বরিয়া বাজারে পুলিশের হানা: ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি সজিব ফকির আটক

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং সমাজকে কলুষমুক্ত করতে দেশজুড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে ইয়াবার মতো ভয়ংকর মাদকের বিস্তার ঠেকাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ একটি সফল ও সাহসী অভিযান চালিয়েছে। বরিয়া বাজার এলাকা থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সজিব ফকির নামের ২৮ বছর বয়সী এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে তারা। পুলিশের এই সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মনে গভীর স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আটককৃত এই তরুণ মাদক কারবারির পুরো পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম মো. সজিব ফকির। তার পিতার নাম মোহাম্মদ ইউসুফ ফকির এবং তার গ্রামের বাড়ি বরিয়া এলাকায়। মাত্র ২৮ বছর বয়সে একজন তরুণের এমন জঘন্য মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টি এলাকার সাধারণ মানুষকে রীতিমতো অবাক ও হতাশ করেছে। এই বয়সে তার কোনো ভালো পেশায় যুক্ত থাকার কথা, কিন্তু সে টাকার লোভে জড়িয়ে পড়েছে এই মরণনেশার ব্যবসায়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আজকাল অনেক অপরাধী চক্র পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে গ্রামের এমন উঠতি বয়সী তরুণদের মাদকের বাহক বা বিক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, সাধারণ মানুষ বা পুলিশ তাদের সহজে সন্দেহ করে না।

ঘটনার দিন পুলিশের কাছে একটি অত্যন্ত গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ আসে। পুলিশ জানতে পারে যে, বরিয়া বাজারের একটি নির্জন জায়গায় একজন মাদক কারবারি ইয়াবা কেনাবেচার জন্য অবস্থান করছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান চালায়। পুলিশ সরাসরি বরিয়া বাজারে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সজিব ফকির ঘাবড়ে যান এবং পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সতর্ক পুলিশ সদস্যরা চারপাশ ঘিরে ফেলে তাকে দৌড়ে ধরে ফেলেন। এরপর তার শরীর তল্লাশি চালিয়ে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক প্রবেশ করে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দেশের গ্রামগঞ্জে ঘটা চুরি, ছিনতাই, মারামারি বা কিশোর অপরাধের প্রায় ৭০% থেকে ৮০% ঘটনার পেছনেই এই মাদকের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তরুণরা একবার গাঁজা বা ইয়াবার মতো ভয়ংকর নেশায় জড়ালে তাদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। মাদক কারবারিরা মূলত নিজেদের পকেট ভারী করতে এই সমাজকে ধ্বংস করছে। এই মাদক বিক্রির মাধ্যমে তারা হয়তো দৈনিক ৫বা১০ (ডলার) লাভ করে, কিন্তু এর বিনিময়ে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে এলাকার অসংখ্য তরুণের ভবিষ্যৎ। গ্রামের খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তানেরা অনেক সময় কৌতূহলবশত এসব মাদক সেবন শুরু করে এবং একসময় পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়ে।

মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সচ্ছল পরিবারও আজ আর্থিকভাবে পথে বসছে। একজন মাদকাসক্ত সন্তানকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে বা রিহ্যাবে পাঠাতে একটি পরিবারকে অনেক সময় ৫০০থেকে১০০০ ডলার বা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো বিশাল অঙ্ক খরচ করতে হয়। গ্রামের সাধারণ কৃষক, দিনমজুর বা মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ চিকিৎসার খরচ মেটানো ১০০% অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম হতাশা ও কান্নার মধ্যে দিন পার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সজিব ফকিরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবে, যাতে এই ১৫ পিস ইয়াবার মূল চালান কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর আসল সরবরাহকারী বা গডফাদার, সেই প্রকৃত তথ্য বের করে আনা যায়। বরিয়াকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

বরিয়া বাজারের মতো একটি জনবহুল এলাকায় এমন মাদকের আখড়া গড়ে ওঠায় স্থানীয় অভিভাবকরা এতদিন চরম আতঙ্কে দিন পার করছিলেন। কারণ, এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই এই মাদক কারবারিদের পাতা ফাঁদে পড়ে বিপথগামী হতে পারে। আজ এই মাদক কারবারি পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় অভিভাবকরা প্রশাসনকে মন থেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা পুলিশের কাছে জোর দাবি করেছেন, এই ধরনের ঝটিকা অভিযান যেন শুধু একদিনের জন্য না হয়, বরং সারা বছর ধরে নিয়মিতভাবে চলে। সাধারণ মানুষও যদি ভয় না পেয়ে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করে, তবে সমাজ থেকে এই মরণব্যাধি খুব দ্রুতই চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ