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। এতে করে দলিল রেজিস্ট্রির কাজ আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা এই নতুন কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও সৎ দলিল লেখক সমিতি থাকলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ভেতরের শৃঙ্খলা অনেক ভালো থাকে। তারা নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তারা যেন অফিসের ভেতরে কোনো বহিরাগত বা দালাল চক্রকে ঢুকতে না দেন। দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।
সবশেষে, নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নামও খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর তারা সাব-রেজিস্ট্রার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বসে অফিসের সার্বিক উন্নয়নে কাজ শুরু করবেন। শৈলকুপার সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে এই নতুন কমিটির দিকে, তারা দেখতে চায় সাইফুল-মিরাজ জুটির নেতৃত্বে দলিল লেখকদের এই সংগঠন কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।














