বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ব্রাজিল মাঠে নামবে, আর দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র বেঞ্চে বসে থাকবেন, এমন দৃশ্য ফুটবল ভক্তদের কাছে বেশ বেমানান। জাপানের বিপক্ষে নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিল যখন গোলের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করছিল, তখন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার ভক্ত-সমর্থকের চোখ বারবার যাচ্ছিল ডাগআউটের বেঞ্চের দিকে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন আর অপেক্ষা, কখন জাদুর কাঠি হাতে মাঠে নামবেন নেইমার? কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে ২-১ ব্যবধানে জেতা এই ম্যাচে আর মাঠে নামা হয়নি এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের। কেন এমনটা হলো, ম্যাচ শেষে সেই রহস্যের জট খুলেছেন স্বয়ং ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় আনচেলত্তি জানান, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ সমতায় না ফিরলে তিনি অবশ্যই নেইমারকে মাঠে নামাতেন। ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপান যখন একটি দুর্দান্ত গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখন ব্রাজিল শিবির বেশ চাপে পড়েছিল। তবে ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো দারুণ এক হেডে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। সমতা চলে আসায় আনচেলত্তি আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। তিনি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের কথা ভেবে নেইমারকে বেঞ্চে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের আর কোনো প্রয়োজনই হয়নি। কারণ, যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৯৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি অসাধারণ এক গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন।
ম্যাচ শেষে ‘কাজ’ টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি তার কৌশলের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল অতিরিক্ত সময়ে নেইমারকে মাঠে নামানোর। ওর সঙ্গে আমার এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। যদি নির্ধারিত সময়ে আমরা সমতায় ফিরতে না পারতাম, তবে ৬০ বা ৬৫ মিনিটের দিকে ওকে বাধ্য হয়েই মাঠে নামানো হতো। কিন্তু আমরা যখন গোল শোধ করে সমতায় ফিরলাম, তখন আমি আর দলের কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনতে চাইনি। কারণ, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আমাদের হাতেই ছিল এবং ছেলেরা বেশ ভালো খেলছিল।”
ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে বেশ ছন্নছাড়া মনে হচ্ছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে দলের কৌশল এবং খেলোয়াড়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন এই অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ। আর সেই পরিবর্তনগুলোই শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে এবং দলকে জয় এনে দিয়েছে। দলের শক্তিমত্তা ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, “আমাদের দলে এখন অনেক বিকল্প খেলোয়াড় আছে। বেঞ্চে যেমন দারুণ সব খেলোয়াড় আছে, মাঠেও তেমনি। ছেলেরা ব্যক্তিগতভাবে যেমন ভালো খেলছে, তেমনি দল হিসেবেও তাদের মধ্যে দারুণ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। এই সমন্বয়টাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
জাপানের বিপক্ষে পাওয়া এই কষ্টার্জিত জয়কে বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন ব্রাজিল কোচ। তিনি বলেন, “ম্যাচটি আমাদের জন্য সত্যিই খুবই কঠিন ছিল। জাপানকে হারানো কখনোই সহজ কাজ নয়। তারা অত্যন্ত গোছানো একটি দল এবং তারা মাঠে তীব্র গতিতে খেলে। এমন একটি চাপের ম্যাচ জেতা আমাদের দলের আত্মবিশ্বাসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
তবে এই আনন্দের মাঝে ব্রাজিল শিবিরের জন্য একটি দুঃসংবাদও রয়েছে। জাপানের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চোট পেয়েছেন দলের দুই ভরসা কাসেমিরো এবং লুকাস পাকেতা। আনচেলত্তি জানান, এই দুজনের শারীরিক অবস্থা ঠিক কতটা গুরুতর, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের চোটের মাত্রা বুঝতে মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং এ জন্য অন্তত আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাদের চোট যদি গুরুতর হয়, তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তা ব্রাজিলের জন্য বড় একটি ধাক্কা হতে পারে।














