বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্ব মানেই প্রতিটি দলের জন্য এক জীবন-মরণ পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার প্রথম ধাপে দারুণভাবে ‘পাস’ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রাউন্ড অব থার্টি টু বা শেষ ৩২-এর এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের পর ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস এখন ১০০% উঁচুতে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য এবার কোয়ার্টার ফাইনাল। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে তাদের ‘পাস’ করতে হবে রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর আরও একটি কঠিন ও স্নায়ুচাপের পরীক্ষা।
বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ব্রাজিলের এই শেষ ষোলোর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জুলাই, বাংলাদেশ সময় ঠিক রাত দুইটায়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইভরিকোস্ট ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ব্রাজিলকে। এই ম্যাচে যে দল জয়ী হবে, তারাই শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পাবে। নরওয়ের গতি কিংবা আইভরিকোস্টের শারীরিক শক্তি—যেই আসুক না কেন, ব্রাজিলকে এই ম্যাচ জিততে হলে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।
এবারের বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটের কারণে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আসা সব দলেরই সম্ভাব্য পরবর্তী পথ বা রোডম্যাপ ইতিমধ্যে একদম স্পষ্ট হয়ে গেছে। শেষ ষোলোর এই কঠিন হার্ডল পার হতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের জন্য অপেক্ষা করছে আরও একটি বিশাল পরীক্ষা। সেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যামদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ইংল্যান্ড দল এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট। তাই ব্রাজিলের জন্য এই লড়াইটা মোটেই সহজ হবে না।
অবশ্য ফুটবলে কখন কী হয়, তা কেউ ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারে না। যদি কোনো কারণে ইংল্যান্ড শেষ ষোলোর লড়াইয়ে হেরে বিদায় নেয়, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো, ইকুয়েডর অথবা ডিআর কঙ্গোর মতো দলগুলোর যেকোনো একটি। এই দলগুলো হয়তো ইংল্যান্ডের মতো তারকা-সমৃদ্ধ নয়, কিন্তু টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে যেকোনো দলই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই ব্রাজিলকে প্রতিটি ম্যাচেই সমান গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামতে হবে।
কোয়ার্টার ফাইনালের এই কঠিন বাধা যদি ব্রাজিল সফলভাবে টপকে যেতে পারে, তবে সেমিফাইনালে ফুটবল বিশ্ব হয়তো এক স্বপ্নের লড়াই বা ‘সুপার ক্লাসিকো’ দেখতে পাবে। কারণ, টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এবারও দারুণ ফর্মে আছে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই লড়াই শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও এই দুই দলের সমর্থকরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুক্তির লড়াইয়ে মেতে ওঠেন।
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো এত বড় টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচ জিতলেই দলগুলো ফিফার কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ($) প্রাইজমানি পায়। শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে উঠলে এই প্রাইজমানির পরিমাণ অন্তত ২০% থেকে ৩০% করে বাড়তে থাকে। তাই শুধু শিরোপা নয়, বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও দলগুলোর জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ব্রাজিল যদি শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে তাদের সামনে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হবে।
এখন দেখার বিষয়, কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের পায়ের জাদু ব্রাজিলকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে। আগামী ৫ জুলাইয়ের ম্যাচের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ব্রাজিল দল। তাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা এবং হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।














