মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নেত্রকোনা জেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন এবং নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) যৌথ উদ্যোগে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে শহরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি, তথ্যবহুল আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদকমুক্ত একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জেলার সর্বস্তরের মানুষ এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে এই দিবসের আনুষ্ঠানিক ও শুভ উদ্বোধন করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে সেখান থেকে একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে হাঁটেন। র্যালিটি নেত্রকোনা জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসে এবং সবাই সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় মিলিত হন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে বর্তমান সমাজে মাদকের ভয়াবহতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অত্যন্ত তথ্যবহুল একটি স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নেত্রকোনার সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক। তিনি জানান, আমাদের দেশের তরুণদের একটি বড় অংশ আজ মাদকের কারণে ধ্বংসের মুখে। প্রতি বছর দেশ থেকে অবৈধ মাদকের কারণে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ()বিদেশেপাচারহয়েযাচ্ছে।চোরাকারবারিরাখুবকমদামেতৈরিহওয়াইয়াবাবাঅন্যান্যমাদকসাধারণতরুণদেরকাছে২)বিদেশেপাচারহয়েযাচ্ছে।চোরাকারবারিরাখুবকমদামেতৈরিহওয়াইয়াবাবাঅন্যান্যমাদকসাধারণতরুণদেরকাছে২থেকে ৩$ (ডলার) বা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা লুটছে। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ১০০% নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, এটি একটি পুরো পরিবার এবং সমাজকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স বা ০% ছাড় দেওয়ার নীতির কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের শিকড় সমূলে উৎপাটন করা হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, জেলার বিভিন্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, স্কাউট ও বিএনসিসির তরুণ সদস্যরা। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরা সমাজ থেকে মাদক দূর করতে গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা সবাই একটি বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি মূলত একটি গভীর সামাজিক সমস্যা ও ব্যাধি। শুধুমাত্র পুলিশ বা প্রশাসন দিয়ে এই বিশাল সমস্যার পুরোপুরি সমাধান করা কখনোই সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন। পরিবারের বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। তারা কার সাথে মিশছে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের এই মরণফাঁদ থেকে রক্ষায় সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে একটি চমৎকার ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিবসটি উপলক্ষে আগে থেকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় (যেমন—চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কুইজ) অংশগ্রহণকারী বিজয়ী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিদের হাত থেকে পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। আয়োজকরা আশা করেন, এমন শিক্ষামূলক আয়োজনের ফলে শিশুদের মনে ছোটবেলা থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত ঘৃণা তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের একজন সুস্থ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।














